জাতীয়

  • কে এই আসিফ আদনান! কি তার পরিচয়?

    আসিফ আদনান,এই নাম অনেকেই শুনে থাকবেন। ধর্মভিত্তিক লেখালেখির জন্য অনেকে চিনে থাকেন,অবশ্য তিনি মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক উস্কানি দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারিতে ধরা পড়ার পর আসিফ আদনানের টাইমলাইন থেকেই উস্কানি দেয়া হয়েছিল বিভিন্ন ব্যাক্তির ঘরবাড়ি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ গুড়িয়ে দেয়ার। আমরা অনেকে জানিনা এই আসিফ আদনানের আসল পরচিয় কি? আসুন জেনে নেই। ২০১৪ সালে আসিফ আদনানকে গ্রেপ্তার করা হয় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকাতুল জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে। আসিফ আদনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশুনা করে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। অথচ আসিফের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। আসিফ আদনানদের উদ্দেশ্য ছিল জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে শক্তিশালী করে আল কায়েদার মত জঙ্গিবাদী কার্যক্রম চালানো।আনসারুল্লাহর কর্মীরা এসেছে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহ্‌রীর, জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে। ২০১৩-১৪ সালে কমপক্ষে ৫ জন ব্লগার হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল আসিফ আদনানদের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। আদনান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। পাকিস্তানে সম্প্রতি শিশুদের ওপর হামলা এবং দেশে ড্রোন হামলার প্রস্তুতি পর্বে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যও ধরা পড়েছেন।   খবর : কালের কণ্ঠঃ https://bit.ly/3dXwAOS প্রথম আলোঃ https://bit.ly/3mAgSNO  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর: https://bit.ly/3s8TFDx          
  • জিয়ার মতে ৭ মার্চই ছিল স্বাধীনতার ডাক; তার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা

    ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত এক লেখায় জিয়া নিজেই লেখেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণই ছিল তার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা। এখন বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনকের স্বীকৃতি দিতে বিএনপির আপত্তি থাকলেও ওই লেখায় জিয়া নিজেই শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক বলে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কীভাবে বিষোদগার করা হত, তাও উঠে এসেছে জিয়ার লেখনীতে। লেখায় মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জিয়ার আস্থাও ফুটে উঠেছে। তিনি নিজেই লিখেছেন, ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ ও ’৭০ এর নির্বাচনে রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা। বলেছেন, ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বিদ্রোহের পর তিনি নিজেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় জিয়াসহ মুক্তিবাহিনীর তিন ফোর্সের অধিনায়কের স্মৃতিকথা ছেপেছিল। অন্য দুজন হলেন খালেদ মোশাররফ ও কে এম সফিউল্লাহ। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত ত্রয়ী ও তাদের স্মৃতিকথা’ শিরোনামের এই অংশে প্রকাশিত তিনটি লেখাই ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলা এবং দৈনিক গণবাংলায় প্রকাশিত হয়েছিল বলে বিচিত্রায় উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে বিচিত্রাসহ তিনটি পত্রিকাই বন্ধ। ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামের ওই লেখায় জিয়া লেখেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্ফোরণোম্মুখ হয়ে উঠলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে থাকা বাঙালি কর্মকর্তারাও তার আঁচ পেতে থাকে। ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলতে থাকে। “৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে হল। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম,” লিখেছেন জিয়া। রেসকোর্স ময়দানে ওই ভাষণেই বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় বাঙালির মনের কথা- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও ওই দিনই স্বাধীনতার ডাক বঙ্গবন্ধু ইঙ্গিতে দিয়েছিলেন বলে মনে করেন তৎকালীন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সব বাঙালি, যা জিয়ার লেখায়ও স্পষ্ট। লাখো মানুষের মহাসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে; যা অনুসরণ করে সশস্ত্র সংগ্রামের মহড়া শুরু করে দেয় ছাত্র সংগঠনগুলো, যাতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রীর উপস্থিতি প্রেরণা যোগায় সবাইকে। তবে এরপর বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়া খানের আলোচনা শুরুকে পরিস্থিতির উন্নতি বলে মনে করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘জেড’ ফোর্সের অধিনায়ক জিয়া। কিন্তু তা আর হয়নি। রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যায়, সেই সঙ্গেই শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ, শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। জিয়া লিখেছেন, ২৫ মার্চ রাতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন তার নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে। আর বিদ্রোহের পরই তিনি বিষয়টি জানাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। “সমস্ত পাকিস্তানি অফিসারকে বন্দি করলাম।… রিং করলাম বেসামরিক বিভাগের টেলিফোন অপারেটরকে। তাকে অনুরোধ করলাম ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাতে যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন বিদ্রোহ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করবে তারা,” লিখেছেন জিয়া। তবে গোলযোগপূর্ণ ওই সময়ে কারো সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি অপারেটর। এরপর আসে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, যা চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারের ব্যবস্থা করেন বেলাল মোহাম্মদসহ দুঃসাহসী কয়েকজন। এতে পরে সংশ্লিষ্ট হন জিয়াউর রহমানও। বিএনপি দাবি করে আসছে, জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে বেলাল মোহাম্মদ এই বিষয়টি স্পষ্ট করে ২০১০ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান। এরপর করেছিলেন জিয়া। স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের বিষয়ে জিয়ার সম্পৃক্ততা তুলে ধরে বেলাল বলেন, “আমি তখন কী মনে করে উনাকে (জিয়া) বললাম, মেজর, এখানে তো আমরা সবাই মাইনর, একমাত্র আপনিই মেজর। আপনি কি নিজের কণ্ঠে কিছু বলবেন। “তারপর তাকে কাগজ দেওয়া হলে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন।” বিচিত্রার যে সংখ্যায় জিয়ার লেখা ছাপা হয়েছিল, সেই সংখ্যায় ‘কে’ ফোর্সের অধিনায়ক খালেদ মোশাররফের লেখায়ও উল্লেখ রয়েছে, মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন শেখ মুজিবের পক্ষে। দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ওঠানোর পর বিষয়টির অবসান ঘটাতে উচ্চ আদালতও নির্দেশ দেয়, জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক না বলতে। জীবদ্দশায় জিয়া নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার না করলেও বিএনপির তারপরও তা করছে। এমনকি মঙ্গলবার জিয়ার স্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক অনুষ্ঠানে বলেন, জিয়াই ছিল স্বাধীনতার ঘোষক। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়টি বিএনপি নেতারা সবসময় উপেক্ষা করে এলেও জিয়ার লেখায় স্পষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা। জিয়ার লেখার শুরুই হয়েছিল এভাবে- “পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই ঐতিহাসিক ঢাকা নগরীতে মি. জিন্নাহ যেদিন ঘোষণা করলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, আমার মতে সেদিনই বাঙালি হৃদয়ে অঙ্কুরিত হয়েছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ।” পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গীদের অস্বচ্ছতা অল্পবয়সেই পীড়া দিত বলে উল্লেখ করেছেন জিয়া। সামরিক বাহিনীতে যাওয়ার পর এই অনুভূতি আরো গাঢ় হয়। জিয়ার ভাষায়- “আমাদের ওরা দাবিয়ে রাখত, অবহেলা করত, অসম্মান করত, বলত- ‘আওয়ামী লীগের দালাল’। একাডেমির ক্লাসগুলোতেও সবসময় বোঝানো হত- আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন ওদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু।” মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সৈন্যদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে লড়ার আগে থেকে ভারতীয় সৈন্যদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণার কথাও লিখেছেন জিয়া। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তার লেখায় বলা হয়েছে- “যুদ্ধবিরতির সময় বিভিন্ন সুযোগে আমি দেখা করেছিলাম বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় অফিসার ও সৈনিকের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কোলাকুলি করেছি, হাত মিলিয়েছি। তখন দেখেছিলাম, তারা অত্যন্ত উঁচু মানের সৈনিক। “তাদের সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল, আমরা বন্ধুতে পরিণত হয়েছিলাম। এই প্রীতিই দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পাশাপাশি ভাইয়ের মতো দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে আমাদের।”   Courtesy: bdnews24
  • বাংলাদেশ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কপটতা ও দ্বিচারিতা নেপথ্য কারণ

