বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যে কারা?

0
33

আমরা আমাদের অসামান্য কৃতিত্বের অধিকারী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হারিয়েছি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়; এই ক্ষতি অপূরণীয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কোনো দেশেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা কোনো বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত এই জাতীয় ঘটনাগুলোর সফল তদন্ত সম্ভব হয় না। তাই চরম দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করার সুযোগ সীমিত। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে আমরা একটি ধারণা অবশ্যই পেতে পারি। ঘটনাটি ঘটেছিল আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের অল্প দিনের মধ্যেই। ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের মাত্র ২২ দিনের মাথায় সংগঠিত হয় বিডিআর হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসে সরকার নিজেদেরই তখনো ঠিকমতো গুছিয়ে তুলতে পারেনি। তাই এই বিদ্রোহের সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে বিএনপি-জামাতের নানাবিধ মুখরোচক গল্প ও মিথ্যাচারেই এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিএনপিজামাতের অপপ্রচার:

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে প্রচলিত অপপ্রচার হচ্ছে- আওয়ামী লীগের ইন্ধনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এই ঘটনার জন্য দায়ী। এর মাধ্যমে ভারত ২০০১ সালে রৌমারী সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফের সংঘর্ষে শতাধিক বিএসএফ সদস্য হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছে। বিএনপি-জামায়া ভারত ও ইসরাইলকে ইঙ্গিত করে বক্তব্যও দিয়েছে। জামাত নেতা মুজাহিদ বলেছিলেন, ‘ভারতের চক্রান্তে একাধিক পত্রিকা ও এনজিও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী।’ বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রচার মাধ্যমে এখনও একই অপপ্রচার চলে।

এই অপপ্রচারের জবাবে একটি উদাহরণই যথেষ্ট। ২০০১ সালে রৌমারীর ঘটনার সময় বিডিআর প্রধান ছিলেন জামায়াত ঘরানার ফজলুর রহমান। বিডিআর বিদ্রোহের সময় তেহরান রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিডিআর-সদস্যদের দাবি যুক্তিসঙ্গত উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। পরে একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিছুটা সুর পরিবর্তন করলেও, বিডিআর বিদ্রোহীদের পক্ষেই মতামত প্রকাশ করেন ফজলুর রহমান।

প্রতিশোধ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কারা করে?

বিএনপির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ও হাজার হাজার সেনার রক্ত ঝরিয়ে। তারা এতটাই প্রতিশোধ পরায়ন যে, ১৯৯৬ সালে শুধু জনতার মঞ্চে যাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছে ও মামলা দিয়েছে। অথচ ২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে বিএনপি-জামাত ঘরানার একজন কর্মকর্তাকেও আওয়ামী লীগ বরখাস্ত করেনি।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, সেনাবাহিনীর ওপর কাদের ক্ষোভ থাকতে পারে?

আওয়ামী লীগ হত্যায় বিশ্বাস করলে এবং প্রয়োজন মনে করলে, গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমীর জীবিত থাকার কথা নয়। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা থেকে শুরু করে কিবরিয়া হত্যা বা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সব ষড়যন্ত্রেই উঠে এসেছে বিএনপির নাম।

সেনাবাহিনীর প্রতি ক্ষোভ:

বিএনপি আমাদের সেনাবাহিনীকে আজ্ঞাবহ হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। ২০০৬ সালে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে। ৯ জনকে ডিঙিয়ে মইন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল। সেই মইন আহমেদ ২০০৭-এ বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার আহবান জানান। বিএনপি সরকারের দুর্নীতি, নৈরাজ্য, অরাজকতা ও স্বেচ্ছাচারের ফলশ্রুতিতে ১/১১ এ ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয়। ঝড় বয়ে যায় তারেক-কোকোর ওপরও। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা, তারেক ও বাবরের সম্পৃক্ততার কথা বলেছিলেন ডিজিএফআই প্রধান মে. জে. সাদিক হাসান রুমী। হামলাকারী তাজউদ্দিনকে পাকিস্তান যেতে সহায়তার জন্য খালেদা নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই মর্মে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন মে. জে. রুমী।

পরবর্তীতে, সুষ্ঠু নির্বাচনে অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখার কারণে আওয়ামী লীগ ল্যান্ডমার্ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সুতরাং সেনাবাহিনীর প্রতি বিএনপি-জামাতের ক্ষোভ থাকার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।

