রাজনীতি

  • বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ডেভিড বার্গম্যান আসলে কী চায়?

    বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের জামাই ডেভিড বার্গম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের অর্থায়নে ‘নেত্র নিউজ’ নামে একটি অনলাইন পত্রিকা খুলেছে সে। অথচ সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা কিছু না জানা বা না মানার কারণে বাংলাদেশের দুটি পত্রিকা থেকে চাকরি হারিয়েছে সে একসময়। এমনকি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদকে নিয়ে কটুক্তি করায় আদালত তাকে শাস্তিও দিয়েছেন। এরপর বাংলাদেশ ছাড়ে সে। তবে শারীরিকভাবে বাংলাদেশ ছাড়লেও, বাংলাদেশের পিছু ছাড়েনি সে। তার কারণ, তার মতো একজন সাদা চামড়ার জাত্যাভিমানি ব্রিটিশ নাগরিককে বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার আদালতে শাস্তি পেতে হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে, এটি মেনে নিতে পারেনি সে। এছাড়া তার শ্বশুর ড. কামাল হোসেনও যেকোনো উপায়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে, শেষ বয়সে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করতে চান। জামাই-শ্বশুরের আত্মীয়তাকে ছাড়িয়ে যৌথ স্বার্থের হিসেব মেলাতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে তারা একই সরলরেখায় মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তবে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত ও আইএসআই-এর অর্থায়নে পরিচালিত বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতায় যাওয়ায় স্বপ্ন ভেঙে গেছে ড. কামাল হোসেনের। জনগণ তাকে পরিত্যাগ করেছে। কিন্তু বিকল্প উপায়ে সরকারের পতন ঘটাতে মরিয়া হয়ে আছেন তিনি। আর তার জামাই ও ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানকে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে মোটিভেট করতে এবং বিদেশি ফান্ড আনার ক্ষেত্রে ডেভিড বার্গম্যানের সাদা চামড়া এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্বকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন ড. কামাল। আর বিএনপি-জামায়াত ও আইএসআই-এর টাকায় দিন দিন ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে কিছুদিন আগেও বেকার থাকা ডেভিড বার্গম্যান। সাবেক ব্রিটিশ কলোনি হিসেবে পরিচিত এই ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে একটি হলো বর্তমান বাংলাদেশ। এই দেশের বিতর্কিত রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেনের মেয়েকে বিয়ে করে ডেভিড বার্গম্যান। তার লক্ষ্য ছিল, নিজের ব্রিটিশ প্রভাব খাটিয়ে শ্বশুরকে সামনে রেখে তৃতীয় বিশ্বের এই দেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করবে সে। এক্ষেত্রে সে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের কট্টর মৌলবাদী গ্রুপটাকে হাত করার চেষ্টা করে। কিন্তু এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কটূক্তি করায় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করা অপচেষ্টার দায়ে আদালতে দণ্ডিত হতে হয় তাকে। এদেশের আমজনতার কাছেও ধিকৃত হয় সে। ফলে রাষ্ট্রক্ষমতা উপভোগ করার স্বপ্ন ভেঙে যায় তার। এরপর এদেশের সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ডেভিড বার্গম্যান। বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর, এদেশ থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টি করে একটি চক্র হড়ে তোলে সে। সেই ধারাবাহিকতায় তার সঙ্গে যুক্ত হয় তাসনিম খলিল। দুজন মিলে গড়ে তোলে ‘নেত্র নিউজ’ নামে বাংলাদেশ বিরোধী একটি আন্ডারগ্রাউন্ড প্রচারযন্ত্র। মূলত বার্গম্যানের মাধ্যমে আমেরিকার গোয়েন্দাদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে তাসনিম খলিল। এরপর তাদের অর্থায়নে তথাকথিত এই অনলাইন চালাতে শুরু করে তারা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণাই তাদের মূল লক্ষ্য। বার্গম্যান ও তাসনিম খলিল, দুজনের কারো সাংবাদিকতা বিষয়ে লেখাপড়া নেই এবং মূল ধারার গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতাও নেই। তারপরেও আমেরিকার বেসরকারি সংস্থা এনইডি নিয়মিত মোটা অঙ্কের ডলার খরচ করে যাচ্ছে তাদের তথাকথিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের পেছনে। শুধু তাই নয়, মার্কিন গোয়েন্দাদের অর্থায়নে পরিচালিত এই ওয়েব পোর্টালটির প্রধান সম্পাদক হয়েছেন তাসনিম খলিল এবং এর ইংরেজি বিভাগের সম্পাদক হিসেবে আছেন ডেভিড বার্গম্যান। মার্কিন বেসরকারি সংস্থা এনইডি সম্পর্কে আপনারা এতোদিনে হয়তো জেনে গেছেন। এই সংস্থার মাধ্যমে আমেরিকার গোয়েন্দারা বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যম খোলার ছদ্মবেশে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এক্ষেত্রে তারা সেই দেশের বিভিন্ন ব্যক্তিকেই মোটা অঙ্কের অর্থ দেয় এবং তাদের সামনে রেখেই নিজেদের মিশন পরিচালনা করে। ১৯৯০ সালে নিকারাগুয়াতে পরিচালিত মার্কিন গোয়েন্দাদের তৎপরতার পর, এই পদ্ধতিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের সবচেয়ে সফল অপারেশন ছিল ইউক্রেনের সরকার উৎখাতে। ২০১৩-১৪ সালে ইউক্রেনের ইউরো-ময়দান (কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কয়ার) গণবিপ্লবের ছদ্মবেশে সরকার উৎখাত করে তারা। ঠিক একই স্টাইলে কিছুদিন আগে থেকে বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক-ইউটিউবে উস্কানি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে শুরু করে এই চক্রটি। শুধু আন্ডারগ্রাউন্ড নিউজপেপারে গুজব ছড়িয়েই থেমে নেই ষড়যন্ত্রকারীরা। ইউটিউবার কনোক সারোয়ার, চাকরিচ্যুত কর্নেল শহীদ উদ্দীন খান, মেজর দেলোয়ার, শহীদুল আলম, মাহমুদুর রহমানরাও ইউক্রেনের ইউরো-ময়দান স্টাইলের প্রচারণা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে অনলাইনজুড়ে সরকারবিরোদী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনোভাবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হলে, তারা বিএনপি-জামায়াত ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীদের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দিয়ে, এই দেশকে আফগানিস্তান স্টাইলে একটি জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
  • জিয়া যেমন খালেদাকে বেল্ট দিয়ে পেটাতেন, তারেকও বাবার মতো জোবায়দাকে মারধর করে

