আবারও কর্মসূচি বিএনপির, নির্বাচনের আগে মরণকামড় দিতে মরিয়া সন্ত্রাসবাদী দলটি

    0
    232
    বিএনপির কর্মসূচি

    সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। যাতে রয়েছে- আলোচনাসভা, সেমিনার, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রচনা প্রতিযোগিতা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, বইমেলা প্রদর্শনী প্রভৃতি। অথচ দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বিবৃতি থেকে জানা যায়, সরকারবিরোধী বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিএনপি সারাদেশে পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করছে ১৭ই মে থেকে। উল্লেখ্য, ১৭ই মে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতা ও স্বজনদের হারিয়ে দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসনে থাকার পর এদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে। তাই এদিন সারাদেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা ও কর্মসূচি থাকে। অথচ বিএনপি ঠিক এদিনকে টার্গেটে নিয়ে সারাদেশে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিএনপি সবসময় সহিংস আচরণ করে, ইতিপূর্বে যা দেখা গেছে। বিএনপি তাই এবারও দূরভিসন্ধি নিয়ে নামছে, বলাবাহুল্য।

    আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপি বেশ আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রশ্ন রেখেছেন, বিএনপি এত সভা-কর্মসূচি করছে, এর ফান্ড আসছে কোত্থেকে? প্রশ্নটা অনেকদিন ধরেই উঠছে। ২০২২ সালে নির্বাচন কমিশনকে দেয়া দলীয় হিসাব বিবরণীতে বিএনপি দেখিয়েছে তাদের দলের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দলীয় ফান্ডে জমা বলতে কিছুই নাই। এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে, মির্জা ফখরুল, রুহুল কবীর রিজভীদের মত ২৪X৭ দলের জন্য সময় দেয়া ফুলটাইম রাজনীতিবিদদের অদৃশ্য আয় দিয়েই কি চলছে বিএনপি? নাহলে দলের এত সভা-সমাবেশ, বিদেশ ভ্রমণ, কূটনীতিকদের আপ্যায়ন, বিদেশি লবিস্ট, প্রচার-প্রচারণা… ইত্যাদির খরচ কে যোগায়? জিয়ার রেখে যাওয়া ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জির স্তুপ থেকে বেরোনো প্রদীপের দৈত্যের পক্ষেও তো অসম্ভব এমন একটি রাজনৈতিক দল পরিচালনার জন্য অর্থের যোগান দেয়া। তাহলে কি ধরে নেয়া যায় না যে, বিএনপির পেছনে বিদেশি কোনো অপশক্তির ইন্ধন রয়েছে, যারা নিয়মিতই বিএনপির পেছনে অর্থায়ন করছে!

    [আবারও কর্মসূচি বিএনপির, নির্বাচনের আগে মরণকামড় দিতে মরিয়া সন্ত্রাসবাদী দলটি]

    নির্বাচন সন্নিকটে। এমন অবস্থায় বিএনপি যতই বলুক নির্বাচনে যাবো না, প্রকৃতপক্ষে তারা নির্বাচনে যাবেই। সেটা যেভাবেই হোক না কেন। নির্বাচনে না গেলে সরকারবিরোধী প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের সামনে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে কেন? ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তুলছে কেন? বছরের পর বছর লালন-পালন করে এত প্রার্থী প্রস্তুত করছে কেন? বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাদের প্রচারণার পেছনে অর্থব্যয় করছে কেন বিএনপি? সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বিএনপি যদি সংসদ নির্বাচনে না যায়, তবে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে তাদের কাছ থেকে তোলা হাজার হাজার কোটি টাকা বাণিজ্য করতে পারবে না। আর রাজনৈতিক অঙ্গনে সবাই জানেন, এই মনোনয়ন বাণিজ্যই হচ্ছে বিএনপির ৫ বছরের জন্য এককালীন আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। যার বৃহৎ অংশ চলে যায় লন্ডনে। আর সেই টাকাতেই মুচলেকা দেয়া পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান লন্ডনে আরাম-আয়েশে দিনযাপন করেন এবং ফূর্তি করেন।

    সম্প্রতি বিএনপির অন্যতম প্রধান ফাইন্যান্সার আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইশরাক আহমেদ এবং চিনিচোরের কুলাঙ্গারপুত্র আন্দালিব চৌধুরী লন্ডনে গেছেন তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারেকের সাথে তাদের আলাদা আলাদা বৈঠক হলেও আমীর খসরুর সাথে বৈঠক হয়েছে কয়েক দফা। আগে বিএনপির অর্থের মূল যোগানদাতা ছিলেন আব্দুল আউলায় মিন্টুর পরিবার। তবে প্যারাডাইস পেপার্স, পানামা পেপার্স ও প্যান্ডোরা পেপার্স কেলেঙ্কারির দায়ে মিন্টু পরিবারের সদস্যরা ও তাদের মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম আসায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাদের ওপর নজরদারি রয়েছে। তাই এ মুহূর্তে বিএনপির একমাত্র ত্রাণকর্তা আমীর খসরুই। মিন্টু পরিবারের মত চট্টগ্রামের ধণাঢ্য ব্যবসায়ী খসরু এবং তার স্ত্রীর নামেও অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলা রয়েছে। এছাড়া তাইওয়ান দূতাবাস কেলেঙ্কারির সেই পুরনো ঘটনা তো আছেই। তবে এতসব কিছু পেরিয়ে আমীর খসরুর অর্থের পাহাড় দিন দিন বড় হচ্ছে। তাই তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কর্মসূচির ফান্ড যোগান দিচ্ছেন তিনি।

    [আবারও কর্মসূচি বিএনপির, নির্বাচনের আগে মরণকামড় দিতে মরিয়া সন্ত্রাসবাদী দলটি]

    সারাদেশের ৬৪ জেলার অন্তত ৭৫টি স্থানে বিএনপি দলীয় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। জানা গেছে, পদযাত্রা ও জনসমাবেশের নামে দলের নেতা-কর্মী ছাড়াও জামায়াত-শিবির, হেফাজত ও গণঅধিকার পরিষদের ভাড়াটে কর্মীদের নিয়ে বিএনপি নির্বাচনের প্রাক্কালে সহিসংতা ও সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েছে ইতিমধ্যে। ডিসেম্বরের কর্মসূচির মত এবারও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা প্রতিপক্ষের লাশ ফেলার লক্ষ্য নিয়ে রাস্তায় নামছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় যে নেতা-কর্মীদের ওপর তাদের ক্ষোভ রয়েছে, যারা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য রাজপথে এখন থেকেই সক্রিয়, এমন নেতা-কর্মীদের নামের তালিকা করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বিএনপির প্ল্যান হচ্ছে উস্কানি দিয়ে রাজপথে তাণ্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু করা। তারা জানে, সন্ত্রাস প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসবেন। তখনই তাদের ওপর সহিংস হামলা চালিয়ে ম্যাসাকার ঘটানোর চেষ্টা করবে বিএনপি ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। এজন্য স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে দলীয় ক্যাডারদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ পৌঁছানো হয়েছে বলে জানায় সূত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগেই সতর্ক করেছেন বিএনপি এবার মরণ কামড় দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই তাদেরকে উজ্জীবিত করতে ঢালা হয়েছে পর্যাপ্ত অর্থও।

    রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি তাই দেশের সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে, দেশের অস্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়, জানমালের ক্ষতি হয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখামাত্রই যেন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হলে এর সুযোগ নিবে বহিরাগত অপশক্তি। এটা সর্বাগ্রে মনে রাখতে হবে।

    আরও পড়ুনঃ

    comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here