চাঞ্চল্যকর: নেতা-কর্মীদের নামে মামলা নিয়ে বিএনপির ধান্দাবাজি ফাঁস

0
15
নেতা-কর্মী

রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত বিষয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। সহিংসতা ও নাশকতার তথ্য-প্রমাণ সত্ত্বেও এসব মামলাকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দাবি করে বিএনপি নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। লবিস্ট ফার্মগুলোকে দিয়ে মানবাধিকার সংস্থার কাছে নালিশ করেন মিথ্যা তথ্য দিয়ে। সঠিক তথ্য-উপাত্ত জেনেই বিএনপি নেতারা দাবি করেন তাদের লাখ লাখ নেতা-কর্মী নাকি কারাগারে! প্রকৃত তথ্য তারা চেপে যান।

বিএনপির প্রতি নমনীয় একটি সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা। সেখানে গত ২৪শে জানুয়ারি প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে বিএনপির দাবি অনুসারে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে দেড় লাখ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির ৫০ লাখের বেশি নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়েছে। সেই সংবাদে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল জানান, ২০১৩ সাল থেকে দেশব্যাপী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে। এজন্য ওয়ার্ড পর্যায়েও বিএনপির কমিটি আছে। ওয়ার্ডের নেতা আটক হলে তা উপজেলা থেকে জেলা বা কেন্দ্রে জানানো হয়। বিএনপির কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বিএনপির দাবি অনুসারে, মামলার সংখ্যা, আটককৃত ও জামিন হওয়া কর্মীর সংখ্যা তারা সুস্পষ্টভাবে জানেন। কিন্তু বিবিসি বাংলার সেই সংবাদেই বলা হয়েছে- মামলার প্রকৃত সংখ্যা বিবিসির পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, বিবিসি হয় ইচ্ছেকৃতভাবে চেপে গেছে অথবা বিএনপি বিবিসিকে সেই সংখ্যা জানায়নি।

[[[বিবিসি বাংলা সংবাদের লিংক: https://www.bbc.com/bengali/articles/crg94868840o]]]

বিবিসি বাংলার সংবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বিএনপি নেতা কায়সার কামালের দাবি, ২৮শে অক্টোবর থেকে ৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ৭৩৮টি মামলা হয়েছে। এতে ২৬ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংবাদটি থেকে আরও জানা যায়, ভোলা থেকে ঢাকায় মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে তাণ্ডব ও সন্ত্রাসে অংশ নেয়া নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪টি। যাতে আসামীর সংখ্যা ১০৪ জন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম জানান, শ’খানেক নেতা-কর্মী কারাগারে ছিলেন, যারা ইতোমধ্যে জামিনে বেরিয়েছেন। মামলার খরচ নিজেরাই মেটাচ্ছেন।

[চাঞ্চল্যকর: নেতা-কর্মীদের নামে মামলা নিয়ে বিএনপির ধান্দাবাজি ফাঁস]

ভোলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব নুর মোহাম্মদ রুবেল জানান মামলার খরচ হিসেবে যতটুকু না নিলেই নয়, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা ততটুকুই নিচ্ছেন। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জানান নিজের মামলার খরচ নিজেই বহন করেছেন। সেই সংবাদে বলা হয়েছে, ১৯শে ডিসেম্বর বিএনপির ২১ হাজার নেতা-কর্মী কারাগারে থাকার দাবিকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপির ১১ হাজার নেতা-কর্মী কারাগারে ছিলেন, যার মধ্যে ২ হাজার সেদিনই জামিনে বেরিয়ে গেছেন।

বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদন থেকে কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়, বিএনপি তথ্যগত অপপ্রচার চালাচ্ছে। সহিংসতা, নাশকতায় তাদের যত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাচ্ছে, মামলা ফেস করে যতজন জামিনে বেরিয়ে আসছেন, সেসব তথ্য জেনেও বিএনপি প্রকাশ করছেনা। বরং এসব তথ্য নিজেদের প্রয়োজনমত ব্যবহার করছে। তারা জামিনে বেরিয়ে আসা নেতা-কর্মীর সংখ্যা চেপে গেছে। কোনো বক্তব্যে তারা এই সংখ্যা বলেন না। শুধু তা-ই নয়, বারবার দাবি করেন, মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। অথচ বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বিএনপির নেতা কায়সার কামালের ভাষ্যে বলা হয়েছে, সব মামলা চালাচ্ছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এবং এসব মামলার খরচ অতি সামান্য। তাহলে বিএনপির নেতা রিজভী, নজরুল, গয়েশ্বরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা যেসব গালগল্প ছড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নালিশ দিচ্ছেন, তা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

তবে বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, এর অনেক মামলা করানো হয়েছে খোদ বিএনপির পক্ষ থেকেই। স্থানীয় কাউকে দিয়ে বিএনপি এই মামলাগুলো করিয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এজাহারে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও হয়রানির উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকেও আসামি করা হয়েছে, কোথাও কোথাও সরকারকে বিব্রত করতে মৃত, প্রতিবন্ধী বা বয়স্ক নাগরিকদেরও আসামী করা হয়েছে। এসব করা হয়েছে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

[চাঞ্চল্যকর: নেতা-কর্মীদের নামে মামলা নিয়ে বিএনপির ধান্দাবাজি ফাঁস]

বিএনপির অনেক অগুরুত্বপূর্ণ নেতাও অর্থের বিনিময়ে নিজের নাম মামলার এজাহারে তুলছেন বলেও জানা যায়। উদ্দেশ্য, আইনজীবী ফোরামের মাধ্যমে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের জাহির করা। দলের খরচে মামলা সামাল দিয়ে এলাকায় ফিরে আসা রাজনৈতিক স্টান্টবাজি বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। তাছাড়া সামনে উপজেলা নির্বাচন। বড় নেতা হিসেবে নিজের নাম জাহির করা গেলে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ সহজ হয়ে যায়। এছাড়া আরও জানা গেছে, মামলার সংখ্যা যত বাড়ছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পকেটও ফুলে ফেঁপে উঠছে। যত মামলা, তত আয়। শুনানি কিংবা জামিন করিয়ে বিএনপির স্থানীয় আইনজীবী নেতারা একেকজন আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নিত্যনতুন মামলা দায়েরের পেছনে এই আইনজীবীদের হাত রয়েছে বলে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা জানান।

আরও পড়ুনঃ

জাতিসংঘ নিয়ে মিথ্যাচার করা বিএনপি এখন মহাসচিবের অভিনন্দন পত্র নিয়ে সন্দিহান!

জাতীয় পার্টি হতে বিএনপির আর বাকি মাত্র ছয় মাস

সরকারকে অবৈধ ঘোষণায় কোন দেশের সমর্থন পেলোনা বিএনপি

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here