চীনা রাষ্ট্রদূতের বেফাঁস মন্তব্য, নেপথ্যে প্রথম আলোর পাকিস্তান সংযোগ!

0
20

চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। সোমবার (১০ মে) লি জিমিং বলেছেন- যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের জোট ‘কোয়াড’-এ যোগদান করলে চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হবে। এর জবাবে, পরেরদিন মঙ্গলবার (১১ মে) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন- এ ধরনের মন্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত, বাংলাদেশ কী করবে সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নেবে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লষেকরা বলছেন- বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক থাকায় তা বিশেষ একটি রাষ্ট্র সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা তাদের বাংলাদেশি এজেন্টদের কাজে লাগিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে খারাপ করার চেষ্টা করছে। সেই অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই তারা চীনের রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।

মূলত, সোমবার (১৩ মে) ঢাকার কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাব-এর সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময়ের অংশ নেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ডিক্যাব-এর দুই-তিন মাস পরপর নিয়মিতভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে থাকে। সম্প্রতি দেশে করোনা ভ্যাকসিনের সংকট সৃষ্টি এবং চীন থেকে ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করে ডিক্যাব।

সেখানেই ইস্যুর বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহীদ এজাজ। তিনি প্রশ্ন করেন, গত মাসে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সেসময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কোয়াড এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি এই অঞ্চলে তাদের প্রভাববলয়ের বাইরে নতুন ক্ষমতার বলয় তৈরি করতে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের সহযোগিতাও চেয়েছেন। কিন্তু এর জবাবে বাংলাদেশ চীনকে কী বলেছে সেটি সম্পর্কে জানতে চাই। এটি আমার প্রথম প্রশ্ন। এছাড়া আরো একটি প্রশ্ন আছে আমার, সেটি হলো- ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অধীনে আরো কোনো মেগা প্রজেক্টে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা আছে কিনা?

এই প্রশ্নের কোয়াড প্রসঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ কোয়াড-এ যুক্ত হলে তা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের বিষয়টিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। পরেরদিন তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিই৷ আর কোনো ডিফেন্স প্যাক্ট-এ আমাদের যোগদানের কোনো আগ্রহ নেই৷ আমরা কোনো আঞ্চলিক সামরিক জোটে যুক্ত নই৷ আমাদের নীতি হলো সবার সাথে বন্ধুত্ব৷ কারুর সাথে শত্রুতা নয়৷ তবে চীনের এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ঠিক করবে কো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী করবে।’

তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহীদ এজাজের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মূলত একইসঙ্গে প্রতিবেশী ভারত ও চীন এবং সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সমান সুসম্পর্ককে সহ্য করতে পারছিল না পাকিস্তান। তারমধ্যে ভারতের পর চীনও বাংলাদেশকে করোনার ভ্যাকসিন দিতে সম্মত হওয়ায় সেটাও ভালো লাগছে না পাকিস্তানের। তাই এই মহামারির মধ্যে কোয়াড সম্পর্কে কোনো আলোচনা বা উদ্যোগ না থাকলেও, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যায় ফেলার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই প্রসঙ্গটি তোলার পরিকল্পনা করে। একারণে, বাংলাদেশে পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আওরঙ্গজেব হারালের নির্দেশনা অনুসারে, প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহীদ এজাজ এটি বাস্তবায়ন করেছে।

অপ্রাসঙ্গিকভাবে কোয়াড-ইস্যুকে সামনে এনে বাংলাদেশের মানুষের জন্য চীন থেকে করোনার ভ্যাকসিন আনার যে সম্ভাবনা, এবং বাংলাদেশে চীনের মেগাপ্রজেক্টগুলো নষ্ট করার একটি উদ্যোগ এটি। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অবনতি ঘটানোর এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অসময়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রথম আলোর এই সাংবাদিক।

উল্লেখ্য যে, কোয়াড্রালেটারাল সিকিউিরিটি ডায়ালগ (কোয়াড)-এ চার সদস্য রয়েছে। তারা হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত। ২০০৭ সাল থেকে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌপথে চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ রাখার উপায় খুঁজতে এই জোট কাজ শুরু করে৷ তবে এটি চীনবিরোধী সামরিক জোট হিসেবেই কাজ করছে বলে অভিযোগ চীনের। এদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও, বাংলাদেশ যে কোয়াডে যুক্ত হবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা কোনো তৎপরতা এখনো নেই। এমনকি কোয়াডভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here