যারা নিহত হয়েছেন:

খালেদা-নিজামী যখন জেএমবি ও জঙ্গিদের অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করেছিল এবং ‘বাংলা ভাই’ মিডিয়ার সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছিল, তখন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কর্নেল গুলজার তাদের গ্রেফতার করেন। কর্নেল গুলজার কর্তৃক মুফতি হান্নান, বাংলা ভাই, শায়খ রহমান, আতাউর রহমান সানিসহ শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেফতারের ঘটনা তাদের মুখে চপেটাঘাত করেছিল। মেজর জেনারেল শাকিল, কর্নেল গুলজারসহ নিহতদের মধ্যে যারা ২০০৮ এ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে কর্নেল এলাহি, কর্নেল মোয়াজ্জেম,দেশের প্রথম প্যারা-কমান্ডো কর্নেল এমদাদ, কর্নেল ইনসাত, কর্নেল লতিফুর রহমান, কর্নেল নকিবুর রহমান, কর্নেল ইমাম শাখাওয়াত, লে. কর্নেল রবি রহমান, কর্নেল এহসান, মেজর মাসুম, মেজর রফিক, মেজর খালিদ ও মেজর মাহবুব অন্যতম। এইচএম এরশাদের ভাগ্নে ছাড়াও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন আইজিপি নুর মোহাম্মদের জামাতা ক্যাপ্টেন মাজহারুল হায়দার।

কী ঘটেছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি?

বিদ্রোহের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, এনিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশিত হয়েছে। অনেক পত্রিকায় ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে বাক-বিতণ্ডা হওয়ার কথাও প্রচারিত হয়েছে। মূলত এই ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত। বিদ্রোহের পরপর দেয়াল টপকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন মেজর নাজমুল। ইত্তেফাকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল  আহমেদের সঙ্গে কোনো সৈনিকের বাক-বিতণ্ডা হয়নি। দরবার শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। বিডিআর জাওয়ানরা একে অপরকে  বলতে থাকে- অফিসারদের ধর।……  ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ ছিল। তবে তা এতোটা ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার মতো ছিল না।’

বিডিআর প্রধানের বক্তব্য:

বিডিআর ডিজি শাকিল আহমেদ ২২ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষ্যে চ্যানেল আই এর এক্সক্লুসিভ টকশো অনুষ্ঠানে বিডিআর সৈনিকদের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘বিডিআরের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ‘২৫ ফেব্রুয়ারি ৯টা ১ মিনিটে বিডিআর ডিজি শাকিল আহমেদ দরবার হলে বক্তব্যে বলেন, ‘গতকাল বিডিআর সপ্তাহের প্যারেড ভালো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেছেন। ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ থাকতে পারে। কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান আমি তুলে ধরছি। সরকারের কাছ থেকে আমরা ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছি। কীভাবে টাকা খরচ হয়েছে এবং কী আছে তার বিবরণ দিচ্ছি……। বলার অপেক্ষা রাখে না, স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই অস্থিতিশীল করা হয়েছে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতে।

বিডিআর বিদ্রোহ পূর্ববর্তী কয়েকদিনের সংবাদ শিরোনামগুলো কেমন ছিল:

  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের মামলার মূল আসামিদের নাম বেরিয়ে আসছে।
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যুদ্ধাপরাধীদেরবিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে আলোচনা।
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান।
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : জঙ্গি দমনে সরকারের প্যাকেজ কর্মসূচি।
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : মুজাহিদ-বাবরের বিদেশ যাওয়া হলো না।
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ :যেকোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে :প্রধানমন্ত্রী।
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ (সমকাল) : রাজধানীর চারদিকে জঙ্গি আস্তানা।
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : গাজীপুরে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের বাড়িতে জঙ্গিদের আস্তানা।
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে আবারও নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।

সংসদ বয়কট করা বিএনপি ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে ফিরে যায়। কিন্তু ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন, সেই সংবাদ অন্তত কোনো পত্রিকা বা মিডিয়ায় পাওয়া যায়নি।

** উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময়ও একইভাবে তারেক রহমানকে তিন দিন মিডিয়ায় দেখা যায়নি।

বিএনপিজামায়াতের অবস্থান:

  • সাদেক খান এবং সাবেক ডিজি ফজলুর রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া প্রথম দিকে বিডিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
  • সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী শহীদ আর্মি অফিসারদের মৃত্যু প্রসঙ্গে ‘কিছু প্রাণী মারা গেছে’ বলে বিদ্রূপ করে।

অভিযুক্তদের পক্ষে কারা আইনি লড়াই করেছে?

১। ডিএডি তৌহিদসহ কিলিং মিশনের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে জোট সরকারের পিপি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, যিনি হাওয়া ভবনের বিশেষ সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। তৎকালীন সময়ে তার তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি পায়।

২। সাবেক ছাত্র শিবির নেতা অ্যাডভোকেট ফারুক জামায়াতের নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান কমিটির অন্যতম একজন। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে যুক্তরাজ্য থেকে জামায়াতি ব্যারিস্টার আমদানির সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি।

৩। ব্যারিস্টার রফিকের সহযোগী সাবেক শিবির নেতা অ্যাডভোকেট সুলতান।

৪। ঢাকা বারের লাইব্রেরি সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামাল।

কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত?

  • ডিএডি তৌহিদ, বিদ্রোহী সিপাহী মাঈন, সুবেদার মেজর গোফরান মল্লিকসহ আরও অনেকে, যারা সবাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই বিএনপি আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত।
  • টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার হওয়া ২২ জন বিডিআর সদস্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামি ও বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সুপারিশে চাকরি পেয়েছিল।

গোয়েন্দা সংস্থা কী আগে সংবাদ পায়নি?

এটি একটি বিবেচ্য বিষয়। সাধারণত মাঠ পর্যায়ে বড় ধরনের কোনো বিদ্রোহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে, তা অল্প মাত্রায় হলেও প্রকাশ পায়। কিন্তু জামাত-শিবির বা জঙ্গি কোনো সংগঠন যদি এ জাতীয় পরিকল্পনা করে, সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই তথ্য প্রকাশিত হয় না। জামায়াত নেতা মুজাহিদ কেন এই ঘটনার আগে বিদেশ যেতে চাচ্ছিলো, সেটিও জানা যায়নি।

সাধারণ ক্ষমা:

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা ভুল ছিল।’ এই বক্তব্যেই বোঝা যায়, তিনি কী চেয়েছিলেন। কতজনকে হত্যা করা হয়েছে বা প্রকৃত চিত্র কী ছিল, এটা জানার কোনো উপায় ছিল না। এই কারণেই কয়েকটি মিডিয়া বা সাদেক খানরা বিডিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েও, পরবর্তীতে মত পরিবর্তন করেন। সরকার ক্ষমা ঘোষণা করেছিল বিদ্রোহীদের ক্ষমা করার জন্য নয় বরং রক্তপাত এড়িয়ে আত্মসমর্পণ করানোর জন্য। অভিযুক্তদের বিচারও হয়েছে। সেসময় বল প্রয়োগ করা হলে, আরো অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারতো। অন্যদিকে সিলেট, সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। রংপুরে তিন জন সেনাকর্মকর্তাকে জিম্মি করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কৌশল অবলম্বন করলেও, সরকার বিদ্রোহে জড়িতদের শাস্তি দিতে পিছপা হয়নি। ঘটনার পরই এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। তাই সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।

মোটিভ ছাড়া কোনো অপরাধ সংগঠিত হয় না। এক্ষেত্রেও আমরা মোটিভ বিবেচনা করে বলতে পারি, বিডিআর বিদ্রোহের কারণ একটিই- তা হচ্ছে বিশাল ম্যান্ডেট পাওয়া সরকারের পতন ও দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঢেলে দেওয়া।

আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, এটি বার বার প্রমাণ হয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হত্যা করাতে পারতেন। অনেকে এই পরামর্শও দিয়েছিলেন, তিনি গ্রাহ্য করেননি। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় নিয়ে বিচারপতি বিব্রত বোধ করার পরও তিনি আইনের গতিধারার ওপর অবিচল থেকেছেন।

বিডিআর বিদ্রোহের সেই ধোঁয়াশা পরিস্থিতিতেও শেখ হাসিনা যেভাবে জাতিকে অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছেন, তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার হয়েছে। আর যাদের চক্রান্তে জাতি তার সেরা সন্তানদের হারালো, তারাও অভিশপ্ত হয়ে গেছে।

*** তথ্যসূত্র: সাপ্তাহিক ২০০০, ইত্তেফাক; নয়াদিগন্ত, জনকণ্ঠ, উইকিলিকস, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, তেহরান রেডিও।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here