Home রাজনীতি খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের স্বীকারোক্তি ‘সেই দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র এসেছিল...

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের স্বীকারোক্তি ‘সেই দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র এসেছিল বিএনপি-জামায়াত সরকারের সিদ্ধান্তে’

0
2182

বহুল আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত থাকায় দুই গোয়েন্দা প্রধানকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। বিএনপি-জামায়াত বারবার এই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলেও, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এর জট খুলতে শুরু করে। এই ঘটনার পেছনে জামায়াত আমির ও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ লুৎফুজ্জামান বাবরের সরাসরি সম্পৃক্ততাও ফাঁস হয়ে যায়। তবে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচারের সমালোচনা করে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান।

আমার দেশ পত্রিকার এই সাবেক সম্পাদক বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর, জেনারেল রহিমকে এনএসআই এর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। ২০০৪ সালে যে দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনা ঘটে, সেটির সঙ্গে জেনারেল রহিম ও তৎকালীন ডিজিএফআই-প্রধান রেজ্জাকুল হায়দার জড়িত। এই অস্ত্রগুলো ভারতের উলফার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাদের ওপর, এটি তো ছিল সরকারের (বিএনপি-জামায়াত) নীতিগত সিদ্ধান্ত। অস্ত্রগুলো গোপনে খালাস করে সীমান্ত পার করার ব্যাপারটি তৎকালীন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশেই হয়েছে। তাহলে এই কর্মকর্তারা শাস্তি পাবে কেনো। তারা তো সরকারের নির্দেশ পালন করেছে, তাদের তো শাস্তি পাওয়া উচিত না।’

ইন্টারনেটে মাহামুদুর রহমানের এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্রপ্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে পাঠকদের মধ্যে। অনেকেই লিখছেন, তাহলে আগে কেনো বিএনপি-জামায়াত সরকার এটি স্বীকার না করে উল্টো নিরপরাধ মানুষদের হয়রানি করেছে? উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কাঁপিয়ে দেওয়া এই নিকৃষ্ট ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল, রাত ১০টায়। দুটো বড় ট্রলার এসে থামে চট্টগ্রামের ইউরিয়া সার কারখানা ঘাটে। শুরু হয় অস্ত্র খালাস। দশটি ট্রাকে ভরে এসব অত্যাধুনিক অস্ত্রের চালান ঘাট ত্যাগ করার আগেই ধরা পড়ে যায়। জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে তারা প্রথমে অস্ত্রগুলো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে চারপাশে খবর ছড়িয়ে পড়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

তবে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়। এমনকি যে পুলিশ কর্মকর্তারা এই অস্ত্রের চালান আটক করেছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুত করে জেলে ঢোকানো হয়। জামায়াতের আমির ও খালেদা সরকারের শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামি এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সরাসরি নির্দেশে এই ঘটনার তদন্ত পর্যন্ত থমকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এই অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মূল হোতাদের আটক করা হয়। এবং তথ্য-প্রমাণ প্রমাণ হওয়ায় এর কুশীলবদের দণ্ড ঘোষণা করেন আদালত।

comments

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here