পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র পরিকল্পনায় খুন করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের

0
8

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএস আই। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির, টার্গেট কিলিংয়ে নেমেছে।

ধারবাহিতভাবে খুন করা হচ্ছে সারাদেশের আইএসআই প্রণোদিত নির্বাচনে অরাজগতার কর্মসূচী হিসেবে ছাত্রলীগ যুবলীগ, আওয়ামী লীগে নেতাদের তালিকা তৈরি করে গুপ্ত আক্রমণের মাধ্যমে কুপিয়ে হত্যার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা মতে হত্যা করা হয়েছে বনানীর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা রাকীব ও নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইসহাক হোসেন, পাবনায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ইয়াকুব, নোয়াখালীর যুবলীগ নেতা হানিফ(২৪) কে হত্যা করা হয়। ৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে গ্রেফতারকৃত সিলেট মহানগর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য নজরুল ইসলাম এক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যদিয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারফত জানা গেছে। একই তথ্য দিয়েছে নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতা হানিফ হত্যার অভিযোগে আটক সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল,চরজব্বার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, এওজবালিয়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহানের দুই ভাই নাছির উদ্দিন, মহিউদ্দিন এবং বিএনপি কর্মী নুরুজ্জামান তাদের প্রাথমিক জবানবন্দী দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, আইএসআইর অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় বিএনপির তত্ত্বাবধানে শিবিরের কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় তৃণমূলের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অনান্য সহযোগী সংগঠনের জনপ্রিয় নেতাদের ওপর লাগাতার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গোপনে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরির মতো তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। সম্প্রতি আইএসআই এজেন্ট মেহমুদের সাথে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশারফের ফোনালাপ ফাঁস হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

হামলার মাধ্যমে আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়া এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারলেই ভোটে কারচুপি করে অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসতে ঐক্যফ্রন্টকে সহযোগিতা করা যাবে বলে-ই মনে করছে পরিকল্পনাকারীরা। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে শিবিরের চিহ্নিত নেতারা গা ঢাকা
দেয়ার বিষয় চোখে পড়ার মতো। বিগত সময়ে তাদের কোন রাজনৈতিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নেতারা শিবিরের বিভিন্ন গোপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়ে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠছে। নির্বাচনে এসব প্রশিক্ষিত শিবির নেতারা বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও তথ্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, মূলত নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে চাপের মুখে রাখার জন্য শিবির নেতারা ছাত্রলীগকে টার্গেট করেছে। তৃণমূলের নেতাদের কাবু করতে পারলেই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ক্ষমতায় যাবার পথ সহজ হয়ে যাবে। এ নিয়ে দেশি ও বিদেশী নানা মহল চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।

হামলার তালিকায় আছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কিংবা না করা উভয় ব্যাপারেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে জামায়াত-শিবির। আর প্রস্তুতি’র পুরোটাই নাশকতা নির্ভর। শিবিরের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্র থেকে তা স্পষ্ট হওয়া যায়। আর এসব নথি-পত্রে উঠে এসেছে শিবিরের নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা পরিকল্পনা। আগে
মসজিদ, মেস কিংবা গোপন আস্তানায় তারা সংগঠিত হলেও এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে ব্যবহার করছে টেলিগ্রামসহ নানা ধরণের অ্যাপস। এসব অ্যাপে নির্দেশনা আসছে বিভিন্ন দেশের এজেন্টদের কাছে থেকে। ওই অ্যাপসগুলোতে জেলাভিত্তিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সংস্কৃতিকর্মী, ব্লগার ও অনলাইন আওয়ামী এক্টিভিস্টদের ঠিকানা ফোন নাম্বার ও যাতায়াতের স্থানের নাম রয়েছেন।

আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তালেবান। লণ্ডন মালেয়েশিয়া, তুরস্কসহ নানা দেশ থেকে আসছে এদের অর্থায়ন। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবি, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে আসা এসব টাকা ব্যয় হচ্ছে গুপ্তহত্যাসহ চোরাগুপ্তা হামলার প্রশিক্ষণে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here