    জুয়ায় হেরে একটি বারে মদ খেয়ে মদ্যপ অবস্থায় তারেক বাসায় গিয়েই হইচই শুরু করেন।আরো রাগান্বিত হন যখন জানতে পারেন, বড় মেয়ে জাইমা রহমান গভীর রাতে বন্ধুদের সাথে বারে আড্ডা দিতে গেছেন।পরবর্তীতে স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে এর জন্য জবাব দিতে বললে উল্টো জোবায়দা তারেককে মদপান, জুয়া ও মাতলামি করার জন্য তিরস্কার করেন। তর্কাতর্কির একা পর্যায়ে মাতাল তারেক কোমরের বেল্ট খুলে বেদম প্রহার করেন। স্বৈরশাসক জিয়া যেমন খালেদাকে বেল্ট দিয়ে পেটাতেন, তারেকও বাবার কৌশল অবলম্বন করে জোবায়দাকে মারধর করেন। মধ্যরাতে তাদের পারিবারিক কলহ, উচ্চস্বরে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দে বাঙালি প্রতিবেশীরা বিরক্তি প্রকাশ করেন। জানা গেছে তাদের এমন প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত প্রতিবেশীরাও।
  • ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সাথে বিএনপির সখ্যতা

    IDU সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে? IDU হচ্ছে International Democratic Union নামের একটি সংগঠন যেটি ১৯৮৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে। আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টি, ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ইসরায়েলের লিকুদ পার্টি, জার্মানীর ‘ক্রিস্টিয়ান স্যোশাল ইউনিয়ন ইন বাভারিয়া’ সহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলো নিয়ে এ সংগঠনটির যাত্রা। এ সংগঠনের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)’। অঞ্চলভিত্তিক IDU এর কয়েকটি শাখা সংগঠন রয়েছে। যেগুলা IDU এর মটো বাস্তবায়ন করে। এমন একটি শাখা সংগঠন হচ্ছে APDU (Asia-Pacific Democratic Union)। ২০১৯ সালে এটির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। সুতরাং এই জোটের মাধ্যমে সেই ১৯৮০র দশক থেকেই মূলত বিজেপির সাথে বিএনপির সখ্যতা। বিশ্বাস না হলে গুগলে জোটটির নাম সার্চ দিয়ে দেখেন, উইকিপিডিয়া ও তাদের ওয়েবসাইটসহ মির্জা ফখরুলের ভাইস-চেয়ারম্যান হওয়ার খবর পেয়ে যাবেন।
  • রোজিনা ইসলামের সরকারী তথ্য হস্তগত করার দায় স্বীকার ও কিছু প্রশ্ন

    ১৭ মে ২০২১ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মহোদয়ের একান্ত সচিবের অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে প্রথম আলো পত্রিকার সিনিয়র অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম প্রবেশ করে সরকারী মূল্যবান গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি বা ডকুমেন্টসের ছবি মোবাইলে ধারণ করেন বলে অভিযুক্ত হয়েছেন যা আইনত দন্ডনীয়। জানা যায়,স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ঐ কক্ষে রোজীনা ইসলাম যখন কাগজপত্রাদি হস্তগত ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস এর ছবি তুলছিলেন তখন সচিব মহোদয়ের দপ্তরে কর্মরত পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান দেখতে পান এবং তাকে বাধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেসা, উপসচিব জাকিয়া পারভীন, সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন সুলতানা, সচিবের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম ভুইয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্টাফ ঘটনাস্থলে আসলে অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম রোজীনাকে তল্লাশী করে তার কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং ডকুমেন্টস এর ছবি সম্বলিত মোবাইল উদ্ধার করেন। ঐসময় রোজীনা ইসলাম বারবার স্বীকার করেন যে, তিনি ভুল করেছেন এবং উক্ত ভুলের জন্য তিনি মুচলেকা দিয়ে মুক্ত হতে চান এবং স্বাস্থ্য সচিবের কাছে মাফ চান, যা ফাঁস হওয়া হওয়া একটি ভিডিওতে আমরা দেখতে পাই…. উল্লেখ্য এর পূর্বেও রোজিনা ইসলাম রাষ্ট্রীয় নথি চুরি করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও তেঃ
  • চীনা রাষ্ট্রদূতের বেফাঁস মন্তব্য, নেপথ্যে প্রথম আলোর পাকিস্তান সংযোগ!

    চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। সোমবার (১০ মে) লি জিমিং বলেছেন- যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের জোট ‘কোয়াড’-এ যোগদান করলে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হবে। এর জবাবে, পরেরদিন মঙ্গলবার (১১ মে) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন- এ ধরনের মন্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত, বাংলাদেশ কী করবে সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নেবে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লষেকরা বলছেন- বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক থাকায় তা বিশেষ একটি রাষ্ট্র সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা তাদের বাংলাদেশি এজেন্টদের কাজে লাগিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে খারাপ করার চেষ্টা করছে। সেই অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই তারা চীনের রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। মূলত, সোমবার (১৩ মে) ঢাকার কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাব-এর সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময়ের অংশ নেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ডিক্যাব-এর দুই-তিন মাস পরপর নিয়মিতভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে থাকে। সম্প্রতি দেশে করোনা ভ্যাকসিনের সংকট সৃষ্টি এবং চীন থেকে ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করে ডিক্যাব। সেখানেই ইস্যুর বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহীদ এজাজ। তিনি প্রশ্ন করেন, গত মাসে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সেসময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কোয়াড এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি এই অঞ্চলে তাদের প্রভাববলয়ের বাইরে নতুন ক্ষমতার বলয় তৈরি করতে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের সহযোগিতাও চেয়েছেন। কিন্তু এর জবাবে বাংলাদেশ চীনকে কী বলেছে সেটি সম্পর্কে জানতে চাই। এটি আমার প্রথম প্রশ্ন। এছাড়া আরো একটি প্রশ্ন আছে আমার, সেটি হলো- ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অধীনে আরো কোনো মেগা প্রজেক্টে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা আছে কিনা? এই প্রশ্নের কোয়াড প্রসঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ কোয়াড-এ যুক্ত হলে তা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে।’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের বিষয়টিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। পরেরদিন তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিই৷ আর কোনো ডিফেন্স প্যাক্ট-এ আমাদের যোগদানের কোনো আগ্রহ নেই৷ আমরা কোনো আঞ্চলিক সামরিক জোটে যুক্ত নই৷ আমাদের নীতি হলো সবার সাথে বন্ধুত্ব৷ কারুর সাথে শত্রুতা নয়৷ তবে চীনের এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ঠিক করবে কো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী করবে।’ তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহীদ এজাজের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মূলত একইসঙ্গে প্রতিবেশী ভারত ও চীন এবং সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সমান সুসম্পর্ককে সহ্য করতে পারছিল না পাকিস্তান। তারমধ্যে ভারতের পর চীনও বাংলাদেশকে করোনার ভ্যাকসিন দিতে সম্মত হওয়ায় সেটাও ভালো লাগছে না পাকিস্তানের। তাই এই মহামারির মধ্যে কোয়াড সম্পর্কে কোনো আলোচনা বা উদ্যোগ না থাকলেও, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যায় ফেলার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই প্রসঙ্গটি তোলার পরিকল্পনা করে। একারণে, বাংলাদেশে পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আওরঙ্গজেব হারালের নির্দেশনা অনুসারে, প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহীদ এজাজ এটি বাস্তবায়ন করেছে। অপ্রাসঙ্গিকভাবে কোয়াড-ইস্যুকে সামনে এনে বাংলাদেশের মানুষের জন্য চীন থেকে করোনার ভ্যাকসিন আনার যে সম্ভাবনা, এবং বাংলাদেশে চীনের মেগাপ্রজেক্টগুলো নষ্ট করার একটি উদ্যোগ এটি। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অবনতি ঘটানোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অসময়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রথম আলোর এই সাংবাদিক। উল্লেখ্য যে, কোয়াড্রালেটারাল সিকিউিরিটি ডায়ালগ (কোয়াড)-এ চার সদস্য রয়েছে। তারা হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত। ২০০৭ সাল থেকে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌপথে চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ রাখার উপায় খুঁজতে এই জোট কাজ শুরু করে৷ তবে এটি চীনবিরোধী সামরিক জোট হিসেবেই কাজ করছে বলে অভিযোগ চীনের। এদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও, বাংলাদেশ যে কোয়াডে যুক্ত হবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা কোনো তৎপরতা এখনো নেই। এমনকি কোয়াডভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • তারেকের আরাম-আয়েশ এর জীবন এর ওপর ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া, নারাজ লন্ডনে চিকিৎসা নিতে

    বিএনপি এর নেতাদের সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, পারিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘পিনুর (তারেক রহমান) কারণে আজ আমার এই অবস্থা। আমার দল বিএনপি নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করে। পিনুর ‘হাওয়া ভবন’ আর ‘দুর্নীতি’র কারণেই দলের ভিতর এত ভাঙ্গন’। সূত্রে আরো জানা যায়, নিজের মা’কে দেখতে না আসায়, ছেলে তারেক রহমানের উপর রাগ রয়েছে খালেদার। তার ভাই কোকোর মৃ’ত্যুর সময়ও তারেক আসেনি জেল খাটার ভয়ে। খুব দুঃখ করে খালেদা বলেছেন, ‘আমি আমা’র শেষ জীবনে রাজনীতির জন্য দলের জন্য জেল খাটি আর আমার সুস্থ-সামর্থ্য ছেলে আয়েসি জীবন যাপন করছে। বিএনপির লন্ডনের নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া লন্ডনে তার পুত্র তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে থাকতে ও সেখানেই চিকিৎসা নিতে পছন্দ করছেন না। কিন্তু পরিবার ও দলের সিনিয়র নেতাদের পছন্দ লন্ডন। শুনেছি তার ছেলের উপর নাকি খুব বিরক্ত ম্যাডাম।
  • খালেদা জিয়ার নতুন জন্মদিন নিয়ে নিরব বিএনপি

    বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি দীর্ঘদিনের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের দিন ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে সমালোচিত তিনি। বিভ্রান্তি আর সমালোচনার মধ্যে যোগ হয়েছে আরেকটি জন্মদিন, ৮ মে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন অবশেষে খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে চাননি বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ১৫ আগষ্ট জাতির পিতার হত্যাকান্ডের দিন খালেদা জিয়া ঘটা করে জন্মদিন পালন করে আসছিলেন। এ নিয়ে আছে সমালোচিত তিনি। বেগম খালেদা জিয়ার এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। ১৯৯১ সালে বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবার পর তৎকালীন সরকারি পত্রিকা দৈনিক বাংলাতে তাঁর জীবনী প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল জন্মদিন ১৯ আগস্ট ১৯৪৫। কাবিন নামায় ১ বছর বাড়িয়ে লেখা আছে ৪ আগস্ট ১৯৪৪। এদিকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে আবার দুই বছর কমিয়ে জন্মদিন উল্লেখ করা হয়েছে ৫ আগষ্ট ১৯৪৬। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
  • বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের ক্ষমতায় আনতে সুশীলদের পরিকল্পনা

    বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে লন্ডন থেকে দেশের বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে গত সপ্তাহে অনলাইনে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এরমধ্যেই তথাকথিত ফেরারি সাংবাদিক তাসনিম খলিলের সঙ্গেও অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদুল হক। সেখানে তাসনিম জানান- তিনি নেত্র নিউজ নামে যে অনলাইন সম্পাদনা করেন, সেটির অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নয়মূলক বেসরকারি সংস্থা এনইডি। এই আলোচনার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা ছিল যে, তাসনিম খলিল মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন এবং নেত্র নিউজ একটি মুক্ত কন্ঠস্বর। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই এই গোমড় ফাঁস হয়ে যায়। 

    অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়, এনইডি নামের ওই সংস্থাটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার একটি আন্ডারকাভার প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কোনো দেশের সরকার উৎখাতের জন্য তথাকথিক কিছু সুশীল সমাজ ও অনলাইনের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে কোটি কোটি ডলার অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। অনুসন্ধানে এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর নতুন করে অনেকগুলো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের উত্তর এখনো জানা যায়নি। তা হলো- হেফাজতের যে উগ্রবাদীরা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করেছিল, তাদেরকে তথাকথিত সুশীলদের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য কীভাবে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র?

    তাই যেকোনো বিপদ এড়াতে, আবারো আরেকটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। সেই বৈঠক থেকে, সরকার উৎখাতের প্রক্রিয়ায় যুক্ত বাংলাদেশি অংশের বুদ্ধিজীবীদের এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। কারণ, যেহেতু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে, এখন এই প্রশ্নের সময়োপযুগী একটা জবাব দিতে না পারলে ওয়াশিংটন থেকে আসা কাড়ি কাড়ি টাকা আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি তারেক রহমান এ বিষয়ে ওয়েবিনারে আলোচনা করেন ড. কামালের জামাই ডেভিড বার্গম্যান, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আলী রিয়াজ, বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা মেশিন তাসনিম খলিলের সাথে।

    বৈঠকে এনইডি-এর নাম প্রকাশ করায় তাসনিম খলিলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারেক। এটিকে বড় ভুল বলে অভিহিত করেন তিনি। তবে তাসনিম খলিল ভুল স্বীকার না করে উল্টো জানান- এনইডি বিশ্বব্যাপী উন্নয়নমূলক সংস্থা হিসেবেই পরিচিত, এই সংস্থার নাম উল্লেখ করে ‘নেত্র নিউজ’কে গণতন্ত্রের পক্ষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্ত মার্কিন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের বিশেষায়িত ইংরেজি গ্রন্থগুলো বিশ্লেষণ করে কোনো বাংলাদেশি যে এনইডি সম্পর্কে আন্ডারকাভার তথ্য বের কর ফেলবে তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। এসময় চোখে মুখেও বিস্ময় ফুটে ওঠে তাসনিম খলিলের। এই বৈঠকের আলোচনার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

    ডেভিড বার্গম্যান: তাসনিম খলিল, তুমি সব শেষ করে দিলা। কে তোমাকে পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এসইডি)-এর নাম বলতে বলেছিল! ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ মিস্টার দাসগুপ্ত তো সব গোপন তথ্য বের করে ফেললো এখন। এটা আর গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নাই। এনইডি-যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করে এই বিষয়ে তিনি সব তথ্য-প্রমাণ সব প্রকাশ করে দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অখ্যাত অধ্যাপকের সঙ্গে লোকভুলানো বাজে আলাপের মধ্যে ক্লাসিফায়েড তথ্য দিয়ে সব নষ্ট করে দিলা তুমি।

    তাসনিম খলিল: আমি জানি এরা মার্কিন সরকারের স্বার্থে কাজ করার জন্য অর্থ দিচ্ছে, কিন্তু গোয়েন্দাদের অপারেশনের কথা জানতাম না।

    বার্গম্যান: আরে ভাই, না জানলে চুপ থাকো, বেশি কথা বলো কেনো।

    তাসনিম: বাংলাদেশের একজন শীর্ষ গোয়েন্দার বাবা এবং আমি একসাথে কিছুদিন কাজ করেছি, আমাকে মূলত তিনিই সব বিষয়ে গাইড করে করে গড়ে তুলেছেন, আমার আজকের অবস্থানের পেছনে তার অবদান অনেক। যাই হোক, তিনিই আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, আমাদের যে ভালো অর্থায়ন আছে, আমরা যে গণমাধ্যমের বিকাশে তা দিয়ে কাজ করছি, এ বিষয়ে লোকজনকে তথ্য দিতে। তাহলে মানুষ আমাদের কথা আরো বেশি বিশ্বাস করতো।

    বার্গম্যান: শিট! এই গন্ডমূর্খটা কে! গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লোকজন কীভাবে এতো স্টুপিড হয়! একজন ব্রিটিশ নীরবে কাজ করতে পছন্দ করে, তোমরা ব্রিটিশদের সঙ্গে কাজ করার জন্য খুবই আনফিট।

