প্রচারণার লন্ডনী কৌশল!

0
7

নির্বাচনী প্রচারণায় ‘হামলা’ কৌশল নিয়েছে বিএনপি। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও এ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে চুয়াডাঙ্গা এবং মুন্সিগঞ্জেও বিএনপি প্রার্থীদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষ একটু বিরক্ত হয়েই প্রশ্ন তুলছে কেন এই ঘটনা ঘটাচ্ছে আওয়ামী লীগ?

বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের গাড়ি বহরের হামলার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে এসবে কিছু একই বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। যেমন:

১. গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে অতর্কিত। সংঘবদ্ধভাবে নয়।

২. কিছু বিক্ষুব্ধ মানুষ হঠাৎ ই এসে এলোপাথাড়ি ভাবে গাড়ি বহরে হামলা করেই চলে গেছে।

৩. হামলার ঘটনায় কোনো পরিচিত দলীয় কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। কোন ঘটনাতেই আক্রমণকারীদের দলীয় পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

৪. প্রত্যেক ঘটনার পর আওয়ামী লীগকে ঘটনার জন্য দায়ী করে বিএনপি তাৎক্ষণিক বিবৃতি দিয়েছে।

৫. প্রতিটি ঘটনাতেই বিএনপির মূল প্রার্থী সম্পূর্ণ অক্ষত ছিলেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কি জানে না যে ভোটের সময় এ ধরনের ঘটনা তাদের বিপক্ষে যাবে? আওয়ামী লীগ নিজেরা কেন নিজেদের পায়ে কুড়াল মারবে?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিটি ঘটনার পরই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ঘটনার বিব্রত এবং বিচলিত। এই ঘটনা কারা ঘটাচ্ছে, কীভাবে ঘটাচ্ছে, এ সম্পর্কে তারা কোনো কুল কিনারাই পাচ্ছে না। ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আমাদের প্রচারণায় ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ কেন এরকম হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত হবে?’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এইসব হামলাগুলো একই সূত্রে গ্রথিত। বিএনপি তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই ‘হামলা’র ঘটনাকে ব্যাবহার করছে। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি ঘটনায়, বিএনপির একটি অংশ এই হামলার সঙ্গে জড়িত। মুন্সিগঞ্জে শাহ মোয়াজ্জেমের গাড়ি বহরের হামলার পর তদন্তে দেখা যায় যে, বিএনপির একটি পক্ষ এই হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল। জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে বিএনপি এধরনের হামলা ঘটানোর জন্য নিজস্ব একটি টিম করেছে। এই টিম বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলের প্রার্থীদের গাড়ি বহর, সমাবেশস্থল, প্রচারণা কেন্দ্র, ইত্যাদিতে আক্রমণ করবে। এই আক্রমণের ফলে, বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়বে, আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে পরবে। বিএনপির নেতারাই বলছেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপির অনেক প্রার্থীর উপরই হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি কি ভাবে জানলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বলন, আমাদের কাছে খবর আছে। ‘
বিভিন্ন সূত্র বলছে এরকম হামলার পরিকল্পনা লন্ডন থেকেই এসেছে। এটাই বিএনপির কৌশল!!

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here