    বিশ্বব্যাপী নীতিবাগিশ হিসেবে নিজেদের জাহির করে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো। এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতিটি অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলায় তারা। অথচ, নিজেদের বেলায় নীতি-নৈতিকতার বালাই নেই তাদের। কিন্তু কোনো দেশের সরকার যদি তাদের কথামতো না চলে, তাহলে সেই দেশের সরকার বদলানোর মিশনে নামে তারা। তখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার অজুহাতে কিছু জনপ্রিয় বুলি ছড়িয়ে সেই দেশকে বিশ্বব্যাপী নাজেহাল করতে শুরু করে পশ্চিমা বিশ্বের মোড়লেরা। অথচ, যেসব দেশ তাদের স্বার্থ রক্ষা করে, তাদের বেলায় পশ্চিমাদের অবস্থান ঠিক উল্টো। এদের এই দ্বিচারিতার শিকার বাংলাদেশও। সম্প্রতি ব্রিটেনের নাগরিক শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনাতেও তাদের ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। যদিও এটা তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের সঙ্গে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। তারপরও তারা বাংলাদেশকে জড়ানোর চেষ্টা করেছে এর সঙ্গে, এটি স্পষ্টই আমাদের সঙ্গে পশ্চিমাদের বর্ণবাদী আচরণ। মূল ঘটনাটা হলো, ২০১৫ সালে শামীমা বেগম ১৫ বছর বয়সে নিজ দেশ ব্রিটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় যায় এবং আইএস-এ যোগ দেয়। পরে সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং নিজ দেশে ফিরতে আর্জি জানায়। কিন্তু তার নাগরিকত্ব বাতিল করে ব্রিটেন। ব্রিটেনের আইনে বলা আছে, জনস্বার্থে কারো নাগরিকত্ব বাতিল করা যাবে, কিন্তু কাউকে রাষ্ট্রহীন করে তা করা যাবে না। তার মানে, তার জন্য অন্য কোনো দেশে আশ্রয় থাকতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্র ব্রিটেন নিজেরাই তাদের এই নিয়ম মানেনি। তারা রুল জানি করে জানায়- শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল আইনসম্মত, কারণ তার মায়ের জন্মসূত্রে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শামীমার জন্ম ব্রিটেনে এবং সে সেখানেই বেড়ে উঠেছে। সে কখনো এদেশে আসেনি। এমনকি এদেশের নাগরিকত্বও চায়নি সে কখনো। সুতরাং তার মায়ের জন্ম বাংলাদেশে হলেও, শামীমার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই ব্রিটেনের আইনজীবীদের মনগড়া ব্যাখ্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালে এক বিবৃতিজানায়, শামীমা বেগম যুক্তরাজ্যের নাগরিক অথচ তাকে বাংলাদেশী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, এটা গভীর উদ্বেগের কারণ। পশ্চিমারা কীভাবে পদে পদে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে চায়, তার স্পষ্ট দৃষ্টান্ত এটি। বাংলাদেশকে নিয়ে পশ্চিমাদের সমস্যাটা আসলে অনেক পুরনো। একসময় এই বাংলার সম্পদ লুট করে, সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল তারা। সেই বাংলাদেশ আবারও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এটা তাদের সহ্য হচ্ছে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং সার্বভৌমত্বের বিষয়ে পশ্চিমাদের মনে এক ধরনের ‘সুপিরিয়রিটি কমাপ্লেক্স’ কাজ করে। তারা একসময় শাসন-শোষণ করেছে এই অঞ্চল, সেকারণে তারা এখনো আমাদের তাদের অধঃস্তন জাতি হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা করে। তাদের মধ্য ‘হোয়াইট সুপ্রিমিসি’ কাজ করে, তারা মনে করে সাদা চামড়ার কারণেই তারা শ্রেষ্ঠ, অন্যকারো শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসার অধিকার নাই। আমাদের ব্যাপারে তাদের মানসিকতাই হুকুমদারিত্বমূলক। বাংলাদেশের সবকিছুতেই তাদের সমস্যা। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনা কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ ও গণহত্য নিয়েও পশ্চিমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এমনকি সাত লাখের বেশি মানুষকে রাখাইন থেকে তাড়ানোর পরেও মিয়ানমারের সর্বোচ্চ নেতা অং সান সুচিকে নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি পশ্চিমারা। উল্টো মানবিকতা দেখিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সেই বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দিলেন, এরপর তারা বাংলাদেশের ভুল খুঁজতে এলো। এমনকি এখনো তারা ভুল খুঁজেই যাচ্ছে। এছাড়াও মিয়ানমারে বছরের পর বছর ধরে সেনাবাহিনী ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকলেও সেখানে কখনো গণতন্ত্র-মানবিকতার বুলি আওড়াতে দেখা যায়নি পশ্চিমাদের। অথচ, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করার বিষয়েও পশ্চিমাদের হাজারো রকমের সমস্যা দেখা গেলো। সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের সঙ্গেও যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অতি মধুর। কম দামে আরবের তেল কিনতে পারে তারা, বেশি দামে বেচতে পারে অস্ত্র। বিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। সেখানে মানবিকতা নিয়ে কথা বলাটাকে অনুচিত বলে মনে করে বর্ণবাদী পশ্চিমারা। ২০১৮ সালে, তুরস্কের দূতাবাসে একজন সৌদি সাংবাদিক খাসোগিকে বর্বরভাবে হত্যা করে লাশ পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এই ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে দায় স্বীকার করেছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা নথির তথ্য থেকে জানা যায়, সৌদি যুবরাজই এই হত্যার নির্দেশনা দিয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে সৌদি যুবরাজকে রক্ষার জন্য সন্দেহভাজনদের তালিকা থেকে তার নাম পর্যন্ত সরিয়ে দিয়েছে তারা। সন্ত্রাসী কায়দায় তুরস্কে বিমান নিয়ে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে, আবার বিমান নিয়ে সৌদি আরবে ফিরে গেছে খুনির দল। ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর, পুরো বিশ্বের কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের তাতে কিছু যায় আসে না, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের মধুর সম্পর্কের বিন্দুমাত্র তারতম্য হয়নি তাতে। এমনকি পেড্রো-ডলারের মোহে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত সৌদিতে গিয়ে নেচেছেন একনায়কতান্ত্রিক সরকারের সদস্যদের সঙ্গে। রাজতন্ত্রের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, একনায়কদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, এসব পশ্চিমা গণতন্ত্রের নিত্যমিত্র। এমনকি তাদের মন খুশি করে দিয়ে, আপনি যদি খুনখারাপি-জবরদখল করেন, তাহলেও সেটা তাদের কাছে নমস্য। কিন্তু আপনি যদি নিজের দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তাহলেই মুখ বেজার হয় পশ্চিমাদের। কয়েক শত বছর ধরে আফ্রিকা-এশিয়ার মানুষদের দাস বানিয়ে রেখেছিল তারা, এখনও খাই খাই স্বভাব শেষ হয় নাই। এশিয়ার রাজনীতিতে ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশের প্রতি তাদের নজর লেগে থাকে সবসময়। পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করেছে, যা বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহত্তম সেতু; এদিকে খুব কম ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমেই করোনাভাইরাসের মতো সর্বগ্রাসী মহামারিও মোকাবিলা করতে সমর্থ্য হয়েছে সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অভাব দূর করে উন্নত জীবনের পথে যাত্রা করেছে দেশের মানুষ। কথা হলো, ‘ভেতো বাঙালি’রা আজ বিশ্বব্যাপী মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, পশ্চিমাদের সমান্তরালে পা ফেলে চলতে শুরু করেছে, এটি তাদের বিষম মর্মপীড়ার কারণ।
  • ১৯৭৭-এর ২ অক্টোবর অভ্যুত্থানে জড়িত অভিযোগে ঢাকা, কুমিল্লা ও বগুড়া কারাগারে ২০৯ জনের ফাঁসির তালিকা

