তারেক রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর, গণতন্ত্রের হুমকি

0
7270
তারেক রহমান
তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর, গণতন্ত্রের হুমকি

মার্কিন আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ বাংলাদেশের প্রথম রাজনীতিবিদ হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ১৫ বছর আগে এই নিষেধাজ্ঞা জারির সময় তিনি ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান। উইকিলিকসের ফাঁস করা দলিলে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তারেক রহমানকে ভয়ংকর রাজনীতিক এবং দুর্নীতি ও চুরির মানসিকতাসম্পন্ন সরকারের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাকে বাংলাদেশে মার্কিন স্বার্থের প্রতি হুমকি হিসেবেও দেখেছিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় তারেক রহমানকে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

বার্তায় তারেকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়। ২০১১ সালের ৩০ আগস্ট সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন মার্কিন নথি থেকে পাওয়া যায় এমন তথ্য।

মরিয়ার্টির পাঠানো তারবার্তায় বলা হয়, মার্কিন দূতাবাস মনে করে, রাজনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগে কুখ্যাতি পাওয়া তারেক যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও ভয়ংকর ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্যমাত্রার ক্ষতিসাধন করতে পারেন তিনি।

ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তায় রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি তারেক রহমানের বড় বড় দুর্নীতির কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারেক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে সক্ষম হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর বিরূপ প্রভাব কী হতে পারে, সেটা তুলে ধরেও নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি তার তারবার্তায় লেখেন, ‘তারেক রহমানের দুর্নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। তার একগুঁয়েমি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাকে দুর্বল করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতায় ক্ষয় ধরিয়েছে।’

[তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর, গণতন্ত্রের হুমকি]

তিনি আরও লেখেন, ‘আইনের শাসনের প্রতি তারেকের তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের কুখ্যাতি মার্কিন বৈদেশিক আর্থিক সাহায্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ। যে সাহায্য দেয়া হয় আইন সংস্কার, সুশাসন জোরদার করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও লেখেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলের ঘুষ ও অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতি কেলেঙ্কারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।’

মরিয়ার্টির গোপন তারবার্তায় বলা হয়, তার (তারেকের) কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ চুরি এই মডারেট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করেছে। বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার শক্তিশালী করার মার্কিন উদ্যোগগুলোকেও দুর্বল করেছে। তাছাড়া তারেকের যথেচ্ছ দুর্নীতি মার্কিন মিশনের লক্ষ্যমাত্রার প্রতিও ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছিল বলে মন্তব্য ছিল জেমস এফ মরিয়ার্টির।

তারবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের তিনটি মূল অগ্রাধিকার কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলো হলো: গণতন্ত্রায়ন, উন্নয়ন ও বাংলাদেশের আকাশ সন্ত্রাসবাদীদের ব্যবহার করতে না দেয়া। কিন্তু তারেকের দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড এ তিনটি কর্মসূচিকেই ব্যাহত করেছে।

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি লেখেন, তার (তারেকের) অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ আইনের শাসন ব্যাহত করেছে এবং তা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল বাংলাদেশ গঠনের মার্কিন লক্ষ্যমাত্রায় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া তারেক যে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসা ও ঘুষের সংস্কৃতি তৈরি করেছেন, তা বহুলপ্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মার্কিন উদ্যোগকে থমকে দিয়েছে। আর এটা মার্কিন কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক তৎপরতাকেও জটিল করে তুলেছে।

তারবার্তায় আরও বলা হয়, আইনের শাসনের প্রতি তারেকের তাচ্ছিল্য বাংলাদেশের মাটিতে জেঁকে বসতে সন্ত্রাসবাদীদের উৎসাহ জুগিয়েছে। এটা দেশটিতে দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। মরিয়ার্টি লেখেন, ‘সংক্ষেপে বাংলাদেশে যা কিছু খারাপ, তার সব দায় তারেক ও তার সহচরদের।’

মরিয়ার্টি সুপারিশ করেন, তারেক রহমানকে প্রেসিডেন্সিয়াল ঘোষণা ৭৭৫০-এর বিষয়বস্তু করা হোক। এই ধারাবলে উল্লিখিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যে কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ করা যায়।