    আলী রিয়াজ: ডেভিড ঠিক বলেছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সময় তুমি সাবধান থাকবা তাসনিম। আমাকে দেখো। কতো নীরব থাকি। চুপচাপ নিজের কাজ করে যাচ্ছি। অ্যাকাডেমিকভাবে আমি বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করি। এই সরকারকে আমি ‘হাউব্রিড রেজিম’ কৌশলে নেতিবাচকভাবে রেপ্রিজেন্ট করি। শোনো, বড় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বুদ্ধি লাগে তাসনিম। অযথা কথা কম বলো।

    তাসনিম: স্যার শোনেন, আপনি তো সাংবাদিকতা বোঝেন না। ‘হাইব্রিড রেজিম’ বলে আওয়ামী লীগকে আপনি যে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটা তো আসলে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আগে থেকেই ট্যাগ হয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াতকে আগে থেকেই হাইব্রিড বলে জানে। এটা তো নতুন কোনো আইডিয়া না। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে এবং এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনাগুলো নস্যাৎতে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের এজেন্ডা মতো চলে তারা। এই বিষয়ে বাংলাদেশের মেটামুটি সচেতন মানুষ যারা, তারা সবাই জানে। বিএনপিকে সবাই হাইব্রিড বলেই ডাকে। বিএনপির পরিচয়ই এটা।

    বার্গম্যান: ওহ তাসনিম! তুমি এতো বেশি কথা বলো কেনো! এতো বোকা কেনো তুমি! মিস্টার আলী রিয়াজ অসাধারণ একটা কাজ করেছে, তুমি মূল জায়গাটা বোঝো নাই। বিএনপির জন্য যে অপবাদটা আছে, সেটাকে আলী রিয়াজ আওয়ামী লীগের ওপর ট্যাগ করে দিচ্ছেন। কোনো সাড়া শব্দ নাই। জাস্ট অ্যাকাডেমিক প্রক্রিয়ায় একটা বড় উদ্দেশ্য সাধন করে ফেলেছেন মিস্টার রিয়াজ। দুর্দান্ত গুগলি খেলেছেন উনি।

    তাসনিম: ডেভিড, প্লিজ, আমাকে বলতে দাও। এই গুগলি কিন্তু কাজ করে নাই। কারণ সব গণমাধ্যমই আসলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রকৃত তথ্যগুলো তুলে ধরেছে। রিয়াজ ভাইয়ের এসব অ্যাকাডেমিক ভুংভাং কোনো কাজে লাগে নাই। উনি আসলে ওভার রেটেড। এখন যে আমাদের সঙ্গে উগ্রবাদীদের সম্পৃক্ততার তথ্য ফাঁস হয়ে গেলো, সেটা সামলাবেন কীভাবে। উনি কী পারবে এটা সামলাতে!

    বার্গম্যান: জাস্ট শাট আপ, তাসনিম তুমি আসলেই খুব বোকা। তোমার মতো একটা লোককে নিয়ে আমরা কাজ করতেসি, ভাবতে লজ্জা হয়। আমার জানা মতে, আলী রিয়াজই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি প্রচণ্ড নিভৃতে এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করতে পারেন। কিন্তু ওই ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম কোনো কাজেরই না। হেফাজত ইস্যুতে কোনো কাজে লাগবে না সে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা সম্প্রতি হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তারপর সেসব তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে। সেখানেই জানা যায়, ঢাকায় মার্কিন ও ভারতীয় দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা ছিল হেফাজতের। এই তথ্য জানার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সদর দফতরের লোকরাও চমকে গেছে, তারা খুব আপসেট এটা নিয়ে। সেখানে দক্ষিণ এশীয়ার কয়েকজন বিশ্লেষক এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা জানতে চান- যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর হামলা করতে চায়, তাদের পেছনে কেনো কোটি কোটি টাকা খরচ করছে গোয়েন্দা সংস্থা!!

    তাসনিম: হুম, শহীদুল কোনো কাজের না! আমি কোনো কাজের না! আমরা সবাই বোকা! তাহলে কাজগুলো যে হচ্ছে, সেগুলো করছে কে? শুধু আপনি আর রিয়াজ ভাই করছেন? তারেক ভাই কিন্তু এর আগেও বলেছেন যে, আপনাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে দিতে উনি ক্লান্ত! আমরাতো অতো টাকা নষ্ট করি না!

    বার্গম্যান: মিস্টার তারেকের উচিত আমার শ্বশুরকে ব্যবহার করা। আমার শ্বশুর ড. কামাল একজন ভালো আইনজীবী। বাংলাদেশের গত নির্বাচনে উনি বিএনপি-জামায়াত জোটের সমন্বয়ক ছিলেন। তাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকারে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত তারেক রহমানের। উনি তা না করে, দাড়িঅলা ভণ্ড কিছু হুজুরকে ব্যববহার করে ক্ষমতা দখল করতে চান। অথচ দেশজুড়ে এই ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে গেছে। এরা নারী ধর্ষণ এবং শিশু বলাৎকারে ব্যস্ত থাকে সবসময়। একের পর এক এসব ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ছে এখন। আমাদের কিছু বুদ্ধিমান লোক দরকার, যারা রাজনীতির গতিবিধি নির্ধারণ করতে পারেন। এদের মতো ভণ্ডদের দিয়ে কিছু হবে না, এদের মাথায় বুদ্ধি নাই, এদের বুদ্ধি অন্য জায়গায়!!

