“আসল বিএনপি”র নেপথ্যে রিজভী, শীঘ্রই বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন!

1
2

বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘দখল’ নিয়ে বিএনপি ও ‘আসল বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে গত ২জানুয়ারি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে খালেদাপন্থি বিএনপি এবং জিয়াপন্থি বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

মূলত জিয়াপন্থি বিএনপির নেতাকর্মীরা বিকেল ৪টার কিছুক্ষণ আগে একটি মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয় দখল করতে গেলে, কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত খালেদাপন্থি নেতাকর্মীরা জিয়াপন্থিদের উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

তবে সংঘর্ষের খবর ছাপিয়ে বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে জিয়াপন্থি বিএনপি নেতা কামরুল হাসান নাসিমের সম্পর্কের কথা মূল আলোচনায় চলে আসে।

বেশকয়েকজন খালেদাপন্থি বিএনপি নেতার মতে, কামরুল হাসান নাসিম বিএনপির কোন একজন সিনিয়র নেতার যোগসাজশেই কেন্দ্রীয় অফিস দখল করতে এসেছিল। তাদের মতে, জিয়াপন্থি কামরুল হাসান নাসিম ঠিক এমন সময়ই কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখল করতে এসেছিল যখন কার্যালয়ে রুহুল কবির রিজভী ছাড়া আর কোন সিনিয়র নেতাই উপস্থিত ছিল না। তাদের মতে সিনিয়র কারো কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পেলে এমনটা সম্ভব না। যদিও সংঘর্ষের বেশ খানিকটা পরে গয়েশ্ব‌র চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হন।

এদিকে জিয়াপন্থি বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা জানান, “ আমাদের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে একথা জানানোর পরও রুহুল কবির রিজভী তাৎক্ষনিকভাবে কোন নির্দেশনা না দিয়ে উল্টো জিয়াপন্থি নেতা কামরুল হাসান নাসিমের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য বলেন। জিয়াপন্থিরা আদর্শিকভাবে ঠিক থাকলে তাদেরও এই কার্যালয়ে বসার অধিকার আছে বলে মন্তব্য করেন।”

মূলত জিয়াপন্থি কামরুল হাসান নাসিমের পেছনের মূল চরিত্রটি রুহুল কবির রিজভী কিনা এ নিয়ে জিয়াপন্থি বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে এখন জোড় গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। এদিকে খালেদাপন্থি বিএনপি থেকে রুহুল কবির রিজভীকে বহিষ্কারেরও দাবি উঠেছে।

খালেদাপন্থি বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীই মনে করেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখল করতে আসার পেছনে রিজভীর সরাসরি ইন্ধন আছে। কাজেই রিজভীকে এখনি দল থেকে বহিষ্কার না করা হলে অনেক নেতাকর্মীই জিয়াপন্থি বিএনপিতে যোগ দিতে পারে।

রুহুল কবির রিজভীর বহিস্কারের দাবির বিষয়ে মউদুদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে অবগত আছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই খালেদা জিয়ার নির্দেশে ফখরুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান।

এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে জিয়াপন্থিদের সঙ্গে রিজভীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুই-একদিনের মধ্যেই তদন্তের রিপোর্ট খালেদার জিয়ার কাছে পেশ করা হবে। এ থেকে বলাই যাই খুব শীঘ্রই খালেদার বিএনপি থেকে বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী।

comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here