    ১৯৭৭-এর ২ অক্টোবর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ও তা দমনে সময় এবং পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়ায় সেনা ও বিমানবাহিনীর মোট কতজন সদস্য নিহত হয়েছেন, তার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্শাল ল’ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা ও তা কারাগারে কার্যকর করা সংক্রান্ত একটি তালিকা পাওয়া গেছে। ঢাকা ও কুমিল্লা ঐ দুটি কারাগারে মোট ১৯৩ জনের ফাঁসি হয়। ঢাকায় ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ‘৭৭ পর্যন্ত এবং কুমিল্লায় ২৯ অক্টোবর ‘৭৭ থেকে জানুয়ারি ‘৭৮ পর্যন্ত ফাসিগুলো কার্যকর হয়। দেশের অন্য কারাগারগুলোতে ফাসি হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু অন্য কোনো জেলে অক্টোবরের ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসি হওয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে ঢাকায় অ্যুথান প্রচেষ্টার প্রাক্কালে ৩০ সেপ্টেম্বর ‘৭৭ দিবাগত গভীর রাতে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে একটি রেজিমেন্টের সৈন্যরা বিদ্রোহ করেছিল। পরে বিদ্রোহীদের মার্শাল ল’ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়। ২৬ অক্টোবর ‘৭৭ আইএসপিআর-এর মাধ্যমে জানা যায়, ঐ ঘটনায় ৫৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বগুড়া কারাগারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২১ ও ২২ অক্টোবর দুই রাতে বগুড়া কারাগারে ১৬ জনের ফাঁসি হয়। অপর ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কোথায় কিভাবে করা হয়েছিল তা জানা যায়নি। তৎকালীন সামরিক সরকারও এসব তথ্য প্রকাশ করেনি। ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ২১ দিনে ১২১ জনের ফাঁসি হয়
    ক্রমিক কয়েদি নং নাম ব্যাজ ও পদবি সাজার তারিখ ফাঁসির তারিখ
    ১. ৭১৩৮/এ ছিদ্দিক আহমেদ ৮৪৮৬৪ এমডিসি ৭-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ২. ৭১৩৯/এ মহিউদ্দিন ৪৪০৭০৮ MET Air hq ৭-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৩. ৭১৪০/এ আবুল হোসেন ৪৪০৭১৯ কর্পোরাল ৭-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৪. ৭১৪১/এ আঃ হালিম ৮৩১৬৪ কর্পোরাল ৭-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৫. ৭১৪২/এ তোফাজ্জল হোসেন ৭০৪৫১১ Fd Unit ৭-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৬. ৭১৪৩/এ খোরশেদ আলম ৮৩১৬৪ কর্পোরাল ৭-১০-৭৭ ২৪-১০-৭৭
    ৭. ৭১৪৪/এ দলিল উদ্দিন ৭০২৯৫৬৮১২৫ FDME ৮-১০-৭৭ ১২-১০-৭৭
    ৮. ৭১৪৫/এ মোবারক আলী ৮৪১৫৪ BAF.B.Sasc ৮-১০-৭৭ ১২-১০-৭৭
    ৯. ৭১৪৬/এ মোস্তাফিজার রহমান ৭৫৪১২ সার্জেন্ট ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ১০. ৭১৪৭/এ আঃ সাত্তার ৭৫৪২৮ ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১১. ৭১৪৯/এ ইলিয়াছ হোসেন ৮৩৫৫৪ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১২. ৭১৫০/এ আরজু শিকদার ৪৪০২০ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১৩. ৭১৫১/এ আহসান উল্ল্যা ৮২৫৪৭ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১৪. ৭১৫২/এ আঃ জব্বার ৮৬৫২৬ সার্জেন্ট ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১৫. ৭১৫৩/এ হামিদ ৮৩৫২৬ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১৬. ৭১৫৪/এ আবুল খায়ের ভূঁইয়া ৭৯২৮৪ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১৭. ৭১৫৫/এ রেজা মিয়া ৬৮৬২৩১০ সাপ্লাই /জিডি ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ১৮. ৭১৫৬/এ এখলাছুল মোমেনিন ৬৫৮৭০৯৯ সিপাহি ৮-১০-৭৭ ১৯-১০-৭৭
    ১৯. ৭১৫৭/এ আবু বকর ছিদ্দিক ৮৪৬৪৮ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
     
    ২০. ৭১৫৮/এ আফাজউদ্দিন ভুইঁয়া ৭৬৮৫২ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১৮-১০-৭৭
    ২১. ৭১৫৯/এ ইয়াকুব আলী ৬৮৯৪৩ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ২২. ৭১৬০/এ ফরিদুর রহমান ৭৬৭৩৭ সার্জেন্ট ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ২৩. ৭১৬১/এ  আঃ রশিদ ৭২৯৮০ ফ্লাইট সার্জেন্ট ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ২৪. ৭১৬২/এ সায়েদ হোসেন ৪৪০৪৬৮ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ২৫. ৭১৬৩/এ জহির আহমেদ ৪৪০২১৬ কর্পোরাল ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ২৬. ৭১৬৪/এ মমিন উল্লাহ ৭২৯৮৭ সার্জেন্ট ৮-১০-৭৭ ১১-১০-৭৭
    ২৭. ৭১৮৯/এ শফিকুর রহমান ৭০৩১০৩৪ ল্যান্স নায়েক বেজ ওয়ার্কশপ ৮-১০-৭৭ ৯-১০-৭৭
    ২৮. ৭১৯০/এ এম এ কুদ্দুস ৭০২৫৬২৫ ল্যান্স নায়েক  বেজ ওয়ার্কশপ ৮-১০-৭৭ ৯-১০-৭৭
    ২৯. ৭১৯১/এ ফজলুল হক    B.J.o.NYA ৮-১০-৭৭ ৯-১০-৭৭
    ৩০. ৭১৯২/এ মহসীন রেজা ৬৫৮৯৫৪৭ সিপাহি/এম টি ৮-১০-৭৭ ৯-১০-৭৭  
    ৩১. ৭১৯৩/এ শফিকুল ইসলাম ৬৮০৫২৬৯ সিপাহি/ডিএন্ডপি ৯-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৩২. ৭১৯৪/এ মজিবুর রহমান ৬৮৬৪৭২৩ সিপাহি/ক্লার্ক ৯-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৩৩. ৭১৯৫/এ আরশেদ আলী ৬৮৬২৬৩৬ সিপাহি/ জিডি ৯-১০-৭৭ ১০-১০-৭৭
    ৩৪. ৭১৯৬/এ বেলায়েত হোসেন ৫০০১০৮ ৪র্থ এমওডিসি ৭-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ৩৫. ৭১৯৭/এ আলতাব উদ্দিন ৫০০৫২৭ সিপাহি ৭-১০-৭৭ ১২-১০-৭৭
    ৩৬. ৭১৯৮/এ মোশারফ হোসেন ৬৮৬১৬৫২ ক্লার্ক,সিওডি ৭-১০-৭৭ ১২-১০-৭৭
    ৩৭. ৭১৯৯/এ আঃ কুদ্দুস ৭০৫৭০১৫ নায়েক সিপাহি/ ডিজি ৭-১০-৭৭ ১২-১০-৭৭
    ৩৮. ৭২০০/এ শফিকুল ইসলাম ৫০০৫৩৯ সিপাহি/এমওডিসি ৭-১০-৭৭ ২৮-১০-৭৭
    ৩৯. ৭২০১/এ আঃ মতিন ৬২৬০৭৮০ হাবিলদার, স্ট্রাডিক উইং ৭-১০-৭৭ ২৯-১০-৭৭
     
