রহস্যময় বৈপরীত্য: উগ্রবাদীদের সঙ্গে ড. কামাল, সমকামীদের সঙ্গে তার মেয়ে

0
20

২০১১ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণা করেন ড. কামাল হোসেন। এমনকি তিনি এই জোটের সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্বও নেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীহতে ক্ষমতা থেকে যে কোনো উপায়ে সরানো। শুধু ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্য থেকেই তিনি স্বাধীনতাবিরোধী ও বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ বিস্তারকারী এই জোটের সঙ্গে একতাবদ্ধ হন। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে হেয় করতে লাগাতার অপপ্রচার চালিয়ে যায় তার মেয়ের স্বামী ডেভিড বার্গম্যান। কিন্তু সেই বার্গম্যানের স্ত্রী ও ড. কামালের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন আবার দেশের মধ্যে সমকামী অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেন। দুটো তো পুরোপুরি বিপরীতমুখী হয়ে গেলো! তাহলে ঘটনাটা আসলে কী দাঁড়াচ্ছে?

ধর্মীয় উগ্রবাদ যেমন বিশ্বের কোনো ধর্ম এমনি কোনো রাষ্ট্রও সমর্থন করে না, তেমনি সমকামিতাকেও কোনো ধর্ম এবং আমাদের গতানুগতিক সংস্কৃতিতে অনুমোদন দেওয়া হয় না। সেখানে বাবা ড. কামাল সরাসরি উগ্রবাদীদের সঙ্গে হাত মেলান, আর মেয়ে ঠিক উল্টো পথে গিয়ে আরেক ধরনের যৌন সংষ্কৃতির উগ্রতায় ইন্ধন দেন। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে একাত্ম করার দায়িত্ব পালন করেন তাদের পরিবারের আরেক সদস্য ডেভিড বার্গম্যান, যিনি মূলত ব্লগে নিজের মতো লেখেন, সাংবাদিকতা জানেন না কিন্তু বিদেশি এজেন্ট হিসেবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি বাংলাদেশের দুটি সংবাদ মাধ্যম থেকেও নৈতিকস্খলজনিক কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন।

ডেভিড বার্গম্যান বিডিনিউজে অনুবাদ হিসেবে চাকরি করতেন অথচ বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে অফিসকে না জানিয়ে অনেক মানুষের সাক্ষাৎকার নেন। কিন্তু সেসব সংবাদ অফিসে জমা দেননি। পরে বিডিনিউজের সম্পাদক সাক্ষাৎকারদাতাদের কাছ থেকেই এসব তথ্য জানতে পারেন। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ডেভিড বার্গম্যানকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করে লেখালেখির কারণে আদালতেও তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশম ছেড়ে চলে যান তিনি। এরপর লিপ্ত হন বাংলাদেশ বিরোধী চক্রে। সাদা চামড়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশ সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এই বার্গম্যান।

বার্গম্যানের এসব নৈতিক অবক্ষয় ও বিকৃত কর্মকাণ্ড নিয়ে তা শ্বশুর ড. কামাল হোসেন বা তার স্ত্রী ব্যারিস্টার সারা হোসেন কিন্তু কখনো কোনো কথা বলেননি। অথচ দেশের অন্য কারো পান থেকে চুন খসলেই সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে যান তিনি। তার জামাই যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী-পুলিশবাহিনী-আইন-আদালত সবকিছু নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নোংরা খেলা খেলে যাচ্ছে; এটা কী ড. কামালের সঙ্গে থাকা স্বাধীনতাবিেরাধী বিএনপি-জামায়াত জোটের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নয়? অবশ্যই তাই। তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে বিএনপি-জামায়াতের লন্ডনের এক বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন তিনি। অপরদিকে ড. কামালের মেয়ে আবার দেশের প্রথম গে বা সমকামি পত্রিকা রূপবানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিশ্বের দরবারে নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করেন। অবাক করার মতো বৈপরীত্য, বাবা উগ্রবাদীদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করেন, মেয়ে সমকামিতার পক্ষে সোচ্চার অবস্থান নেন, আবার জামাই বার্গম্যান দুই পক্ষের হয়েই ডলার ম্যানেজ করেন। দিন শেষে তাদের কাছে ডলার ফ্যাক্ট, আর আপনার আর আমার মতো সাধারণ মানুষরা বসে থেকে তাদের দেওয়া ধোঁকা খেতে অভ্যস্ত। এই দেশবিরোধী ও সংস্কৃতিবিরোধী ব্যবসায়ী চক্র ও বিদেশী এজেন্টদের থেকে সতর্ক থাকুন।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here