    রিয়াজ: এটা পুরোপুরি ঠিক না ডেভিড। বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচার এরশাদের অনেক বড় হেরেম ছিল। তারপরও তার বুদ্ধি মাথাতেই ছিল। জীবন ভোগ করেও উনি দীর্ঘমেয়াদে শাসন করে গেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও নিয়মিত রাজনীতি করেছেন। যেখানে জেনারেল সুহার্তো, পারভেজ মোশাররফ, ইদি আমিন, এন্জো ডিয়েনের মতো একনায়করা পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি আমাদের তারেক রহমানও যা পারেননি, এরশাদ নারী নিয়ে থেকেও কিন্তু তাই সফলভাবে পেরেছেন।

    বার্গম্যান: এরশাদ একজন রিয়েল পিস ছিল। একসাথে ভারত-পাকিস্তান-চীন সবাইকে ম্যানেজ করে রাখতো। নারীদের কাজে লাগিয়েছে সে এসব ক্ষেত্রে। সে তো বিদেশি হুইস্কি খেতো, কবিতা লিখতো! এজন্যই এসব পেরেছে। একারণেই বলছি, আমার শ্বশুর ড. কামালই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। এসব মূর্খ হুজুররা কোনো কাজের না, এরা নারী সামনে বিদ্বেষী, ভেতরে আবার নারী নিয়ে পড়ে থাকে সারাদিন। নারীরা এদের ঘৃণা করে। আর বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যাই নারী! আর বাঙালিরা রাজনীতির মধ্যে ধর্ম পছন্দ করে না। সীমান্তের ওপারেই দেখেন, পশ্চিমবঙ্গে একজন নারী নেত্রী কীভাবে প্রাদেশিক নির্বাচনে মোদীর মতো শক্তিশালী নেতার দলকে হারিয়ে দিলো।

    রিয়াজ: বাঙালি নারীরা অনেক বুদ্ধিমান। এদের বোঝা কঠিন। হাসিনা, মমতা, মহুয়া… অনেক উদাহরণ আছে এমন…।

    বার্গম্যান: আমার নিজের অভিজ্ঞতাও তাই বলে রিয়াজ ভাই। এই উগ্রবাদীদের বিকল্প খুঁজতে হবে আমাদের। এদের সাথে আর প্রকাশ্যে কোনো সংযোগ রাখা যাবে না। তাহলে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র এবং সিআইএ-এর হেড অফিস একটু রিল্যাক্সে কাজ করবে আমাদের সাথে।

