বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের ক্ষমতায় আনতে সুশীলদের পরিকল্পনা

0
8

বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে লন্ডন থেকে দেশের বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে গত সপ্তাহে অনলাইনে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এরমধ্যেই তথাকথিত ফেরারি সাংবাদিক তাসনিম খলিলের সঙ্গেও অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদুল হক। সেখানে তাসনিম জানান- তিনি নেত্র নিউজ নামে যে অনলাইন সম্পাদনা করেন, সেটির অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নয়মূলক বেসরকারি সংস্থা এনইডি। এই আলোচনার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা ছিল যে, তাসনিম খলিল মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন এবং নেত্র নিউজ একটি মুক্ত কন্ঠস্বর। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই এই গোমড় ফাঁস হয়ে যায়। 

অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়, এনইডি নামের ওই সংস্থাটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার একটি আন্ডারকাভার প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কোনো দেশের সরকার উৎখাতের জন্য তথাকথিক কিছু সুশীল সমাজ ও অনলাইনের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে কোটি কোটি ডলার অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। অনুসন্ধানে এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর নতুন করে অনেকগুলো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের উত্তর এখনো জানা যায়নি। তা হলো- হেফাজতের যে উগ্রবাদীরা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করেছিল, তাদেরকে তথাকথিত সুশীলদের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য কীভাবে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র?

তাই যেকোনো বিপদ এড়াতে, আবারো আরেকটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। সেই বৈঠক থেকে, সরকার উৎখাতের প্রক্রিয়ায় যুক্ত বাংলাদেশি অংশের বুদ্ধিজীবীদের এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। কারণ, যেহেতু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে, এখন এই প্রশ্নের সময়োপযুগী একটা জবাব দিতে না পারলে ওয়াশিংটন থেকে আসা কাড়ি কাড়ি টাকা আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি তারেক রহমান এ বিষয়ে ওয়েবিনারে আলোচনা করেন ড. কামালের জামাই ডেভিড বার্গম্যান, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আলী রিয়াজ, বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা মেশিন তাসনিম খলিলের সাথে।

বৈঠকে এনইডি-এর নাম প্রকাশ করায় তাসনিম খলিলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারেক। এটিকে বড় ভুল বলে অভিহিত করেন তিনি। তবে তাসনিম খলিল ভুল স্বীকার না করে উল্টো জানান- এনইডি বিশ্বব্যাপী উন্নয়নমূলক সংস্থা হিসেবেই পরিচিত, এই সংস্থার নাম উল্লেখ করে ‘নেত্র নিউজ’কে গণতন্ত্রের পক্ষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্ত মার্কিন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের বিশেষায়িত ইংরেজি গ্রন্থগুলো বিশ্লেষণ করে কোনো বাংলাদেশি যে এনইডি সম্পর্কে আন্ডারকাভার তথ্য বের কর ফেলবে তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। এসময় চোখে মুখেও বিস্ময় ফুটে ওঠে তাসনিম খলিলের। এই বৈঠকের আলোচনার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

ডেভিড বার্গম্যান: তাসনিম খলিল, তুমি সব শেষ করে দিলা। কে তোমাকে পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এসইডি)-এর নাম বলতে বলেছিল! ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ মিস্টার দাসগুপ্ত তো সব গোপন তথ্য বের করে ফেললো এখন। এটা আর গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নাই। এনইডি-যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করে এই বিষয়ে তিনি সব তথ্য-প্রমাণ সব প্রকাশ করে দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অখ্যাত অধ্যাপকের সঙ্গে লোকভুলানো বাজে আলাপের মধ্যে ক্লাসিফায়েড তথ্য দিয়ে সব নষ্ট করে দিলা তুমি।

তাসনিম খলিল: আমি জানি এরা মার্কিন সরকারের স্বার্থে কাজ করার জন্য অর্থ দিচ্ছে, কিন্তু গোয়েন্দাদের অপারেশনের কথা জানতাম না।