    ৪০. ৭১২০২/এ আঃ হাই ৭০৪৯১৬ সিপাহি ২৬৩ আর্মি এসএন্ডটি ৭-১০-৭৭ ২৯-১০-৭৭
    ৪১. ৭১২০৩/এ আঃ খালেক ৬৫৮১৮৫২ ল্যান্স নায়েক ৭-১০-৭৭ ১৯-১০-৭৭
    ৪২. ৭১২০৪/এ নওয়াব আলী ৬৫৮৫৯১৩ সিপাহি আর্মি এস এন্ড ডি BN ৭-১০-৭৭ ১৯-১০-৭৭
    ৪৩. ৭১২০৫/এ আমির আলী ৬৫৮৬৯১৭ সিপাহি ৭-১০-৭৭
    ৪৪. ৭১২০৬/এ আঃ মান্নান ১০৩৩৪৯৩ সিপাহি ৭-১০-৭৭ ৮-১০-৭৭
    ৪৫. ৭১২০৭/এ আঃ করিম ১০৩৪০৪০ সিপাহি ৭-১০-৭৭ ১৯-১০-৭৭
    ৪৬. ৭১২০৮/এ আবুল হাশেম ৬৪৫২৩১৪ সিপাহি ৭-১০-৭৭
    ৪৭. ৭১২০৯/এ আঃ বারেক ফকির ৬৫৫৮৪২৯ নায়েক সি ও ডি ঢাকা ক্যান্টঃ ৭-১০-৭৭
    ৪৮. ৭১২১২/এ বাদশা মিয়া ৬৮৬৪৩১৩ সিপাহি/জিডি ৭-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৪৯. ৭১২১৩/এ নিজাম উদ্দিন ৬৮৬৪৩৩৪ সিপাহি/জি ডি ৭-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৫০. ৭১২১৪/এ জিয়াউল হক ৬৮৬১৫৫৫ সিপাহি/জি ডি ৭-১০-৭৭ ২২-১০-৭৭
    ৫১. ৭১২১৫/এ আলী আহাম্মদ ৬৮৬১৯৯৮ সিপাহি/জি ডি ৭-১০-৭৭ ২২-১০-৭৭
    ৫২. ৭১২১৬/এ মোজাম্মেল হক ৬৮০৫৩৪২ ল্যান্স নায়েক ৭-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৫৩. ৭২১৭/এ জাহাঙ্গীর আলম     ৬৮৮৭০৮১ ইউ / এল এন কে ৭-১০-৭৭ ২২-১০-৭৭
    ৫৪. ৭২২৪/এ আঃ রহমান ৭৪১৪৩ সার্জেন্ট ৯-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ৫৫. ৭২২৫/এ আমিন ৪৪০২৮৩ ৯-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৫৬. ৭২২৬/এ এম এস মান্নান ৮৪৫৪২ ৯-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৫৭. ৭৩০১/এ খন্দকার আতাউর রহমান ৫০০৫৭৩ সিপাহি/ এমওডিসি ১১-১০-৭৭ ১৫-১০-৭৭
    ৫৮. ৭৩০২/এ আঃ হাই ৫০০৫৭৮ সিপাহি/ এমওডিসি ১১-১০-৭৭ ১৫-১০-৭৭
    ৫৯. ৭৩০৩/এ ফরহাদ মিয়া ৫০০০০৪২ নায়েক ১১-১০-৭৭ ১৫-১০-৭৭
    ৬০. ৭৩০৬/এ আঃ রব মিয়া ৫০০১০৯ ল্যান্স নায়েক ১২-১০-৭৭ ১৫-১০-৭৭
    ৬১. ৭৩০৭/এ শহিদুল্লাহ ৫০০৩০৩ সিপাহি/ এম ও ডি সি ১২-১০-৭৭ ১৫-১০-৭৭
    ৬২. ৭৩০৮/এ ফরিদ মিয়া ৫০০২৪২ সিপাহি ১২-১০-৭৭ ১৫-১০-৭৭
    ৬৩. ৭৩১৯/এ সাহেব আলী ৫০০৩১১ ল্যান্স নায়েক/ এম ও ডি সি ১৩-১০-৭৭ ২২-১০-৭৭
    ৬৪. ৭৩২৮/এ আফছার খান ৭৭০৫১ সার্জেন্ট ১৪-১০-৭৭ ২২-১০-৭৭
    ৬৫. ৭৩২৯/এ ফজলুল হক ৪৪০৯৪০  কর্পোরাল ১৭-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৬৬. ৭২১৭/এ এ হাকিম ৮৩৮৮৮ কর্পোরাল ১৫-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৬৭. ৭২১৭/এ আলতাছ ৪৪০৮৫৪ কর্পোরাল ১৫-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৬৮. ৭২১৭/এ মোখলেছুর রহমান ৮৩৮৪৯ কর্পোরাল ১৫-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৬৯. ৭২১৭/এ মহিউদ্দিন ৪৪০৬৪৪ কর্পোরাল ১৫-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৭০. ৭২১৭/এ এনামুল হক ৬২৭৪০২৮ নায়েক ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭১. ৭২১৭/এ রণজিৎ কুমার বৈদ্য ৬২৮৭৭৬৪ সিগন্যাল ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭২. ৭২১৭/এ আবু খালেক ৬২৮৫৫১৯ নায়েক ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭৩. ৭২১৭/এ সামছুল হক ৬২৮৪৫৪১ সিগন্যাল এস জি এস ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭৪. ৭২১৭/এ জাবেদ আলী ৬২৮৪৭০৬ সিগন্যাল ও আর কে ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭৫. ৭২১৭/এ আঃ মান্নান ৬২৭১১৮৬ নায়েক টিটি ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭৬. ৭২১৭/এ কাজী সাহেদ হোসেন ৬২৮৪৮৫৪ সিগন্যাল ও আর ডাব্লিউ ০৮-১০-৭৭ ১৬-১০-৭৭
    ৭৭. ৭২১৭/এ আজগর আলী ১৩৪১০০৭ সিপাহি ১০-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৭৮. ৭২১৭/এ আমীর আলী ৬৫৮৬৯১৭ সিপাহি এমটি ০৯-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৭৯. ৭২১৭/এ আঃ করিম ১০৩৪৩৪৪০ সিপাহি এমটি ০৯-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৮০. ৭২১৭/এ আবুল হাসেম ৬৪৫২৩১৪ সিপাহি কুক ০৯-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৮১. ৭২১৭/এ আঃ বাছেদ ফকির ৬৮৫৮৪২৯ নায়েক জিডি ০৯-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৮২. ৭২১৭/এ গোলাম ফকির ৬৮৬২৬০০ সিপাহি জিডি ০৯-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৮৩. ৭২১৭/এ আঃ জব্বার ৬৮৬২০৮১ সিপাহি জিডি ০৯-১০-৭৭ ২১-১০-৭৭
    ৮৪. ৭২১৭/এ মিনার কান্তি ৭২২২৮ সার্জেন্ট ০৮-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৮৫. ৭২১৭/এ আজিজুল হক ৮০৪৯৩ সার্জেন্ট ০৮-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৮৬. ৭২১৭/এ আহমেদুল হক সার্জেন্ট ০৮-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৮৭. ৭২১৭/এ মনির হোসেন ১৩৩৮৮৪ ল্যান্স নায়েক ০৮-১০-৭৭ ২৩-১০-৭৭
    ৮৮. ৭২১৭/এ মাহমুদুর রশিদ ৮২৫৬৮ কর্পোরাল ০৯-১০-৭৭ ২৪-১০-৭৭
    ৮৯. ৭২১৭/এ মোশারফ আলম ৭৬৯৫২ কর্পোরাল ০৯-১০-৭৭ ২৪-১০-৭৭
    ৯০. ৭২১৭/এ আবুল বাশার ৭০২১ সার্জেন্ট ০৯-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৯১. ৭২১৭/এ সাইদুর রহমান ৭৭৪৫৯ সার্জেন্ট ০৯-১০-৭৭ ২৫-১০-৭৭
    ৯২. ৭২১৭/এ মাইন উদ্দিন ৭৫৪১১ সার্জেন্ট ০৮-১০-৭৭ ২৪-১০-৭৭
    ৯৩. ৭২১৭/এ মঞ্জুর আহম্মেদ ৮৩৫৫৯ কর্পোরাল ০৮-১০-৭৭ ২৪-১০-৭৭
    ৯৪. ৭২১৭/এ জয়নাল আবেদিন ৮২৫৪০ কর্পোরাল ০৮-১০-৭৭ ২৪-১০-৭৭
    ৯৫. ৭২১৭/এ এ কালাম ৮৩৮৫৯ কর্পোরাল ০৮-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ৯৬. ৭২১৭/এ আমানত হোসেন ৫০০২০৪ নায়েক ১১-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ৯৭. ৭২১৭/এ ওয়াদুদ ৪৪০৬৯৪ কর্পোরাল ১১-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ৯৮. ৭২১৭/এ মোয়াজ্জেম হোসেন ৬২৮৫৯০১ সিগন্যাল ১১-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ৯৯. ৭২১৭/এ এস রহমান ৮০৭১৭ কর্পোরাল ১১-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ১০০. ৭২১৭/এ জয়নাল আবেদিন ৭৬৪৮৮ সার্জেন্ট ০৮-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ১০১. ৭২১৭/এ হাবিব ৮২১৯৯ কর্পোরাল ০৮-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১০২. ৭২১৭/এ আকবর ৪৪০৬১ কর্পোরাল ১১-১০-৭৭ ২৬-১০-৭৭
    ১০৩. ৭২১৭/এ মতিয়ার রহমান ৪৪০১৪০১ ২৬-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১০৪. ৭২১৭/এ বারেক মিয়া ৫০০২৩৩৩ সিপাহি এমওডিসি ২৬-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১০৫. ৭২১৭/এ মোবারক হোসেন ৮২৬০৯ কর্পোরাল ২৬-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১০৬. ৭২১৭/এ আঃ জলিল ৫০০৬৮১ সিপাহি এমওডিসি ২৬-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১০৭. ৭২১৭/এ জয়নাল আবেদিন কর্পোরাল ২৬-১০-৭৭ ২৮-১০-৭৭
    ১০৮. ৭২১৭/এ দেলোয়ার হোসেন ৫০০১৪৫ সিপাহি এমওডিসি ২৬-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১০৯. ৭২১৭/এ ইকবাল কবীর ৫০০৬৪১ সিপাহি এমওডিসি ২৬-১০-৭৭ ২৭-১০-৭৭
    ১১০. ৭২১৭/এ আতাউর রহমান ৮২১৫৯ কর্পোরাল ২৬-১০-৭৭ ২৮-১০-৭৭
    ১১১. ৭২১৭/এ আঃ মজিদ ৬৫৮৯৫৫৬ সিপাহি ০৯-১০-৭৭ ২৮-১০-৭৭
