গণতন্ত্র অস্থিতিশীল করতে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড চালায় বিএনপি-জামায়াত!

0
27
পিলখানা হত্যাকান্ড

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী ১৯ বার অভ্যুত্থান করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বিএনপি -জামায়াত ২০০৯ সালে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের ৫৭ কর্মকর্তাকে হত্যা করে। নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের ১৫তম বার্ষিকীতে বিএনপি জামায়াত ওই ঘটনার জন্য সরকারকে দোষারোপ করে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে।

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমান থেকে শুরু করে তার অন্যান্য অনুগত সহযোগীরা জামায়াত সমর্থিত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিডিআর বিদ্রোহের জন্য আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করেছেন। এমনকি তারেকের অনুগতরা অভিযোগ উল্টাতে যাওয়ার পরেও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা উদ্বেগজনক মোড় নিয়ে যায়, যা সর্বশেষ নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতারা অগ্নিসংযোগের হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে করেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগেও বিএনপি-জামায়াত অগ্নিসংযোগ করে সরকারের ওপর দোষ চাপানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কী ঘটেছিল সেদিন:

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা সদস্যগুলো ২০০৮ সালে বাংলাদেশে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়। এছাড়া বেশিরভাগ সেনা কর্মকর্তাই জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিএনপি-জামায়াতের আমলে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশে সরকারের পাশাপাশি একটি ছায়া সরকার পরিচালনা করতেন। তার মদদে ওই সময়কার মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতারা সরাসরি জঙ্গিবাদকে সমর্থন দিয়েছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পিত এই জঘণ্য হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ দিন আগে, জিয়া ইস্পাহানি নামে একজন মধ্যস্থতাকারী বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং সদ্য নির্বাচিত শেখ হাসিনাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের চার দিন আগে দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত শীর্ষ জামায়াত নেতা মুজাহিদ।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ পরিকল্পনার অংশ ছিলেন তারেক ?

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের কয়েক ঘণ্টা আগে তারেক তাঁর মা খালেদা জিয়াকে লন্ডন থেকে চল্লিশ বারের বেশি ফোন করেন। তিনি খালেদাকে সকাল ছয়টার মধ্যে খালেদা জিয়াকে সকাল ছয়টার মধ্যে সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ থেকে বুঝা যায়, বিডিআর বিদ্রোহের পরিকল্পনার কথা জানতেন তারেক।

তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে ফোন দেন। বিদ্রোহে যে সমস্ত সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের সবাই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আর এই জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তারেক। এই জঙ্গিরাই ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করতে চেয়েছিল। তাদের সঙ্গে সখ্য ছিল বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানের।

রায়ে কী বলা হয়েছে?

বিডিআর বিদ্রোহের রায়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া”, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এই বিদ্রোহ। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো ছিল অপ্রতিরোধ্য কিন্তু সেই সরকার দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বিডিআর বিদ্রোহের মাত্র ৪৮ দিন আগে দেশের ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

রায়ে আরও বলা হয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল একটি গণহত্যা। দশের যোগ্য সন্তানদের সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করা, সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে সংঘাতের পথে ফেলে নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করা, বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং জাতিসংঘে দেশটির অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করাই ছিল বিডিআর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য।

খুনিদের পক্ষে লড়াইয়ে বিএনপির আইনজীবি

বিডিআর বিদ্রোহে অভিযুক্ত খুনিদের পক্ষে আইনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মোঃ জয়নুল আবেদীন, টিএম আকবর, শেখ রাশেদুল হক, মাজেদুর রহমান মামুনসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। অন্যদিকে, এসএম শাহজাহান এবং ফারিক আহমেদসহ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে লড়াই করা আইনজীবীরাও খুনিদের পক্ষে লড়াই করেছেন।

এছাড়া এমদাদুল হক লাল, সুফিয়া আক্তার হেলেন, আমিনুর রহমান, আব্দুল মান্নান এবং হুমায়ুন কবিরের মতো বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে লড়েছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএনপি জামায়াত হাইকমান্ডের সম্মতি ছাড়া খুনিদের পক্ষে এত আইনজীবীর সম্পৃক্ততা সম্ভব হতো না।

খুনিদের নিয়োগের সুপারিশ করেছেন তারেকের অনুগত পিন্টু:

তারেকের একজন শীর্ষ সহযোগী ছিলেন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিডিআর বিদ্রোহে হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য ১৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন বলে । এই খুনিরা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পর পালিয়ে যান। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পিন্টু পাকিস্তান ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি তারেকের নির্দেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। কানাডার একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক বলেন, তারেক সরাসরি জঙ্গিবাদে অর্থ যোগান দিয়েছিলেন কারণ তিনি এই দলগুলোকে ক্ষমতার দখল শক্ত করার জন্য অপরিহার্য মনে করেছিলেন।

তৃণমূলের ক্যাডারদেরকেও কাজে লাগায় বিএনপি:

২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ ছিল। এটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্যাডারদের ঢাকায় এনে জড়ো করে বিএনপি। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় সমাবেশ হলেও দলের প্রধান খালেদা সেদিন উপস্থিত ছিলেন না। আর ওই সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই রায়লি হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের আগে বিএনপি নেতারা দলীয় ক্যাডারদের একত্রিত করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল। খুনিদের পালাতে দাঙ্গাবাজদের সাহায্য করার প্রচেষ্টা হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here