বার্গম্যান: আরে ভাই, না জানলে চুপ থাকো, বেশি কথা বলো কেনো।

তাসনিম: বাংলাদেশের একজন শীর্ষ গোয়েন্দার বাবা এবং আমি একসাথে কিছুদিন কাজ করেছি, আমাকে মূলত তিনিই সব বিষয়ে গাইড করে করে গড়ে তুলেছেন, আমার আজকের অবস্থানের পেছনে তার অবদান অনেক। যাই হোক, তিনিই আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, আমাদের যে ভালো অর্থায়ন আছে, আমরা যে গণমাধ্যমের বিকাশে তা দিয়ে কাজ করছি, এ বিষয়ে লোকজনকে তথ্য দিতে। তাহলে মানুষ আমাদের কথা আরো বেশি বিশ্বাস করতো।

বার্গম্যান: শিট! এই গন্ডমূর্খটা কে! গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লোকজন কীভাবে এতো স্টুপিড হয়! একজন ব্রিটিশ নীরবে কাজ করতে পছন্দ করে, তোমরা ব্রিটিশদের সঙ্গে কাজ করার জন্য খুবই আনফিট।

আলী রিয়াজ: ডেভিড ঠিক বলেছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সময় তুমি সাবধান থাকবা তাসনিম। আমাকে দেখো। কতো নীরব থাকি। চুপচাপ নিজের কাজ করে যাচ্ছি। অ্যাকাডেমিকভাবে আমি বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করি। এই সরকারকে আমি ‘হাউব্রিড রেজিম’ কৌশলে নেতিবাচকভাবে রেপ্রিজেন্ট করি। শোনো, বড় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বুদ্ধি লাগে তাসনিম। অযথা কথা কম বলো।

তাসনিম: স্যার শোনেন, আপনি তো সাংবাদিকতা বোঝেন না। ‘হাইব্রিড রেজিম’ বলে আওয়ামী লীগকে আপনি যে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটা তো আসলে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আগে থেকেই ট্যাগ হয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াতকে আগে থেকেই হাইব্রিড বলে জানে। এটা তো নতুন কোনো আইডিয়া না। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে এবং এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনাগুলো নস্যাৎতে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের এজেন্ডা মতো চলে তারা। এই বিষয়ে বাংলাদেশের মেটামুটি সচেতন মানুষ যারা, তারা সবাই জানে। বিএনপিকে সবাই হাইব্রিড বলেই ডাকে। বিএনপির পরিচয়ই এটা।

বার্গম্যান: ওহ তাসনিম! তুমি এতো বেশি কথা বলো কেনো! এতো বোকা কেনো তুমি! মিস্টার আলী রিয়াজ অসাধারণ একটা কাজ করেছে, তুমি মূল জায়গাটা বোঝো নাই। বিএনপির জন্য যে অপবাদটা আছে, সেটাকে আলী রিয়াজ আওয়ামী লীগের ওপর ট্যাগ করে দিচ্ছেন। কোনো সাড়া শব্দ নাই। জাস্ট অ্যাকাডেমিক প্রক্রিয়ায় একটা বড় উদ্দেশ্য সাধন করে ফেলেছেন মিস্টার রিয়াজ। দুর্দান্ত গুগলি খেলেছেন উনি।

তাসনিম: ডেভিড, প্লিজ, আমাকে বলতে দাও। এই গুগলি কিন্তু কাজ করে নাই। কারণ সব গণমাধ্যমই আসলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রকৃত তথ্যগুলো তুলে ধরেছে। রিয়াজ ভাইয়ের এসব অ্যাকাডেমিক ভুংভাং কোনো কাজে লাগে নাই। উনি আসলে ওভার রেটেড। এখন যে আমাদের সঙ্গে উগ্রবাদীদের সম্পৃক্ততার তথ্য ফাঁস হয়ে গেলো, সেটা সামলাবেন কীভাবে। উনি কী পারবে এটা সামলাতে!

বার্গম্যান: জাস্ট শাট আপ, তাসনিম তুমি আসলেই খুব বোকা। তোমার মতো একটা লোককে নিয়ে আমরা কাজ করতেসি, ভাবতে লজ্জা হয়। আমার জানা মতে, আলী রিয়াজই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি প্রচণ্ড নিভৃতে এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করতে পারেন। কিন্তু ওই ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম কোনো কাজেরই না। হেফাজত ইস্যুতে কোনো কাজে লাগবে না সে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা সম্প্রতি হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তারপর সেসব তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে। সেখানেই জানা যায়, ঢাকায় মার্কিন ও ভারতীয় দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা ছিল হেফাজতের। এই তথ্য জানার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সদর দফতরের লোকরাও চমকে গেছে, তারা খুব আপসেট এটা নিয়ে। সেখানে দক্ষিণ এশীয়ার কয়েকজন বিশ্লেষক এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা জানতে চান- যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর হামলা করতে চায়, তাদের পেছনে কেনো কোটি কোটি টাকা খরচ করছে গোয়েন্দা সংস্থা!!

