তথ্যচিত্রে স্বজনের তথ্যঃ শৈশব থেকেই বিপথগামী সামি

0
14

শৈশব থেকেই মাদকাসক্ত ও লোভী স্বভাবের ছিলেন সামি। এ কারণে ক্যাডেট কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তখন থেকেই তিনি ছোটখাটো প্রতারণা শুরু করেন। মিথ্যা বলে লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বড় প্রতারক। র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। বিভিন্ন সময়ে তিনি হাতির দাঁত ও সেনা কর্মকর্তার ট্রাকস্যুট চুরি করে ধরা পড়েন। অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন তার বাবা। সেনানিবাস এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনের তথ্যদাতা হিসেবে আলোচনায় আসা সামি সম্পর্কে এমনই তথ্য দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও পরিচিতজনরা। সম্প্রতি ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ‘অল দ্য আল জাজিরা’স গ্যাং অব ফিউজিটিভ মেন’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্রে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যচিত্রটিতে দেখা যায়, প্রতারণার সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে আলাদা নাম-পরিচয় ব্যবহার করেন সামি। সেনানিবাস এলাকায় তিনি সামিউল আহমেদ খান নামে পরিচিত। আবার ড্রাইভিং লাইসেন্সে তার নাম জুলকারনাইন সায়ের খান। তার বাবা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবদুল বাসিত হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্সে লেখা ওয়াসিত খান। প্রতারণার একটি মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তানভীর মো. সাদাত খান। একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার সময় তিনি নিজের নাম বলেন মো. তানভীর।

এক বন্ধু জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে সামি বিতাড়িত হন। তখন থেকেই তিনি মাদকাসক্ত। নেশার টাকা যোগাতে শুরু করেন প্রতারণা। মিথ্যা বলে মানুষের সহানুভূতির উদ্রেক করে অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। তিনি ছিলেন বদমেজাজী। প্রায়ই নানাজনের সঙ্গে হাতাহাতি-মারামারি করতেন। কুমিল্লার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মানসিক চিকিৎসাও হয়েছে। সামির সৎ মা বলেন, ‘নিজের সন্তানকে কেউ কখন ত্যাজ্য করার সিদ্ধান্ত নেন? নিজে সন্তানের মা-বাবা হলে সেটা বুঝতে পারবেন।’ এ প্রসঙ্গে সামির ছোট ভাই বলেন, তিনি বাবার কথা শুনতেন না। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বাবা বিব্রত থাকতেন। ছেলের কর্মকাণ্ডের কারণে তার পদোন্নতি আটকে যায়। শেষে বাধ্য হয়ে ২০০২ সালে তাকে ত্যাজ্য করেন বাবা।

তথ্যচিত্রে দেখানো হয়, ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশী ট্রাকস্যুট চুরি করে ধরা পড়েন সামি। একই বছরের জুলাইয়ে তিনি টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চুরি করে চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করেন। তখনও তিনি ধরা পড়েন। ২০০১ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পরিচয় দিয়ে এবং ওই র‌্যাঙ্কের ইউনিফর্ম পরে সেনানিবাস এলাকায় ধরা পড়েন তিনি। র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মামলায় তিনি ২০০৬ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হন। এর আগে ২০০৩ সালে ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সার্ভিস নামের প্রতিষ্ঠানে মো. তানভীর নামে যোগ দেন সামি। দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৬ সালে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) আবুল হাসনাত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তথ্যচিত্রে বলা হয়, চ্যানেল ওয়ানে ইভেন্ট ম্যানজেমেন্টের কাজ নিয়েছিলেন সামি। তখন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই তরুণী জানান, একদিন তাকে ডেকে নিয়ে এক রাজনৈতিক নেতার কাছে যেতে বলেন সামি। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে শাসানো হয়। পরে তিনি ভয়ে মিডিয়ায় কাজ করাই ছেড়ে দেন। এমন আরও অনেক তরুণীকে সামি বিপদে ফেলেছে। তথ্যচিত্রে বলা হয়, সর্বশেষ হাঙ্গেরীতে পালিয়ে যাওয়ার আগে মিথ্যা পরিচয়ে একজন সেনা কর্মকর্তার মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। পরে শ্বশুরের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে বিদেশে চলে যান। সেখানে ‘রেড জোনে’ সব টাকা ওড়ান। আবারও যখন তার অর্থের প্রয়োজন পড়ে, তখন পাশে এসে দাঁড়ান আল জাজিরার তথাকথিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ও প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভিত্তিহীন আজগুবি বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here