    রিয়াজ: আমি দেখছি ব্যাপারটা।

  • মধ্যবিত্তের আবেগ নিয়ে খেলেছে নুর, ক্ষুব্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আবেগকে পুঁজি করে ডাকসু নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন নুরুল হক নুর। কিন্তু এরপর থেকেই ভোল বদলে গেছে তার। সীমাহীন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস, দ্রুত ক্ষমতাবান হওয়া মোহ, অর্থ-বিত্তের লোভ- প্রভৃতি কারণে তিনি এখন ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্রবাদীদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। এর আগেও, ডাকসুর ভিপি হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশ কাটিয়ে শুধু নিজের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ডাকসু ভবনে বসতেন তিনি। সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানিত্বের বিষয়ে নুরের ফতোয়া দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ এপ্রিল, ফেসবুক লাইভে দেওয়া ভিডিও বক্তব্য নুর বলেন, ‘কোনো মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না, যারা আওয়ামী লীগ করে তারা চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, চিটার, বাটপার। প্রকৃত কোনো মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না। এদের কোনো ঈমান নাই। শুক্রবার একদিন নামাজ পড়তে যাবে, আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোনো খবর নাই।’ নুরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলভী খান বলেন, ‘বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য নুর মরিয়া হয়ে গেছে। খেয়াল করে দেখবেন- সে মাঝে মাঝে মানুষের অধিকারের কথা বলে। কিন্তু হেফাজত-জামায়াতের রগকাটা রাজনীতি, কওমি মাদ্রাসার বলাৎকার, শিশু নির্যাতন, এসব নিয়ে কিন্তু কখনো মুখ খোলে না। ডাকসুর ভিপি নির্বাচনের সময় তাকে ভোট দেওয়ার জন্য আমি লজ্জিত।’ আরেক শিক্ষার্থী নয়ন আহমেদ বলেন, ‘ফেসবুক লাইভে এসে মিথ্যা নাটক করে, মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে নুর। যেহেতু সে ডাকসু ভিপি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তার একটা পরিচিতি আছে। তার বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যে মফস্বল এলাকার তরুণরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে মৌলবাদের উত্থানে তার এই ভূমিকা খুব ন্যাক্কারজনক। কোটা আন্দোলনের সময়ও এবি সিদ্দিকী মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল নুর। এখন সে ধর্ম নিয়ে খেলছে। একবিংশ শতাব্দির একজন ডাকসু নেতা ফতোয়া দিচ্ছে, ধর্মান্ধ-উগ্রবাদীদের পক্ষে কথা বলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা কলংকিত অধ্যায়। নুরের এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ডাকসু নিয়েও এখন লোকজন হাসাহাসি করে।’ নুরের উত্থান সম্পর্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামিম মুনতাসির বলেছেন, ‘ক্যাম্পাসে তখন কোনো সক্রিয় বিরোধীদল ছিল না। দীর্ঘদিন ধরেই কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলছিল। তখন নুরও সেই আন্দোলনে যোগ দেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভুলের কারণে নুর দ্রুতই কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফোকাসে চলে আসেন। মূলত সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের হাতে মার খাওয়ার পর, সেটা নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন লাইভ করে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন নুর। যার ফলে তার প্রতি সবার মনে সিমপ্যাথি সৃষ্টি হয়। এরমধ্যেই ডাকসু নির্বাচন হলো। শিক্ষার্থীদের সিমপ্যাথির ভোটে জিতে গেলো নুর।’ রেদওয়ান খন্দকার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা মুক্তপ্রাঙ্গণ। এখানে কট্টরপন্থী, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, এদের কোনো স্থান নাই। এখানকার অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের। নিরাপদ সমাজের স্বপ্ন দেখে সবাই। একারণে একটা প্রতিবাদী সেন্টিমেন্ট কাজ করে এখানকার শিক্ষার্থীদের মনে। ভিপি নির্বাচনের সময় ঠিক এই আবেগটাকেই কাজে লাগিয়েছিল নুর। কিন্তু এখন তার যে জঙ্গিবাদী রূপ প্রকাশ হয়ে পড়ছে; এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও মধ্যবিত্তের চেতনার পরিপন্থী। আমরা যারা নুরকে ভোট দিয়েছিলাম, তার মৌলবাদী তৎপরতার কারণে সবাই এখন অনুতপ্ত।’ নুরের বিষয়ে লজ্জা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীও। তারা বলেন, ”নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ফেসবুকে লাইভ করে মানুষের সিমপ্যাথি আদায়ের চেষ্টা করেন নুর। এটা তার পুরাতন টেকনিক। ফেসবুকের লাইভ করতে গিয়ে গুজবও ছড়িয়েছেন তিনি বেশ কয়েকবার। এমনকি ভিপি থাকার সময় বনানীর বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুধু সেলফি তুলতেই সেখানে গিয়েছিলেন নুর। ভবনে যখন অগ্নিদগ্ধ মানুষের আহাজারি চলছিল, সবাই উদ্ধার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন, তখনও হাসিমুখে সেই অগ্নিকাণ্ডের সেলফি তুলে সমালোচনার শিকার হন নুর। তবে সম্প্রতি ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্রবাদীদের মুখপাত্র হয়ে যেভাবে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা শিক্ষার্থীর লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে বিকশিত করার জায়গা, সেই প্রতিষ্ঠানের ভিপি হিসেবে নুরের কর্মকাণ্ড ‘বিলো দ্যা স্টান্ডার্ড’। ডাকসু ভিপি পদটাকে কলঙ্কিত করেছেন নুর।” নুরের প্রতি মোহভঙ্গের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরো জানান, যেহেতু সবার একটা সিমপ্যাথি ছিল নুরের প্রতি, তাই সবার ধারণা ছিল- গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে নুর হয়তো শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হবেন। কিন্তু ভিপি হওয়ার পরেই নুরের আসল চেহারা বের হয়ে যায়। তিনি নিজের রাজনৈতিক দল সৃষ্টির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি নিজের প্রয়োজন ছাড়া আর কখনো সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। যখন নিজের স্বার্থের জন্য লোকজন দরকার হতো, তখন ফেসবুক লাইভ করে কখনো সিমপ্যাথি বা কখনো উস্কানি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জন্য ডাকতেন। এমনকি বিকাশ-রকেট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত গণচাঁদা চান তিনি। আন্দোলনের কথা বলে প্রবাসীদের কাছ থেকেও ফরেন কারেন্সি নিতেন নুর। সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভোটে নুরকে ভিপি নির্বাচিত করার পর, এখন তারাই নুরের ভিপি পরিচয় নিয়ে বিব্রতবোধ করছেন। নুরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড একজন ডাকসু নেতার স্টান্ডার্ড এবং বাংলাদেশের আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান বলেও মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। নুরকে ভোট দিয়েছেন এমন একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দেশজুড়ে যখন হেফাজত ও জামায়াত-শিবিরের দুর্বত্তরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়, নুর তখন তাদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেন, এটা খুব দুঃখজনক ব্যাপার। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দিচ্ছে হেফাজতের ধর্মব্যবসায়ীরা, অথচ নুর তাদের মুখপাত্র হিসেবে ভোটব্যাংক গোছানোর পাঁয়তারা করছে। এভাবে কয়টা ভোট পাবে নুর? নুর মধ্যবিত্তের আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি এখন ফতোয়াবাজ, জঙ্গিবাদী ও ধর্মব্যবসায়ীদের দলে ভিড়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ধর্মব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। এদের মুখোশ আপনাআপনি খুলে যায়।’ প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০দিন ধরে উৎসবের আয়োজন করা হয়। এসময় প্রতিবেশী দেশের সরকার প্রধানরা বাংলাদেশ সফরে আসেন। বিশ্বনেতারা অনলাইনে ভিডিও ও লিখিত বার্তা পাঠান। কিন্তু এই উদযাপন পণ্ড করার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ বিক্ষোভের ডাক দেয় নুরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ। তাদের ডাকা কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয় বিএনপি-জামায়াত জোটভুক্ত দল জমিয়তের যুব নেতা এবং বিতর্কিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানী। এরপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। যার জের ধরে ২৬ মার্চ মহান বিজয় দিবসের ঢাকা শহরে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করে হেফাজতে ইসলাম। জুমার নামাজের পর মোনাজাত শেষ হওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররম মসজিদে হাঙ্গামা শুরু করে তারা। সাধারণ মুসল্লিদের উস্কি দিয়ে নাশকতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এই ধর্মব্যবসায়ীরা। কিন্তু দেশে অনেক বিদেশি রাষ্ট্রের অতিথি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর তিন দিনব্যাপী চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঠে নামিয়ে নাশকতা চালায় তারা। এসময় তাদের এসব কাজে উৎসাহ দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন সাবেক ভিপি নুর এবং রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। পরবর্তীতে হেফাজতের দুর্বৃত্তায়ন থামাতে শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নাশকতায় জড়িত হেফাজতের উগ্রবাদীদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করলে আবারো সক্রিয় হন নুর। সহিংসতা উস্কে দিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট ও হেফাজত নেতা মামুনুল হক। সেই পরিবারগুলোতে যখন শোকের মাতম চলছিল, ঠিক সেই সময় নারীসঙ্গ উপভোগ করতে মামুনুল হক চলে যান নারায়ণগঞ্জের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে। সেখানে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে তথ্য-প্রমাণসহ প্রকাশ্য হয়ে পড়ে ভণ্ডপীর ও রাজাকারপুত্র মামুনুল হকের একাধিক নারী কেলেংকারীর ঘটনা। কিন্তু নুর এই বিষয়টিকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ফেসবুক লাইভ করে। তিনি পুরো বিষয়টি সরকারের ষড়যন্ত্র বলে গুজব ছড়ান। কিন্তু বেশ কয়েকদিন পর মামুনুল হক নিজে লাইভে এসে ইনিয়ে বিনিয়ে দায় স্বীকার করলে দেশবাসীর কাছে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে পড়ে। ফলে নুরের কথার গুরুত্ব হারিয়ে যায়, গুজব ছড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কিন্তু এরপর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নুর। ১৪ এপ্রিল তিনি ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দেন- ‘কোনো প্রকৃত মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না।’ এর আগে, হেফাজত নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফতোয়া দিয়ে বলেছিল- ‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ সবাই কাফের।’ ঠিক একই পথ ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য করেন নুর। এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত বলেন, ‘ডাকসু নেতা মানে কিন্তু একটা ওয়েট ছিল, সেটা যে দলেরই হোক। মানুষ কিন্তু সেই হিসেব করেই নুরকে গুরুত্ব দিতো। কিন্তু নুর এই জায়গাটাকে নষ্ট করে ফেলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডাকসু, ডাকসুর ভিপি, এই জায়গাগুলাতেই হাস্যকর বানিয়ে ফেলেছে সে। তার যে কাজকর্ম, তা কোনো বিবেকবান মানুষ করতে পারে কিনা জানি না! নুরু যে ধর্মের ট্রাম্পকার্ড খেলতে চাচ্ছে, এসব পাকিস্তান আমল থেকে চলছে। সাধারণ মানুষ এসব ফাটকাবাজি বোঝে। জাস্ট কারো কারো বুঝতে একটু বেশি সময় লাগে, এই আর কী। খেয়াল করে দেখবেন, নুরের গ্রহণযোগ্যতা কিন্তু আগের মতো নাই। যেভাবে হুট করে তাকে লোকজন মাথায় তুলেছিল, সেভাবেই তাকে ছুড়ে ফেলে দেবে। সাধারণ মানুষ বোকা না রে ভাই।’
  • হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর সাথে কর্তৃপক্ষের একটি কাল্পনিক আলোচনা

