পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে খালেদার ১৫ই আগস্ট জন্মদিন পালন শুরু

0
2

১৯৯২ সালের ৩ আগস্ট। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে এক ফোন এলো। ১৯৭৫ এর আত্মস্বীকৃত ৩ খুনির পদোন্নতি দিতে হবে। এদের একজন মেজর ডালিম, অন্যজন নূর, তৃতীয় জন মেজর আজিজ পাশা। পরদিনই বেগম জিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন পদোন্নতি সংক্রান্ত ফাইল তৈরি করতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত লে. কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের প্রতি অনুগত। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তিনি দ্রুত ফাইল তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠালেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীকে বললেন ‘ম্যাডাম, আমরা কেন এসব খুনিদের দায়দায়িত্ব নেব?’ বেগম জিয়া, কোনো কথা না বলে, ফাইলে স্বাক্ষর করলেন।

১৩ আগস্টের তিন খুনির পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হলো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, একজন ভিআইপি গেস্ট তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। বেগম জিয়া সময় দিলেন, ১৪ আগস্ট রাতে। রাত সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়ার বাসায় আমন্ত্রিত অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক, মেজর (অব.) ডালিম, পাকিস্তান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক। আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক। তিনিই ভিআইপি গেস্ট। কিছুক্ষণ গল্পের পর, ডিনার হলো তারপরও অতিথিরা ওঠেন না। রাত বারোটার কিছু আগে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আলোচনা থেকে উঠে গেলেন। বাইরে তাঁর গাড়িতে রাখা একটা ঢাউস সাইজের কেক আনলেন। বললেন ‘ লেটস সেলিব্রেট ফিফটিনথ আগস্ট।’ কেক কাটা হলো, ঠিক বারোটায়।’

পরদিন সকালে পাকিস্তান দূতাবাস থেকে বেগম জিয়ার জন্য পাঠানো হলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা ফুল। বেগম জিয়ার সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা তো অবাক। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং দৌড়ঝাপ শুরু করল। তথ্য ঘাটতে গিয়ে তাঁরাও পড়ল বিপত্তিতে। বেগম জিয়ার মাধ্যমিক পরীক্ষার (এস.এস.সি) সার্টিফিকেট অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ৯ আগস্ট ১৯৪৫। বিয়ের সার্টিফিকেট অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫, আর পাসপোর্টে ১৯ আগস্ট ১৯৪৫। বেগম জিয়ার পুরোনো ভৃত্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো। তারা জানাল জিয়ার জীবিতকালে বেগম জিয়ার জন্মদিন তেমন হতো না। জিয়া মারা যাওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর কেক-টেক কাটা হতো, এই আর কি। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফরা কী করবেন বুঝে ওঠার আগেই, ফ্রিডম পার্টির চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুকের পক্ষ থেকে এলো দ্বিতীয় ফুল। এরপর এলো দৈনিক মিল্লাতের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। ব্যস, স্টাফরা বেগম জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল।

৯৩-৯৪ সালে আর ঘটা করে জন্মদিন পালন হয়নি। বরং স্টাফরা কেউ ৯ আগস্ট, কেউ ৫ সেপ্টেম্বর শুভেচ্ছা জানিয়ে বিব্রত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্য কেক আর ফুল এসেছে পাকিস্তান দূতাবাস থেকে।

১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা হারায়। ১৯৯৬ সালে ১৫ আগস্ট প্রথম জাতীয় ভাবে শোক দিবস পালিত হয়। শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হবার সঙ্গে সঙ্গেই আবার সেই ফোন। এবার আর ঘরোয়া ভাবে নয়। ঘটা করে বিভৎস কায়দায় উৎসব করা শুরু হয়। এটা কি জন্মদিন পালন নাকি, খুনিদের উল্লাস দিবস, এ প্রশ্ন খোদ বিএনপিতে উঠলেও পরে পদ-পদবী হারানোর ভয়ে সবাই চুপ হয়ে যায়।

অনেকদিন পর, বেগম জিয়ার এক ব্যক্তিগত স্টাফ ঘরোয়া আলাপচারিতায় ঘনিষ্টদের বলছিলেন, বেগম জিয়ার কাছে প্রায়ই ফোন করতেন আইএসআইয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন আইএসআইয়ের আবিস্কার। এই ব্যক্তি যতোবার বাংলাদেশে এসেছেন বেগম জিয়া প্রটোকল ভেঙ্গে বিমানবন্দরে তাঁকে রিসিভ করেছেন।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here