বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আসে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন।

প্রায় ১৬ মিনিটের কথোপকথনে জন কেরি কুশল বিনিময়ের পর জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

“তিনি (কেরি) বলেন, ‘জুলহাস ছিলেন আমাদের সহকর্মী’। তিনি হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান,” বলেন প্রেসসচিব।

গত বছরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মতো গত সোমবার রাজধানীর কলাবাগানে বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জুলহাজ ও তনয়কে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল অ্যাসিস্টেন্ট জুলহাজ সমকামী অধিকারকর্মী ছিলেন। তার বন্ধু তনয় ছিলেন নাট্যকর্মী।

এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আল কায়দার নামে বার্তা এলেও তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

“সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। এক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করছে। কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি, অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।”

কলাবাগানে নিহত জুলহাজের সঙ্গে নিজের গত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির আত্মীয়তার কথাও কেরিকে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমার পরিবারের সকল সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার। আজ শেখ জামালের জন্মদিন। আমার এই ভাইকে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরিবারের সবার সাথে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।”

বঙ্গবন্ধুর যে দুজন খুনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতেও জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ত্রাস মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো তথ্য পেলে তা বাংলাদেশকে জানাবে।

‘কাউন্টার টেরোরিজম’ সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা কেরি বলেছেন বলে ইহসানুল করিম জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “২০১৫ সালে যারা প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তারাই এই হত্যাকারীদের মদদ জোগাচ্ছে। হত্যাকারীরা হত্যার ক্ষেত্রে সফট-টার্গেট কৌশলে আগাচ্ছে। তারা ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রিদের টার্গেট করছে। এসবগুলোই ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।”

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক পরিবারের আটজনকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানান বলে প্রেসসচিব জানিয়েছেন। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতির খুনিদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের জন্যও জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান।

সূত্র : বিডিনিউজ২৪.কম

comments