    ১১২. ৭২১৭/এ জাকারিয়া ৬৫৮৬৬৫৬ সিপাহি ০৯-১০-৭৭ ২৮-১০-৭৭
    ১১৩. ৭২১৭/এ আবুল হাশেম ৬৩৮২৫৫৫ Hav/SMS ০৯-১০-৭৭ ২৮-১০-৭৭
    ১১৪. ৭২১৭/এ সাহাদৎ হোসেন ৬২৮৪৬৯১ সিগন্যাল ১৫-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ১১৫. ৭২১৭/এ সিরাজুল হক ৬২৭৪২৪৯ হাবিলদার ০৯-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ১১৬. ৭২১৭/এ ফকর উদ্দিন চৌধুরী ৯৭৮০ বিজেও ১০-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ১১৭. ৭২১৭/এ হাফিজ আহম্মেদ ভুঁইয়া হাবিঃ ক্লার্ক ১০-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ১১৮. ৭২১৭/এ কে এম জগলুল হক ৬২৭৩৫০৬ হাবিলদার ১০-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ১১৯. ৭২১৭/এ ফাহিম উদ্দিন ৬২৮৬২২৮ U /L.N. K ০৯-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    ১২০. ৭২১৭/এ আবুল কাশেম ৬২৮০৩৮০ সিগন্যাল ০৯-১০-৭৭ ৩০-১০-৭৭
    একজনের নাম ও পদবি অস্পষ্ট থাকায় ছাপানো সম্ভব হলো না। কুমিল্লায় যে ৭২ জনের ফাঁসি হয়
    ১. হারুন অর রশিদ সার্জেন্ট ৭৭৩৬২ ৩০-১০-৭৭
    ২. এস এম নাসির সার্জেন্ট ৭৬৪৯১ ৩০-১০-৭৭
    ৩. মোতাহার হোসেন সিপাহি ৫০০২৭৮ ৩০-১০-৭৭
    ৪. মোসলেম উদ্দিন সিপাহি ৫০০২৯১ ৩০-১০-৭৭
    ৫. তোফাজ্জল হোসেন কর্পোরাল ৪৪০৩৮২ ৩০-১০-৭৭
    ৬. শামসুল আলম সিপাহি ৫০০১৯৭ ৩০-১০-৭৭
    ৭. লোকমান হোসেন সিপাহি ৫০০২০৬ ৩০-১০-৭৭
    ৮. বশির আহমেদ সিপাহি ৫০০২১৮ ৩০-১০-৭৭
    ৯. দেলোয়ার হোসেন কর্পোরাল ৮৪৪৯৩ ৩০-১০-৭৭
    ১০. আশরাফ হোসেন কর্পোরাল ৮৪৪৬১ ৩০-১০-৭৭
    ১১. সিদ্দিকী সার্জেন্ট ৭৬৪৯৯ ২৯-১০-৭৭
    ১২. ইব্রাহিম খান সিপাহি ৬৫৮৭২১২ ২৯-১০-৭৭
    ১৩. মকবুল হোসেন খান সার্জেন্ট ৭৬৯৫১ ২৯-১০-৭৭
    ১৪. আনিসুর রহমান ওয়ারেন্ট অফিসার ৭২১৭২ ২৯-১০-৭৭
    ১৫. শাহজাহান আলী কর্পোরাল ৮২৫৬৩ ২৯-১০-৭৭
    ১৬. আবদুল লতিফ কর্পোরাল ৭৬৪৮০ ২৯-১০-৭৭
    ১৭. এ কে এম জব্বার কর্পোরাল ৪৪০৪২০ ২২-১১-৭৭
    ১৮. নুরুল হক সিপাহি ৫০০২২১ ২২-১১-৭৭
    ১৯. আজিজুল হক কর্পোরাল ৮৩২১১ ২২-১১-৭৭
    ২০. শেখ লুৎফর রহমান সার্জেন্ট ৭৭৪২৬ ২২-১১-৭৭
    ২১. শফিকুর রহমান এলএসি ৮৪৫৯৭ ২২-১১-৭৭
    ২২. গোলাম রহমান ওয়ারেন্ট অফিসার ৭০৭৭৭ ২২-১১-৭৭
    ২৩. আজিজুর রহমান সার্জেন্ট ৭৭৩৪৩ ২২-১১-৭৭
    ২৪. মহিউর রহমান কর্পোরাল ৪৪০১৪৪ ২২-১১-৭৭
    ২৫. আব দুর রব ল্যান্স নায়েক ৫০০১৮৭ ২২-১১-৭৭
    ২৬. শামসুল হক এলএসি ৮৪৩১০ ২২-১১-৭৭
    ২৭. ইমন আলী ল্যান্স নায়েক ৫০০০৭০ ২২-১১-৭৭
    ২৮. এ কে এম সাইফুল আমিন কর্পোরাল ৮৪৬৩৪ ২২-১১-৭৭
    ২৯. মোফাজ্জল হক কর্পোরাল ৮৪৬৭৯ ২২-১১-৭৭
    ৩০. শামসুল হুদা ল্যান্স নায়েক ৫০০০৮০ ২২-১১-৭৭
    ৩১. কবির হুদা ৭৩৩০১ ২১-১১-৭৭
    ৩২. আফতাব উদ্দিন আহমেদ কর্পোরাল ৮৩২৮২ ২১-১১-৭৭
    ৩৩. এ বি সিদ্দিকী সার্জেন্ট ৭৬৯২২ ২১-১১-৭৭
    ৩৪. আসাদুজ্জামান এলসি ৪৪০১৯৩ ২২-১১-৭৭
    ৩৫. মনোয়ার উদ্দিন সার্জেন্ট ৭৫৯০৩ ২২-১১-৭৭
    ৩৬. খিরাজুল হক মল্লিক কর্পোরাল ৪৪০৪৮৩ ২২-১১-৭৭
    ৩৭. রফিকুল ইসলাম কর্পোরাল ৮৪৮৫১ ২২-১১-৭৭
    ৩৮. মাহবুবুর রহমান কর্পোরাল ৮৩৯৪৫ ২২-১১-৭৭
    ৩৯. জহুরুল হক কর্পোরাল ৮৪৬০৭ ২১-১১-৭৭
    ৪০. শফিকুল ইসলাম নায়েক ৬৮০৩৮৮১ ২৫-১১-৭৭
    ৪১. তোফাজ্জল হোসেন নায়েক ৭৭৫৯৩৬৬ ২৫-১১-৭৭
    ৪২. আজমল হোসেন নায়েক ৭৭৫৯৩৭ ২৫-১১-৭৭
    ৪৩. জহিরুল হক নায়েক ৭৭৫৯৩৬৭ ২৫-১১-৭৭
    ৪৪. মজিবুর রহমান নায়েক ৬২৭৮৮৫৫ ২৫-১১-৭৭
    ৪৫. মিল্লাত হোসেন হাবিলদার ৬২৭৩৫১১ ২৫-১১-৭৭
    ৪৬. তাজুল ইসলাম নায়েক / এসটি ৬৫৭৭০০৬ ২৫-১১-৭৭
    ৪৭. মনির উদ্দিন নায়েক সুবেদার বিজেও ৮০৭০৩ ২৫-১১-৭৭
    ৪৮. গিয়াস উদ্দিন সিগন্যালম্যান ৬২৮৫০৪৯ ২৫-১১-৭৭
    ৪৯. আব্দুল আজিজ সিগন্যালম্যান ৬২৮৫৪৭৫ ২৫-১১-৭৭
    ৫০. নুরুজ্জামান ৭০৫২২৬৮ ২৫-১১-৭৭
    ৫১. আবদুর রহিম ল্যান্স নায়েক ৫০০০৭১ ২৫-১১-৭৭
    ৫২. ইউসুফ আলী সিপাহি ৫০০৬৬৭ ২৫-১১-৭৭
    ৫৩. মকবুল হোসেন হাবিলদার ৬২৭৮১৭৮ ২৫-১১-৭৭
    ৫৪. আবুল হোসেন সার্জেন্ট ৭৫২৬৫ ২৫-১১-৭৭
    ৫৫. তাজুল ইসলাম সার্জেন্ট  ৭৮০৪২ ২৫-১১-৭৭
    ৫৬. এম লিয়াকত উল্লাহ সার্জেন্ট ৮৩৬৮০ ২৮-১২-৭৭
    ৫৭. জালাল উদ্দিন নায়েক ৬২৮৫৬১৮ ২৮-১২-৭৭
    ৫৮. এ কে এম সোলায়মান ৭২৯৮৫ ২৮-১২-৭৭
    ৫৯. মুকতার উদ্দিন ল্যান্স নায়েক ৬২৮২২১০ ২৮-১২-৭৭
    ৬০. বজলুর রহমান সিগন্যাল ৬২৮৪৪৬৩ ২৮-১২-৭৭
    ৬১. নুরুল ইসলাম কর্পোরাল ৪৪০১৮৩ ২৮-১২-৭৭
    ৬২. মোশারফ হোসেন কর্পোরাল ৪৪০৬৫১ ২৮-১২-৭৭
    ৬৩. আবদুল জলিল সার্জেন্ট ৭৪৭৩১ ২৮-১২-৭৭
    ৬৪. সাইদুল ইসলাম কর্পোরাল ৮৪৯৬৪ ২৮-১২-৭৭
    ৬৫. শামসুল আলম সার্জেন্ট ৮০৪৯০ ২৮-১২-৭৭
    ৬৬. আবুল হোসেন মজুমদার সার্জেন্ট ৭৫৩১৮ ২৮-১২-৭৭
    ৬৭. আয়ুব আলী সার্জেন্ট ৭৫৩১৮ ২৮-১২-৭৭
    ৬৮. এম এ বাশার কর্পোরাল ৪৪০০৫৫৮ ১২-১-৭৮
    ৬৯. এ বি সিদ্দিকী কর্পোরাল ৮১৭৭৪ ১২-১-৭৮
    ৭০. আফসার আলী খান সার্জেন্ট ৭৯১১৩ ১২-১-৭৮
    ৭১. আবদুর জব্বার ল্যান্স নায়েক ৩৯৪৯২৮৬ ২৭-১-৭৮
    ৭২. রুহুল আমিন সার্জেন্ট ৭৪৮১২ ২১-১১-৭৭
    বগুড়া কারাগারে যে ১৬ জনের ফাঁসি হয়
    ক্রমিক নং কয়েদি নং নাম ও পিতার নাম ব্যাজ ও পদবি ফাঁসির তারিখ
    ১. ৪১৬২/এ মোঃ মকবুল হোসেন পিতাঃ আশরাফ আলী মণ্ডল সিপাহি নং- ৩৯৫৬৬৪৫৬ ২১-১০-৭৭
    ২. ৪১৬৩/এ মোঃ ওমেদ আলী পিতাঃ রমজান আলী সিপাহি নং-৩৯৫৬৪৩৬ ২১-১০-৭৭
    ৩. ৪১৬৪/এ মোঃ শামসুল আলম পিতাঃ ইয়াকিন আলী সমছদার সিপাহি নং-৩৯৫৩০৮৭ ২১-১০-৭৭
    ৪. ৪১৬৫/এ মোঃ আব্দুর রশিদ পিতাঃ বদরুদজ্জা সিপাহি নং-৩৯৬৪১৭৫ ২১-১০-৭৭
    ৫. ৪১৬৬/এ আবদুল জলিল শেখ পিতাঃ অহেদ আলী শেখ ল্যান্স নায়েক নং- ৩৯৪৯০৪৮ ২১-১০-৭৭
    ৬. ৪১৬৭/এ কেরামত আলী পিতাঃ মৃত মোহাম্মাদ আলী নায়েক নং-৩৯৩৬৯১৫ ২২-১০-৭৭
    ৭. ৪১৬৮/এ সুকুমার চন্দ্র দাস পিতাঃ সতীশ চন্দ্র দাস এনসিএসই নং- ৩৯৫৬৬২ ২২-১০-৭৭
    ৮. ৪১৬৯/এ আফাজ উদ্দিন পিতাঃ ছমির উদ্দিন হাবিলদার নং-৩৯৩৬৯৪০ ২১-১০-৭৭
    ৯. ৪১৭১/এ মোঃ মুসলেম উদ্দিন হাওলাদার পিতাঃ মোঃ অকেন আলী মণ্ডল সিপাহি নং কুক – ৬৮০৯৬৮৫ ২১-১০-৭৭
    ১০. ৪১৭২/এ আবদুল জব্বার পিতাঃ মহিরুদ্দিন ল্যান্স নায়েক নং- ৩৯৪৯২৮৬ ২১-১০-৭৭
    ১১. ৪১৭৩/এ আনছার আলী মোল্লা পিতাঃ হাতেম আলী মোল্লা সিপাহি নং-৩৯৫০৪০৭ ২১-১০-৭৭
    ১২. ৪১৭৪/এ মোঃ ইউনুছ আলী পিতাঃ শেখ আলতাফ হোসেন নায়েক নং-৩৯৫৬২৪৯ ২২-১০-৭৭
    ১৩. ৪১৭৫/এ মোঃ আবদুল বারেক মিয়া পিতাঃ শামসুল হক মিয়া সিপাহি নং-২৯৫৬৫০৫ ২২-১০-৭৭
    ১৪. ৪১৭৬/এ দবির আলী ভুঁইয়া পিতাঃ আলেক ভুঁইয়া সিপাহি নং-৩৯৫৬৫২৩ ২১-১০-৭৭
    ১৫. ৪১৭৭/এ মোঃ আবদুল বারেক ওরফে আবদুল বারী পিতাঃ সাইদ আলী মোল্লা সিপাহি/ জি ডি এ নং ৬৮০৬১৯১ ২২-১০-৭৭
    ১৬. ৪১৭৮/এ আব্দুল জব্বার হাওলাদার পিতাঃ আদম আলী হাওলাদার সিপাহি নং ৩৯৫৬৫১৮ ২১-১০-৭৭
    ১৬ জনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয় ’৭৭ সালের ১৮ অক্টোবর।
    Reference: রহস্যময় অভ্যুত্থান ও গণফাঁসি – জায়েদুল আহসান, pp 97-102  
  • বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রমাণ

    বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে যে নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তার সন্তোষজনক জবাব কখনোই তারা দিতে পারবে না। রহস্যাবৃত কিছু প্রশ্ন: ১. বিডিআর বিদ্রোহের দিন থেকে পরবর্তী দু’দিন খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন? ঘটনার আগের দিন তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাত ১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ বার খালেদা জিয়াকে কল করেন এবং সকাল ৬টার মধ্যে বাসভবন ত্যাগ করতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এ তথ্যগুলো তুলে ধরেছিলেন। শেখ হাসিনা নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া এ জাতীয় ইস্যুতে কখনোই বায়বীয় তথ্য প্রদান করেন না। বিরোধী দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ও কল-রেকর্ডের সূত্র ধরে। এছাড়া সংসদে মিথ্যা বা অযাচিত তথ্য দেয়া হলে তার বিপরীতে প্রতিবাদের ভিত্তিতে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়। তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি উকিল নোটিশ প্রেরণ করেছিল। তাদের উকিল নোটিশ পাঠানোর আরও নজির আছে। কিন্তু সংসদে উপস্থিত থেকেও বিএনপি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগের কোনো জবাব দেয় নি। কেন? ২. বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে জিয়া ইস্পাহানী বাংলাদেশে আসেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার না করার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের প্রস্তাব দিলে জিয়া ইস্পাহানীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন শেখ হাসিনা। যে ব্যক্তি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের প্রতি উপহাস করার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান থেকে এসেছিল এবং প্রধানমন্ত্রী যার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বৈঠক করার উদ্দেশ্য কি ছিল? জিয়া ইস্পাহানীর কার বা কাদের আহবানে বাংলাদেশে এসেছিল? আইএসআই ও বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য ও স্বার্থ যে অভিন্ন এমন মনে না করার কোনো কারণ কি আছে? ৩. নির্বাচনে পরাজিত দলের সাধারণত প্রথমদিকে তেমন কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থাকে না। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি অতীতের সকল ধারা ভঙ্গ করে বিডিআর বিদ্রোহের আগের দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশ থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশ দেয় বিএনপি। পরাজয়ের গ্লানি ও হতাশা দূর করে মনোবল ফিরিয়ে আনা যদি উদ্দেশ্য হয়, সেক্ষেত্রে একমাত্র প্রভাবিত করতে পারেন দলের প্রধান তথা খালেদা জিয়া। অথচ ২৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত সভায় খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন না। বিকেলে বিএনপির সভা শেষ হয়, রাত থেকে শুরু হয় বিডিআর সদস্যদের ক্ষুব্ধ করার অপতৎপরতা। এ ঘটনাকে কাকতালীয় বলার কোনো সুযোগ কি আছে? ৪. পাকিস্তানের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর ও বিডিআর বিদ্রোহের চারদিন আগে জামায়াত নেতা মুজাহিদ দেশত্যাগ করতে চেয়েছিল। তাকে এয়ারপোর্ট থেকে ফিরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি কেন দেশের বাইরে যেতে চেয়েছিলেন? ৫. হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এমন সদস্যদের মধ্যে সিপাহী মাঈন, সুবেদার মেজর গোফরান মল্লিক সহ অভিযুক্তদের বেশিরভাগ বিএনপি আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়া ২২ জনকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৪ জনের চাকুরীর সুপারিশ করে ডিও লেটার ইস্যু করেছিলেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামী ও বিএনপির উপমন্ত্রী সালাম পিন্টু। পিন্টুর সঙ্গেপাকিস্তানী জঙ্গি বাহিনীর সম্পর্ক, আইএসআই এর ঘনিষ্ঠতা ও অস্ত্র পাচারে সংশ্লিষ্টতা ভারত ও বাংলাদেশ, উভয় দেশের তদন্তে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনাগুলোও কি কাকতালীয়? ৬. বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পাঁচ বছর নৈরাজ্য, অরাজকতা, স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর কারণে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। মইন ইউ আহমেদ, মে. জে. সাদিক হাসান রুমী সহ অনেক সেনা কর্মকর্তা জোট সরকারের অপকর্ম তুলে ধরেছিলেন। একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হতে ও দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আর এ ঘটনায় ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতে সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। খালেদা জিয়া ও যুদ্ধাপরাধী নিজামী ক্ষমতায় থাকাকালে জেএমবি ও জঙ্গিদের অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করে জঙ্গিবাদ মিডিয়ার সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশে জঙ্গি না থাকার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে যারা মুফতি হান্নান, বাংলা ভাই, শায়খ রহমান, আতাউর রহমান সানিসহ শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেফতার করেছিলেন, যারা জাতির সামনে জজ মিয়া নাটকের পর্দা উন্মোচন করেছিলেন, তাদের অন্যতম হলেন তৎকালীন বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কর্নেল গুলজার। এ ঘটনাগুলো বিএনপির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ছিল। এছাড়া নিহতদের বেশিরভাগ ২০০৮ এর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বিডিআর প্রধানসহ নিহতদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে অত্যন্ত নৃশংসভাবে। বিশেষ নির্দেশ ছাড়া এভাবে হত্যা মোটেই স্বাভাবিক নয়। তাই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সমীকরণে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষোভ, প্রতিহিংসা ও স্বার্থ কি উপেক্ষা করার মতো? ৭. আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের অল্প দিনের মাথায় সংগঠিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার পরিজনসহ ৭৮ জন নিহত হন। মেজর জেনারেল শাকিল, কর্নেল গুলজারসহ নিহতদের প্রায় সকলেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সমর্থক। এইচ এম এরশাদের ভাগ্নে ছাড়াও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদের জামাতা ক্যাপ্টেন মাজহারুল হায়দার। এই সূর্যসন্তানদের হত্যার ফলে শুধু সেনাবাহিনী নয়, অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে সমগ্র জাতির। কিন্তু রাজনীতির পাল্লায় এ ক্ষতি কি আওয়ামী লীগের হয়নি? ৮. বিডিআর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামীদের পক্ষে যারা আইনি লড়াই করেছেন তাদের প্রায় সকলেই বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীগণের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মোঃ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অন্যতম কৌঁসুলি এস এম শাহজাহান ও ফারুক আহমেদ সাবেক শিবির ও জামায়াত শিবিরের গ্রেফতারকৃতদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবী। অন্যান্যদের মধ্যে টি এম আকবর, জামাল, জহিরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম, সুলতানা আক্তার রুবি, শেখ রাশেদুল হক, মাজেদুর রহমান মামুন, এস এম রেফাজ উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, খন্দকার জামাল, রমজান খান, আব্দুল মান্নান, হুমায়ুন কবির, এমদাদুল হক লাল, সুফিয়া আক্তার হেলেন, আমিনুর রহমান – এরা সকলেই বিএনপিপন্থী বার এসোসিয়েশনের নেতা বা জোট সরকার আমলের পিপি বা বিএনপির আইনজীবী প্যানেলের সক্রিয় নেতা। দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মত স্পর্শকাতর ইস্যুতে অভিযুক্ত খুনিদের পক্ষাবলম্বন করা কি স্বাভাবিক কোনো বিষয়? রাজনৈতিক স্বার্থ না থাকলে কি কেউ এমন হঠকারী পদক্ষেপ নিতে পারে?
  • পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহ – শুধুই বিদ্রোহ নাকি আড়ালে অন্যকিছু ?

