‘প্রোডাক্টিভ রমাদানে’র আড়ালে সক্রিয় হচ্ছে শিবির!

0
44
শিবির

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীতাকারী দল জামায়াত ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গোপনে সক্রিয় রয়েছে। ক্যাম্পাসগুলোতে রাষ্ট্র বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শিবিরের বিরুদ্ধে। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের সক্রিয়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদগুলোতে ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আড়ালে কর্মী সভা করছে শিবির। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে এমন মসজিদ কেন্দ্রীক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীতাকারী দলের ছাত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের প্রবেশকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে আন্দোলনে নামানোর পিছনেও শিবিরের হাত রয়েছে। জানা গেছে, বুয়েটে সাংবাদিক সমিতি নামে একটি সংগঠন রয়েছে, তবে সেখানে কোন পত্রিকা বা টেলিভিশনের সাংবাদিক নেই। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মইন উদ্দিন সহ আরো ৪ জন টাঙ্গুয়ার হাওরে রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। সাংবাদিক সমিতির পেজ ব্যবহার করে গত ২৮ মার্চ সেহরির সময় গুজব ছড়িয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উস্কানি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইফতার পার্টি আয়োজনের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে ছাত্র শিবির। ইতিমধ্যে গণইফতারসহ বিভিন্ন ব্যানারে ক্যাম্পাসগুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি। প্রথম রমজানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্ত্বরে গণইফতারের আয়োজন করে একদল শিক্ষার্থী। সূত্র জানায়, ওই গণইফতার আয়োজনের নেতৃত্ব দিয়েছে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

এছাড়াও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুয়ায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইফতার আয়োজন করে শিবির। তবে সরাসরি শিবিরের ব্যানারে না হওয়ায় তেমন কোন বাধার মুখে পড়ছে না তারা।

[‘প্রোডাক্টিভ রমাদানে’র আড়ালে সক্রিয় হচ্ছে শিবির!]

গণইফতারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসগুলোতে ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা করছে ছাত্র শিবির। এই প্রোগাম সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন একটি মসজিদে আয়োজন করছে শিবির। সেখানে তাদের কর্মীরা ইসলাম প্রচারের নামে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মসজিদে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে উগ্রপন্থায় ধাবিত করছে শিবির। গত ১৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ার মসজিদে ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে একদল শিবির কর্মী। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধায় সেই প্রোগাম পন্ড হয়ে যায়।

সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক শিবিরের সাথী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে ইফতার আয়োজন ও ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা করতে সমস্যা কোথায়? বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আমরা সবসময় সম্প্রীতি বজায় রেখেছি। অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীরা যখন তাদের ধর্মীয় উৎসব ক্যাম্পাসে জাঁকজমকভাবে পালন করে, তখন তো তাদের কেউ বাধা দেয় না। বরং তাদের আমরা সহযোগিতা করি। তাহলে আমাদের ধর্মচর্চায় বাধা কেন?

‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ প্রোগ্রামের বিষয়ে শিবিরের এই সদস্য বলেন, হ্যাঁ, এটা শিবিরেরই প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়। এর সঙ্গে রাজনীতি কোনও যোগসূত্র নেই। আমরা যেহেতু মুসলিম, ইসলাম সম্পর্কে আমাদের পুরোপুরি ধারণা থাকা প্রয়োজন। ইসলাম শুধু নিজে জানার জন্য না। ইসলামে কী আছে না আছে— সেটা সবার জানা উচিত।

[‘প্রোডাক্টিভ রমাদানে’র আড়ালে সক্রিয় হচ্ছে শিবির!]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিবিরের আরেক সদস্য বলেন, প্রত্যেকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের শক্ত অবস্থান আছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে শিবির আলাদা স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করে। যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের যে কার্যক্রম চলমান আছে, এর সঙ্গে জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বুয়েটে কর্মকাণ্ডের মিল নেই।

এই সদস্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিবিরের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা। সপ্তাহে আলোচনা সভা, মাসিক আলোচনা সভা, নিয়মিত রিপোর্ট পেশ করার ক্ষেত্রে এরা যথেষ্ট অ্যাক্টিভ।

আরও পড়ুনঃ

যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি নেতা খোকার পাচারকৃত শতকোটি টাকার সম্পত্তির হদিস, দায়িত্ব নিচ্ছে না পরিবার

বুয়েটে সাংবাদিক সমিতি দখল করে গুজবের মাধ্যমে আন্দোলন করাচ্ছে শিবির

শিবির-হিযবুত নিয়ে যেমন-তেমন, শুধু ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কেনো বুয়েটে আন্দোলনকারীদের?

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here