    জিহাদী- কেমন আছেন ভাই সাহেব? পত্রিকায় আপনাকে দেখলে বড়ই সৌন্দর্য লাগে। কর্তৃপক্ষ- থ্যাংকিউ। তবে বাসায় না এসে কোন রিসোর্ট হলেও মন্দ হতো না। জিহাদী- ভাই নেক্সট টাইম। ‘জান্নাতে মামুন’ এখন আপনাদের কাছেই তো আছেন। তো তাকে ধরে আপনার শখের খামার কি আরো বড় করার ইচ্ছে আছে? কর্তৃপক্ষ- দেশবাসীরর মতোন তা একটু ইচ্ছে তো আমাদেরও আছে। দু’চারটা দিয়ে আর কতই বা বড় হবে খামার! জিহাদী- তা বটে। জনাব গত কিছুদিন আগে ‘তান্ডব’ সিরিজটা দেখলাম। তাও বড়ই সৌন্দর্য লাগলো। সাইফ ভাইকে দেখে সাথে সাথে আমরাও কাজে লেগে গেলাম। আপনার শখের খামারে কোন সমস্যা হয়নি তো? কর্তৃপক্ষ- দেশের তো বড়সড় সমস্যা হইলো। ভালো ভালো সব প্রাণী তো আপনাদের কাছেই জনাব। আমার খামারে তো কিছু নেই বললেও চলে। হা হা। জিহাদী- উনাকে রাখুন। খামার বড় করুন। একদিন পিয়ারে পাকিস্তানেও আপনার আরেকটি খামার চালু করতে পারবেন। পুরা একটা বাবু নগরী বানাতে পারবেন। আমাদের হাত থেকে শুরু করে শরীরের সবকিছুই লম্বা। হা হা। চিন্তা করবেন না, আমরা আছি সাহেব। কর্তৃপক্ষ- আপনাদের ‘জান্নাতে মামুন’ খুবই মানবিক আছেন। আসার পর থেকে আমার পুরো খামার তিনি একাই মাতিয়ে রেখেছেন। ভাবছি একটা ‘আর ওয়ান ফাইভ’ গিফট করবো। হা হা। জিহাদী- ভাই সাহেব, আমার একটা ইচ্ছে রাখতেই হবে আপনার। উহু, কোনভাবেই না করা যাবে না। কর্তৃপক্ষ- বলুন, শুনি। রিসোর্টে রাখবো নাকি মাথায় রাখবো তা ভেবে দেখা যাবে পরে। হা হা। জিহাদী- হা হা। মানবিক বিয়ের ব্যাপারটা একটু সিরিয়াসলি নেন ভাই। সারা দেশে এটার নিয়ম চালু করেন। হুজুররাও একটু মজ-মাস্তি করতে পারে মতোন কিছু কিছু সুবিধাও দেন। এইসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ জনাব। কর্তৃপক্ষ- তা বটে। ভাবছি সেন্টমার্টিন দ্বীপ শুধু আপনাদের নামেই করে দিবো। আপনার দলের লোকেরাই যাইতে পারবে বাকীরা প্রবেশ নিষেধ। একটু ফান টান করলেন আরকি! জিহাদী- থ্যাংকিউ ভাই সাহেব। আজ উঠি। বারোটায় তান্ডবের বাকী দুইটা এপিসোড দেখতে হবে। ‘পথ হারাবো বলেই এবার পথে নেমেছি।’ হা হা। আজ যাই। কর্তৃপক্ষ- ‘যাই’ নয়। বলেন আসি। জিহাদী- ৮০ সাহেব। হা হা।