    ২০০৯ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় যে নির্মম ‘বিডিআর হত্যাযজ্ঞ’ সংঘটিত হয় তা নিয়ে গত এক দশক ধরে চলেছে বিচিত্র প্রচার এবং অপপ্রচার। বিডিআর হত্যাকান্ড সম্পর্কে উইকিলিকসের প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে তারা বলেছে, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ‘পিলখানা হত্যাকান্ড’ ঘটে। এর মূল লক্ষ্য ছিল- তৎকালীন নতুন আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত ও জঙ্গি বাহিনীর উত্থান এবং বিডিআর বাহিনী ধ্বংস করে দেয়া। 

    বিএনপি জামায়াত সরকারের সহায়তায় যেভাবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ বাংলাদেশে বিস্তার করছিল তাতে সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করেছিল বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামের বেশ কিছু সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যার মূল নেতৃত্বে ছিলেন তারেক জিয়া। ওই সময়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রায় ২০০-রও বেশি ইমেইল আদান-প্রদানের রেকর্ড বিশ্লেষণে এসব তথ্য প্রকাশ করে উইকিলিকস।

    সরকার পতনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সময়টিকে বেছে নেয়া হয় যা ছিল শেখ হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর সম্পূর্ণ নাজুক সময়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবি-দাওয়ার আড়ালে মূল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ করে পাকিস্তান। ২৫ তারিখ সকালে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টু পিলখানায় ঢুকতে সহায়তা করে পাকিস্তানের ১৫ জন শুটারকে। পুরো পরিকল্পনা ও কলকাঠি ছিল তারেক জিয়ার হাতে। ঘটনার দিন সকাল থেকে বাংলাদেশে বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন মিডিয়া গুলো মনগড়া তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিব্রত করতে থাকে। বিদ্রোহের দিন পাকিস্তান বিমানবাহিনী বাংলাদেশ সরকার উৎখাতে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।

    বিদ্রোহ শুরু হবার আগেই খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় তারেক। যা পরবর্তীতে কল লিস্টের মাধ্যমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন। সকাল বেলা খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বাসা ছেড়ে প্রথমে পাকিস্তান হাইকমিশনে যান এবং পরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। যিনি দুপুর ১টার আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, তিনি কেন সকাল সাড়ে সাতটায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেন?

    পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচার শুরু হলে বিএনপির সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ প্রায় ২৫ জনের মতো আইনজীবী খুনিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, তাঁরা এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে নীতি ও আদর্শগতভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো।

    হত্যাযজ্ঞে যেসব জোয়ান সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে ডিএডি তৌহিদ, সিপাহী মাঈন, সুবেদার মেজর গোফরান মল্লিকসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা সবাই জামাত-বিএনপির জোট সরকারের আমলে বিডিআরে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল। হত্যাযজ্ঞের পর টাঙ্গাইল থেকে যে ২২ অপরাধী বিডিআর জোয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের নিয়োগ হয়েছিল বিএনপির উপমন্ত্রী সালামের সরাসরি সুপারিশে। এদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটি ‘কিলিং স্কোয়াড’ বিডিআর বাহিনীতে গোপনে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছিল এই ভাবনা থেকে যে, যদি জোট সরকার ক্ষমতায় আসতে না পারে তাহলে পরবর্তী সরকারকে উৎখাত করে পুনরায় যাতে তাদের ক্ষমতায় আসার রাস্তা সুগম হয়।

    ঘটনার দুদিন পর গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে জনসমক্ষে এসে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ভাষায় খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি হয়তো চেয়েছিলেন যাতে সেনাবাহিনী বিডিআর ও গণভবনে হামলা চালায়। এমন ঘটলে বিডিআরে হতাহতের সংখ্যা ২০ হাজার বা তারও বেশি হয়ে যেতো।

    একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের জানিয়ে রাখি, মেজর জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৭-১৯৮১ সাল পর্যন্ত সংঘটিত ২১টি সামরিক অভ্যুত্থানে ২০০০-এর বেশি সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্য নিহত হলেও সেই অভ্যুত্থানের কোন দৃশ্যমান বিচার হয়নি। এমনকি অনেক মামলার নথিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সামরিক সদস্যদের হত্যা করা বিএনপির অনেক পুরোনো অভ্যাস। যে ষড়যন্ত্রের শুরু মেজর জিয়ার হাত ধরে যা এখনো তারেক জিয়া চলমান রেখেছে।

  • বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড বার্গম্যান সম্পর্কে যা জানা জরুরি

