বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুুরী ইসরাইলের ক্ষমতাসীন দল লিকুদ পার্টির নেতা ও সেদেশের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বর্তমান সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করে ফেঁসে যাওয়ায় চরম বিপদে পড়ে বিএনপি। তাদের রাজনীতিই হুমকির মধ্যে চলে যায়। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব বিএনপিকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করলে তারা এর থেকে তড়িঘরি করে বের হওয়ার উপায় খুঁজতে থাকে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ নির্দেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করার পাশাপাশি অন্যান্য মুসলিম দেশের কূনৈতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে বিএনপি এমন একটা পথ বের করার চেষ্টা করে যাতে আসলাম চৌধুরীর ইসরাইল কানেকশন প্রসঙ্গ অন্যদিকে ফেরানো যায়। এ নিয়ে ঢাকা এবং লন্ডনে দফায় দফায় মিটিং করে তারা। বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী এবং লন্ডনে অবস্থানরত জামায়াতের একজন ব্যারিস্টার তারেক রহমানকে মেন্দি এন সাফাদির দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেয়।

তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্লোরিডাবাসী তার বন্ধু জাহিদ এফ সর্দার সাদী আমেরিকায় অবস্থানরত ইসরাইলের নাগরিক সাফাদির কাছে গেলে তিনিও বিএনপির প্রতি আবারো বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। তারেক রহমানের বুদ্ধিতে সে তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এমন কথা ক্যামেরার সামনে বলতে রাজি হয়।

এর পরে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী এক জামায়াত ইসলামী নেতার মালিকানাধীন এক টেলিভিশন চ্যানেলে তাদের পূর্ব চিত্রনাট্য অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়। সাক্ষাৎকার নেন অপর প্রবাসী বিএনপি নেতা জ্যাকব। সঞ্চালক বাংলাদেশ শব্দটা উচ্চারণটাই খুব অদ্ভুতভাবে উচ্চারণ করে । এমন তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কোন বাংলাদেশী তার নিজ দেশের উচ্চারণ করবে কেউই তা ভাবতে পারেনা। তার পরেও সাফাদিকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রশ্নকর্তা বাংলাদেশকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করেছে সেই অনুষ্ঠানে।

ভিডিওটা দেখলেই বোঝা যায় যে এর চিত্রনাট্য খুব দুর্বলমানের ছিল। সাফাদি ওই সাক্ষাৎকারে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছেন সেটা বুঝতে কোন বিশেষজ্ঞ হতে হয় না।

সাফাদি বলেন, ওয়াশিংটনে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করেছেন। কিন্তু জয় কে এটা তিনি জানেন না। এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নকর্তা যেন আকাশ থেকে মাটিতে পড়লেন। যদিও তার এক্সপ্রেশন বার বার ক্যামেরার সামেন ধরা পড়ে গিয়েছে। তিনি যে অভিনয় করছেন কিন্তু সেই অভিনয়ের কৌশল বার বার তার দর্শকরা ধরে ফেলছেন এইটা সেই ভিডিওতে বোঝা যাচ্ছে।

সাফদি জয়ের নামটাও ঠিক মতো বলতে পারেননি। যার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন কিন্তু তার নাম ভুলে যাবে এমনটা হওয়ার কথা না কারো। কিন্তু সাফাদির বেরায় এমনটাই হয়েছে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে পাশের স্ক্রিনে জয়ের ছবি ভেসে উঠে। পূর্ব পরিকল্পিত না হলে সঙ্গে সঙ্গে জয়ের নাম কেন ভেসে উঠবে। এখান থেকেই বোঝা যায় তাদের সাক্ষাৎকারের বিষয়টি আগেই ঠিক করা ছিল প্রশ্নকর্তার উত্তরে সাফাদি জয়ের নাম বলবেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তখন স্ক্রিনে জয়ের ছবি দেখানো হবে।

বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের বহু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে মেন্দি এন সাফাদির কথিত সেই বৈঠকের কোন ছবি সাফাদি বা বিএনপির তরফ থেকে দেখানো সম্ভব হয়নি।

comments