তাসনিম: হুম, শহীদুল কোনো কাজের না! আমি কোনো কাজের না! আমরা সবাই বোকা! তাহলে কাজগুলো যে হচ্ছে, সেগুলো করছে কে? শুধু আপনি আর রিয়াজ ভাই করছেন? তারেক ভাই কিন্তু এর আগেও বলেছেন যে, আপনাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে দিতে উনি ক্লান্ত! আমরাতো অতো টাকা নষ্ট করি না!

বার্গম্যান: মিস্টার তারেকের উচিত আমার শ্বশুরকে ব্যবহার করা। আমার শ্বশুর ড. কামাল একজন ভালো আইনজীবী। বাংলাদেশের গত নির্বাচনে উনি বিএনপি-জামায়াত জোটের সমন্বয়ক ছিলেন। তাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকারে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত তারেক রহমানের। উনি তা না করে, দাড়িঅলা ভণ্ড কিছু হুজুরকে ব্যববহার করে ক্ষমতা দখল করতে চান। অথচ দেশজুড়ে এই ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে গেছে। এরা নারী ধর্ষণ এবং শিশু বলাৎকারে ব্যস্ত থাকে সবসময়। একের পর এক এসব ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ছে এখন। আমাদের কিছু বুদ্ধিমান লোক দরকার, যারা রাজনীতির গতিবিধি নির্ধারণ করতে পারেন। এদের মতো ভণ্ডদের দিয়ে কিছু হবে না, এদের মাথায় বুদ্ধি নাই, এদের বুদ্ধি অন্য জায়গায়!!

রিয়াজ: এটা পুরোপুরি ঠিক না ডেভিড। বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচার এরশাদের অনেক বড় হেরেম ছিল। তারপরও তার বুদ্ধি মাথাতেই ছিল। জীবন ভোগ করেও উনি দীর্ঘমেয়াদে শাসন করে গেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও নিয়মিত রাজনীতি করেছেন। যেখানে জেনারেল সুহার্তো, পারভেজ মোশাররফ, ইদি আমিন, এন্জো ডিয়েনের মতো একনায়করা পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি আমাদের তারেক রহমানও যা পারেননি, এরশাদ নারী নিয়ে থেকেও কিন্তু তাই সফলভাবে পেরেছেন।

বার্গম্যান: এরশাদ একজন রিয়েল পিস ছিল। একসাথে ভারত-পাকিস্তান-চীন সবাইকে ম্যানেজ করে রাখতো। নারীদের কাজে লাগিয়েছে সে এসব ক্ষেত্রে। সে তো বিদেশি হুইস্কি খেতো, কবিতা লিখতো! এজন্যই এসব পেরেছে। একারণেই বলছি, আমার শ্বশুর ড. কামালই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। এসব মূর্খ হুজুররা কোনো কাজের না, এরা নারী সামনে বিদ্বেষী, ভেতরে আবার নারী নিয়ে পড়ে থাকে সারাদিন। নারীরা এদের ঘৃণা করে। আর বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যাই নারী! আর বাঙালিরা রাজনীতির মধ্যে ধর্ম পছন্দ করে না। সীমান্তের ওপারেই দেখেন, পশ্চিমবঙ্গে একজন নারী নেত্রী কীভাবে প্রাদেশিক নির্বাচনে মোদীর মতো শক্তিশালী নেতার দলকে হারিয়ে দিলো।

রিয়াজ: বাঙালি নারীরা অনেক বুদ্ধিমান। এদের বোঝা কঠিন। হাসিনা, মমতা, মহুয়া… অনেক উদাহরণ আছে এমন…।

বার্গম্যান: আমার নিজের অভিজ্ঞতাও তাই বলে রিয়াজ ভাই। এই উগ্রবাদীদের বিকল্প খুঁজতে হবে আমাদের। এদের সাথে আর প্রকাশ্যে কোনো সংযোগ রাখা যাবে না। তাহলে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র এবং সিআইএ-এর হেড অফিস একটু রিল্যাক্সে কাজ করবে আমাদের সাথে।

রিয়াজ: আমি দেখছি ব্যাপারটা।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here