    ডেভিড বার্গম্যান হলো সেই লোক, যিনি প্রতিহিংসার বর্শবর্তী হয়ে সাংবাদিকতা করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাই যার মূল লক্ষ্য। বার্গম্যান মূলত নিজেকে পরিচয় দেন একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক হিসেবে, যিনি অনেক বছর বাংলাদেশ অবস্থান করেছেন এবং একটা বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে নিজের ব্লগে লেখালেখি করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার শুরু হলে তা নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখি করেন বার্গম্যান। তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অধিকাংশ লেখাতেই তিনি শুধু সেইসব মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, যারা বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আর এটা সবাই জানে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান সহযোগী, যাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানিরা এদেশে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই লেখালেখি শুরু করেন বার্গম্যান এবং ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর তিনি এবিষয়ে সর্বশেষ লেখা লিখেছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া কিন্তু এখনো চলছে। তবে বার্গম্যান আগে যেমন সক্রিয়ভাবে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য লিখতেন, এখন আর এখন লিখছেন না। কিন্তু কেনো? তার এতো আগ্রহ-উদ্যম হঠাৎ থেমে গেলো কেনো? কারণটা পরিষ্কার। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও জামায়াতের যেসব নেতা অভিযুক্ত ছিল, তাদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তাই এরপর থেকে তিনি আর এই বিষয়ে সক্রিয় নন। এতেই বোঝা যায় যে, তিনি এই মুক্ত-সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে আসলে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং এজন্য তিনি বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। কেনো বাংলাদেশ নিয়ে বার্গম্যানের এতো আগ্রহ? নিজের লেখা এক ব্লগে বার্গম্যান এটাও দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আসলে ত্রিশ লাখ মানুষ মারা যায়নি। তার দাবি, এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র তিন লাখ! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বার্গম্যানের এই দাবির তুলনায় হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ছিল দশ গুণ। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুদ্ধের পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এই চক্রটি নিজেদের ঘৃণ অপরাধ ঢাকার জন্য শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে নিহতের কমিয়ে বলার চেষ্টা করে আসছে। ডেভিড বার্গম্যান তাদের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এবং সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বিচারাধীন বিষয়ে উস্কানি ছড়ানোর দায়ে একপর্যায়ে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ইতিহাস বিকৃতির দায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে অভিযুক্ত করে। সোজা কথায়, আমরা যদি এই স্বঘোষিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক বার্গম্যানকে চিহ্নিত করতে চাই, তাহলে তাকে একজন ফড়িয়া বা দালাল ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। শুনতে বেখাপ্পা লাগলেও এটিই সত্য। নির্মম বাস্তব এটাই যে, বার্গম্যান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিয়ম একটি বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। বার্গম্যান নিজের ব্লগ ছাড়াও বিডি পলিটিকো নামে আরো একটি ব্লগ পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পক্ষের ফুটফরমায়েস হিসেবেই আর্টিকেল লেখেন। এই ব্লগে তার লেখার অন্যতম বিষয়গুলো হলো: বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে আক্রমণ করা, এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো। বার্গম্যানের পরিচয় এবং কর্মজীবন আসলে কেমন? এই তথাকথিত সাংবাদিক নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও তার ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে জানা প্রাসঙ্গিক। তিনি ড. কামাল হোসেনের জামাতা। আর এই ড. কামাল হলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের প্রধান সমন্বয়ক। এই কারণেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘ সময় লেখালেখি করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন বার্গম্যান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে লবিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও লন্ডনে, এসবের সঙ্গেও তিনি জড়িত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন অভিযুক্ত যে পরবর্তীতে দণ্ডিত হয়েছে, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ম্যানেজ করতেই ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এই বার্গম্যানের রাজনৈতিক যোগাযোগ এতোটাই ঘনিষ্ঠ যে তা চাইলেও অস্বীকার করার উপায় নাই। এমনকি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গেও তাকে আন্দোলন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় অপেশাদার ও উদ্ধত আচরণের জন্য দ্য নিউ এজ পত্রিকা এবং বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম থেকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে ডেভিড বার্গম্যানকে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার অভিযোগ ছিল। এবং এই কারণেই মূলধারার গণমাধ্যমে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। এরপর বিদেশে অবস্থান করা কিছু নামধারী সাংবাদিকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর একটি নেত্র নিউজ নামে আরেকটি নিউটসাইটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এবং নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেন। কী চায় বার্গম্যানরা? বার্গম্যান বিদেশে থাকা বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং বিএনপি-জামায়াতের আরো ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত বানোয়াট সংবাদ তৈরি করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অপপ্রচার চালান। সম্প্রতি এই চক্রটি ফেসবুক এবং ইউটিউবেও লাইভ বক্তব্য দিয়ে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। মানুষের আরো কাছে পৌঁছার জন্য এদের প্রচেষ্টা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ডেভিড বার্গম্যান, ক্যাডম্যান, লা কার্লিলি, ড. ঘুমডি, দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়্যারসহ আরো বেশকিছু প্লাটফর্ম তাদের পক্ষে কাজ করছে। এই চক্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- তাদের অর্থের জোগানদাতা বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি ও দুর্বত্তায়নের ঘৃণ্য ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বার্থে কাজ করা। তারেক-এসকে সিনহা-ড. কামালকে একত্র করা হয় যেভাবে অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খুনের জন্য সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির তারেক রহমান এই ডেভিড বার্গম্যানের সহায়তায় ড. কামালের সঙ্গে সরকারবিরোধী জোট গড়ে তোলেন। ড. কামাল হোসেনের জামাতা বার্গম্যান মূলত সরকারবিরোধীদের এক প্লাটফর্মে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে, সেই সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে বসে এখন তারেক রহমান এবং ড. কামালদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে কাজ করেছে। ডেভিড বার্গম্যানই ড. কামাল-তারেক রহমান-এস কে সিনহার মধ্যে এই সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু এই ত্রয়ীর বিভিন্ন অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, এখন তারা ভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, দেশেের প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়াচ্ছে।
  • শহীদ শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) হাটহাজারীতে জীবনের শেষ তিন দিন

    হাটহাজারী মাদরাসায় আন্দোলন আল্লামা শফীর মর্মান্তিক মৃত‌্যু আসলে কী ঘটেছিল?

    ঘটনার সূত্রপাত

    ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার। অন‌্যদিনের মতোই শুরু হয়েছিল বুধবার দিনটি। সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীও সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। হজরতের ছেলে আনাস মাদানী ঢাকায় ছিলেন। দুপুরে হজরত জোহর নামাজ পড়লেন। নামাজ পড়ে দারুল হাদিসের ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় দাওরার কিছু ছাত্র হুজুরের কামরায় প্রবেশ করে বলল, ‘হুজুর, দুপুরের খাবার খেয়ে নিন।’ হুজুর বললেন, ‘এখন না, আমি দরস শেষ করে এসে খাব।’ হুজুরকে দারুল হাদিসে নিয়ে যাওয়ার জন‌্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে (জোহরের নামাজের পর) মাঠে হৈ চৈ-এর আওয়াজ শুনতে পেয়ে একজন শিক্ষক হজরতের কামরায় এসে খবর দেন, ছাত্ররা মাঠে চিৎকার করছে, আনাস মাদানীর বহিস্কারের দাবি জানাচ্ছে। সম্পূর্ণ বইটি পড়তে ও ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন নিচের লিংক এ

    ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন  

  • অতিরিক্ত লবণ কেনায় গ্রেফতার ৩

    প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ কিনে বাড়িতে ফেরার পথে হাতে নাতে ধরা পরলেন পাবনার আবদুল খালেক নামে এক ব্যক্তি। সরজমিনে জানা যায়, পাবনার চাটমোহরের স্থানীয় বাজরে লবণ কিনতে যায় আবদুল খালেক। তিনি নিজেই ১২ থেকে ১৫ কেজি লবণ কেনেন একাধিক দোকান থেকে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহয়তায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এদিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ কিনে বাড়িতে মজুদ করে রাখলে ভোক্তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশীদ। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার পরিদর্শনের পর তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। শামীম অর রশীদ বলেন, ‘বিক্রেতাদের মধ্যে দাম বাড়ানোর কোনো প্রবণতা আমি দেখিনি। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যতটুকু লবণ প্রয়োজন ততটুকু কেনার। দোকানদারদের আমরা বলেছি, কেউ যদি বেশি লবণ কিনতে চায় তাহলে আমাদের যেন জানানো হয়। আমরা তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করবো, এক সপ্তাহে তার লবণের দরকার এক কেজি, কেন আপনি একসঙ্গে দশ কেজি লবণ কিনছেন। তিনি বলেন, এই রকম মজুদদারি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এদিকে কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার কাছে এক কাস্টমার ফোন করে বললেন, আমার জন্য দুই কেজি লবণ রাইখো। সঙ্গে সঙ্গে আরো দুইটা ফোন আসলো। সবাই লবণ আছে নাকি জানতে চাইলো। তারাও বললো লবণের কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি। আমি এসিআই কম্পানিতে ফোন দিলে সেখান থেকে আমাকে জানালো, গোডাউনের পর্যাপ্ত লবণ আছে। কোনো দাম বাড়েনি। কিছু অসাধু লোক ফেসবুকে এগুলো ভাইরাল করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এজন্য যার সারা মাসে এক কেজি লবণ লাগে না, সে দশ কেজির জন্য পাগল করে ফেলছে। তিনি বলেন, আমি বেলা তিনটার দিকে বাজারে (দোকানে) আসলাম। লবণের জন্য মানুষ যে কি করছে, না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। আমি সারাদিন দোকানে বসে দশ কেজি লবণ বিক্রি করতে পারি না। আর আজ একজন মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। সে পঁচিশ কেজি লবণ মোটরসাইকেলে তুলে ধাক্কায় ধাক্কায় নিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, কি হয়েছে? সে বলে, কইয়েন না কইয়েন না, দুইশ টাকা কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা কম-বেশি ১ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে লবণের মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরণের ঘাটতি বা সংকট হবার প্রশ্নই ওঠে না। লবণের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, কিন্তু অপপ্রচার চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপপ্রচারের কারণে কিছু জায়গায় লবণের দাম বেড়েছে। দামবৃদ্ধির জন্য সাংবাদিকদেরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
  • আবরার হত্যাকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছে জামাত-শিবির

    বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েক নেতার হাতে নিহত মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের খুনিদের বিচারের দাবির আড়ালে মাঠে নেমেছে জামাত-শিবির। আবরার হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভয়াবহ নাশকতার চক্রান্ত শুরু করেছে ছাত্র শিবির। গেল তিন দিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছে তারা। একইদিকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী হত্যা করে তার দায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উপর চাপানোর পরিকল্পনার খবর হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে অস্থিরতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেয়ার চক্রান্ত করছে বিএনপি-জামাত চক্র। শিবিরের শীর্ষ কয়েক নেতার হাত ধরে আন্দোলনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে জামায়াত-শিবির ও তাদের মদদপুষ্টদের হাতে। শিবিরের বাঁশের কেল্লাসহ প্রতিটি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া হচ্ছে উস্কানি। তথ্য মিলছে আন্দোলনে লন্ডন থেকে ফান্ডিংয়েরও। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এবং বিভাগীয় শহর রংপুরে মিছিল করে শক্তি জানান দেয়ার চেষ্টা করছে তারা। মিছিলে বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ শ্লোগান ব্যবহার করে সরকার পতনের হুমকি দিয়েছে এই ছাত্র সংগঠনটি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়ে দেশকে অশান্ত করার পায়তারা করছে ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন কর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিবির নেতা জানান, আবরার হতাকান্ডে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বেশিরভাগই জামাত-শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ছাত্রলীগের পদদারী নেতা হয়েছে। আবরার হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা রবিনের দাদা জামাত থেকে দাড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচনও করেছে। সে গত রমজান মাসে জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছে।