‘৭৫ এর পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যা যা করেছি, তার ফল ভুগছি’- মৃত্যুশয্যায় বলে গিয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম

0
166
আওয়ামী লীগ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম মারা যান ২০১৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর। তিনি বিএনপির তুমুল জনপ্রিয় একজন নেতা ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতারা যেখানে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সামনে হাত কচলাতেন, সেখানে সাধারণ নেতা-কর্মীরা তরিকুল ইসলামকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন ‘হাত না কচলানো’ স্বভাবের কারণে। শোনা যায়, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার নৃশংসতম ঘটনাটি মেনে নিতে পারেননি তিনি, বিএনপির রাজনীতি থেকে মন উঠে গিয়েছিল তার এজন্য।

সাবেক এই মন্ত্রী মৃত্যুশয্যায় অকপটে বলে গিয়েছিলেন অনেক তেতো সত্য। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দলের নেতা-কর্মীদের সামনে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর অনেক অবিচার করা হয়েছে। তার সেই বক্তব্য সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পর কমছে ভোজ্যতেলের দাম

যা বলেছিলেন তরিকুল ইসলাম:

অসুস্থ অবস্থায় তরিকুল ইসলাম ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে সিসিইউতে। সেখানে দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় নেতারা তার অবস্থা দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন। বহু কষ্টে বিছানা থেকে উঠে হেলান দিয়ে বসে তরিকুল ইসলাম নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব রাজনীতিকে ডিফিকাল্ট করার কথা বলেছিলেন। আর তারেক বিএনপি করাই ডিফিকাল্ট করে দিয়েছে। বাপের বেটা একদম।’

অনেক কষ্টে কথা বলছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। কয়েকদিন পর পর ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে, তাই হাঁপিয়ে ওঠেন একটু কথা বললেই। বললেন, ‘৭৫ এর পর আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যা যা করেছি, এখন তার প্রতিদান পাচ্ছি। এটাই নিয়ম। আর ক’দিন পরই মরে যাবো হয়তো। তার আগে সত্য কথাগুলো বলা দরকার। অন্যের জন্য কবর তৈরী করলে, তাতে নিজে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।’

প্রবীণ এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় থাকতে যা করেছি, এখন আমরা তারই কর্মফল ভোগ করছি।’

চলে গেলেন বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম

[‘৭৫ এর পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যা যা করেছি, তার ফল ভুগছি’- মৃত্যুশয্যায় বলে গিয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম]

উল্লেখ্য, তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনী জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন। নিয়মিত চিকিৎসা নেয়ার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়া-আসাও করছেন। ২০১৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তরিকুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী নার্গিস ইসলাম শিক্ষকতা করেছেন যশোর সরকারি কলেজে। ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।

১৯৪৬ সালের ১৬ই নভেম্বর তরিকুল ইসলাম যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠাকালীন বিএনপির কমিটিতে তিনি বিশেষ সম্পাদক, ১৯৮৬ সালে যুগ্ম মহাসচিব, ১৯৮৮ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, ১৯৯২ সালে ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি সাত্তারের সরকারে তরিকুল ইসলাম সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী, খালেদা জিয়ার সরকারে ১৯৯১ সালে সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারে খাদ্যমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুনঃ

বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে অনাগ্রহী নেতারা

শত্রুর চোখে বঙ্গবন্ধু –শেখ মুজিব বাঙালিকে গোলামি থেকে মুক্তি দিয়েছে: টিক্কা খান

রাশিয়া ইস্যুতে বিভ্রান্তির বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি!

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here