ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে খালেদা-তারেক দ্বন্দ্ব ; পরে হাতাহাতি

1
8

সময় যতো গড়াচ্ছে খালেদা-তারেক সম্পর্ক ততোই তিক্ত হচ্ছে। এই তিক্ততার শুরু মূলত ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের পর থেকে। যিনি তারেক সমর্থক তার ছায়াটিও মারাতে চান না খালেদা জিয়া আর খালেদা জিয়ার সমর্থকেরটা তারেক। আর এভাবেই দিন দিন ভেঙ্গে যাচ্ছে দলের কাঠামো।

সম্প্রতি বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছেন দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এ নিয়ে শনিবার রাতে বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খালেদা জিয়া আবারো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা ব্যক্ত করলে বাঁধ সাজে তারেকপন্থী নেতারা। এই নেতারা খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। হতবম্ভ হয়ে যান খালেদা জিয়া। দলের নেতা কর্মীদের কাছ থেকে এমন প্রস্তাবে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পরে পুরো সভাকক্ষ জুড়ে। কিন্তু তারেকপন্থীরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল। তারা তারেক ছাড়া আর কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান না। বসে নেই খালেদাপন্থী রাজনীতিবিদেরাও। তারা তারেককে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে হৈচৈ করতে শুরু করে। হৈচৈ রুপ নেয় হাতাহাতিতে।

হাতাহাতি যখন চরমে তার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া সভা বন্ধ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু তারেকপন্থী নেতারা এর একটা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সভাকক্ষ ছাড়বেননা বলে হুশিয়ারি দেন। বাধ্য হয়েই খালেদা জিয়া তাদের কথা শুনতে বসলে তারেকপন্থী নেতা মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ”এখন রাতে ঘুমালে সকালে কারো সাহায্য ছাড়া উঠতে পারেন না। সকালে ওঠার পর আপনাকে দীর্ঘসময় ফিজিওথেরাপি নিতে হয় তারপর পা টেনে টেনে সামান্য হাঁটতে পারেন। খুব বেশি হাঁটতেও পারেন না। আপনার কি উচিত নয় বিএনপির এই নেতৃত্ব থেকে সরে আসা? আপনি এই বয়সে এসেও যদি প্রধানমন্ত্রী হতে চান তবে এই ক্ষতিটা বিএনপিরই বয়ে বেড়াতে হবে।”

কথা শেষ না হতেই খালেদাপন্থী নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফকরুলকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ”তারেক এখনো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো সিনিয়র হয়ে উঠেননি। তাকে কিছু জুনিয়র নেতা ছাড়া কোন সিনিয়রই ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। যদিও তিনি লন্ডনে আছেন, তারপরেও পশ্চিমা দুনিয়া তারেক রহমানকে অস্ত্র চোরাচালান ও জঙ্গি হামলার মদদদাতা হিসেবেই জানে।”

বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা বলেন, ”বিএনপি ডুবেছে তারেক রহমানের জন্যে। তারেক রহমান বিএনপির কিছু অসৎ কর্মীর কাছে জনপ্রিয়, তবে বিএনপির সিনিয়র ও শিক্ষিতজনের কাছে মোটেই জনপ্রিয় নন। তাছাড়া চট্টগ্রাম অস্ত্র চোরাচালান ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ওই দুই মামলার আসামীদের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে।”

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কে হচ্ছে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এর কোন সুরাহা না করেই ঐদিনের মতো সভাকক্ষ ত্যাগ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তবে এই অন্তঃকোন্দল বিএনপি এতো সহজে শেষ করতে পারবে বলে মনে করছেনা বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা।

comments

1 COMMENT

  1. ফুল ফুটুক , সুবাস এমনিতেই বেরুবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here