Home Uncategorized ডেভিড বার্গম্যান: সাংবাদিক নয়, দলীয় মুখপাত্র

ডেভিড বার্গম্যান: সাংবাদিক নয়, দলীয় মুখপাত্র

0
104

ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ত্যাগ করেছে প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু এখনো তাদের প্রেতাত্মারা ছাড়েনি আমাদের পিছু। এর জলজ্যান্ত প্রমাণ হলো ডেভিড বার্গম্যান।

ডেভিড বার্গম্যান বিয়ে করেছেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ কামাল হোসেনের মেয়ে সারা হোসাইনকে। সম্প্রতি সময়ে ব্যক্তিগত কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার বিরোধ বেড়েছে। নিজ কর্ম জীবনে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু না করলেও সাদা চামড়ার কারণে এবং শ্বশুরের প্রভাব খাঁটিয়ে ইতোমধ্যে ডেভিড বার্গম্যান ডেইলি স্টার, বিডি নিউজ ২৪ কম এবং নিউ এজ সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রথমসারির ইংরেজি গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

ভারতের ভোপাল শহরে পরিবেশবাদী আন্দোলনকারী হিসেবে প্রথম কিছুটা আলোচনায় আসতে সমর্থন হন ডেভিড বার্গম্যান।

সারা হোসাইনকে বিয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে তার কর্ম জীবনের ব্যাপ্তি শুরু। কিন্তু সর্বদাই তাকে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাতে, দলটি নিয়ে সকল নেতিবাচক বিষয় তৈরি করে প্রচার করার দায়িত্ব নেন তিনি।

বিএনপি জামাতজোট জনগণের ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর এই জোটের রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন বার্গম্যান। সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে তিনটি পয়েন্টে চুক্তি করেছেন এই বার্গম্যান। এর মধ্যে প্রথমটি হলো আওয়ামী লীগ নিয়ে কুৎসা রটানো। দ্বিতীয়টি হলো বিএনপি-জামায়াতকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে বিশ্বস্ত করে তোলা। তৃতীয়টি হলো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে হেয় করা।

জন্মসূত্রে ব্রিটিশ বলেই তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক হিসেবে বার্গম্যান ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যাত হলেও মিডিয়ায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে সে বাংলাদেশে বসবাস না করা প্রথম ‘বাংলাদেশ প্রতিনিধি’ হয়ে যান এবং নিজেকে বাংলাদেশ বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক হিসেবে ঘোষণা করেন। পশ্চিমা মিডিয়ায় প্রত্যাখ্যাত এই সাংবাদিক কাতার ভিত্তিক সরকারি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় নিজের লেখা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্ব মিডিয়ায় আল জাজিরার ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। কারণ তাদের সাংবাদিক দলে বিভিন্ন স্থান থেকে বিতর্ক সাংবাদিকেরা বিভিন্ন সময় যোগ দিয়েছেন।

মূলত আওয়ামী লীগ সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্য নিয়েই বরাবর কাজ করে গেছেন ডেভিড বার্গম্যান। ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স ম্যান’ নামের প্রতিবেদনটিও একই কারণে তৈরি করিয়েছেন তিনি। ২০২০ সালে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারা বার্গম্যান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করেছে নিজেকে আলোচনায় আনার জন্য। আর এ জন্য বিপুল অর্থ খরচ করে সে আল জাজিরার মাধ্যমে তথাকথিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি বানিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে তার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে সিনিয়র এক আইনজীবী। এ নিয়ে বাংলাদেশ বিষয়ক পর্যবেক্ষক সুখরঞ্জন দাসগুপ বলেন, ‘আল জাজিরার তাকে বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিলেও আসলে সে তা নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে বাংলাদেশের আদালতে তলব করা হয়েছিল।

যখন বিশ্ব জুড়ে সাংবাদিকেরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করছে তখন নিশ্চিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য বার্গম্যান বারবার নেতিবাচক সংবাদগুলোকে বেছে নিচ্ছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

গত বছর শক্তিশালী একটি গোষ্ঠী তাকে ‘মিডিয়ায় আক্রমণাত্মক অপারেশন’ চালাতে নিয়োগ প্রদান করেছে। এর মূল লক্ষ্য বিভিন্ন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে বাংলাদেশের মানুষকে অস্থিতিশীল করে তোলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো।

এই নিয়োগের পরপর জন্ম নেয় নেত্রনিউজ। এই প্রতিষ্ঠান তার সৃষ্টি থেকেই বাংলাদেশের একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি ‘হোয়াইটবোর্ড’ নামের জার্নাল।

এভাবে একের পর এক অপরাধ করার পরও সে পার পেয়ে যাচ্ছে। আর তার একমাত্র কারণ তিনি ব্রিটিশ নাগরিক! যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কোন ব্যবস্থা নেয় সম্ভব হচ্ছে না।

comments

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here