তারেক রহমানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুষ্ট এবং ভয়ংকর পুত্র অভিহিত করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লেখেন, ২০০৭ সালে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তারেক গ্রেফতার হন। এর পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান।

[তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর, গণতন্ত্রের হুমকি]

তারবার্তায় বলা হয়, সরকারি ক্রয় এবং রাজনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারেক প্রায়ই ঘুষ চাইতেন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ঘুষ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎ ও কর ফাঁকির অনেক মামলায় আসামি হওয়া সত্ত্বেও তারেক মুক্তি পেয়েছেন।

মরিয়ার্টি লেখেন, সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে গভীর আঁতাতের মাধ্যমে তারেক বিচারপ্রক্রিয়ায় কারসাজি করতেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার জামিন আটকানোর যে চেষ্টা করেছিল তাকে জয় করতে সক্ষম হন। বার্তায় বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তারেকের বেশ কয়েকটি পাসপোর্ট আছে; যুক্তরাজ্য যে পাসপোর্টে তাকে ভিসা দিয়েছে সেটিসহ। আরেকটি পাসপোর্ট ছিল পাঁচ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি বি-১/বি-২, যা ২০০৫ সালের ১১ মে ইস্যু করা হয়। আমাদের মনে হয়, সেই পাসপোর্ট সরকার জব্দ করেছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি ডলার অর্জনের দায়ে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে। যেগুলো বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে তারবার্তায় রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি মার্কিন কোম্পানি সিমেন্সের কাছ থেকে ঘুষ নেয়াসহ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা কয়েকটি মামলার সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে সিমেন্স মামলার বিবরণে মরিয়ার্টি বলেন, ওই প্রত্যক্ষদর্শী তারেক ও তার ভাই কোকোর কাছে সিমেন্সের কাছ থেকে নেয়া ঘুষ পৌঁছে দেন। সিমেন্সের চুক্তির কাজের মোট অর্থ থেকে প্রায় ২ শতাংশ ঘুষ নেন তারেক, যা মার্কিন ডলারে পরিশোধ করা হয়। মামলাটি এখন মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআই দেখভাল করছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাত দিয়ে তারবার্তায় মরিয়ার্টি আরও লেখেন, এসব ঘুষ ও চাঁদাবাজির বাইরেও তারেক ব্যাপক অর্থ তছরুপে জড়িত ছিলেন। কয়েকজন সহচরের মাধ্যমে তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ফান্ডের ৩ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের বরাতে মরিয়ার্টি বলেন, তারেক ছিলেন ওই তহবিলের সহ-স্বাক্ষরদাতা। ওই ফান্ডের অর্থ দিয়ে তিনি নিজ শহরে একটি জমি কিনেছেন। এ ছাড়া ওই তহবিলের অর্থ তিনি ২০০৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির সদস্যদের মধ্যেও বিলি করেছেন।

মরিয়ার্টির এই তারবার্তা পাঠানোর ছয় মাস পর ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গীতাপাসি আরেকটি তারবার্তা পাঠান। সেখানেও বলা হয়, প্রেসিডেন্সিয়াল ঘোষণার আওতায় তারেকের ভিসা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০০৫ সালের ১১ মে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে হ্যারি কে টমাস ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় উল্লেখ করেন, হাওয়া ভবন থেকে ছায়া সরকার চালাতেন তারেক রহমান। এই বার্তাটিও ২০১১ সালের ৩০ আগস্ট ফাঁস করে উইকিলিকস।

এছাড়া তারেক রহমানকে খুবই নির্দয়, দুর্নীতিগ্রস্ত, পড়াশোনায় খুব ভালো নয় এবং অপরিপক্ব রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ

বিশ্ব নেতাদের মতে রাজনীতিতে শেখ হাসিনার বিকল্প শুধু শেখ হাসিনাই

বিএনপির ঠুকঠাক, শেখ হাসিনার এক ঘাঃ দেশবিরোধীদের সব প্রচেষ্টা বিফল

স্পেশাল রিপোর্ট: সিআইএ এজেন্টের কাছ থেকে জব্দকৃত নথিতে ভয়ঙ্কর ব্যক্তির তালিকায় আজও এক বাংলাদেশী রাজনৈতিক ব্যাক্তির নাম!

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here