টার্গেট কিলিংয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা শিবিরের

0
16

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। এই মিশনের অংশ হিসেবে রয়েছে ছাত্রলীগ যুবলীগ, আওয়ামী লীগে নেতাদের তালিকা তৈরি করে গুপ্ত আক্রমণের মাধ্যমে কুপিয়ে হত্যা। এই পরিকল্পনা মতে হত্যা করা হয়েছে বনানীর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা রাকীব ও নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইসহাক হোসেনকে হত্যা করা হয়। ৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে গ্রেফতারকৃত সিলেট মহানগর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য নজরুল ইসলাম এক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারফত জানা গেছে।

সূত্র বলছে, বিএনপির তত্ত্বাবধানে শিবিরের কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় তৃণমূলের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অনান্য সহযোগী সংগঠনের জনপ্রিয় নেতাদের ওপর লাগাতার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গোপনে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরির মতো তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

হামলার মাধ্যমে আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়া এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারলেই ভোটে কারচুপি করে অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসতে ঐক্যফ্রন্টকে সহযোগিতা করা যাবে বলে-ই মনে করছে পরিকল্পনাকারীরা।

এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে শিবিরের চিহ্নিত নেতারা গা ঢাকা দেয়ার বিষয় চোখে পড়ার মতো। বিগত সময়ে তাদের কোন রাজনৈতিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নেতারা শিবিরের বিভিন্ন গোপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়ে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠছে। নির্বাচনে এসব প্রশিক্ষিত শিবির নেতারা বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও তথ্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, মূলত নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে চাপের মুখে রাখার জন্য শিবির নেতারা ছাত্রলীগকে টার্গেট করেছে। তৃণমূলের নেতাদের কাবু করতে পারলেই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ক্ষমতায় যাবার পথ সহজ হয়ে যাবে।

হামলার তালিকায় আছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কিংবা না করা উভয় ব্যাপারেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে জামায়াত-শিবির। আর প্রস্তুতি’র পুরোটাই নাশকতা নির্ভর। শিবিরের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্র থেকে তা স্পষ্ট হওয়া যায়। আর এসব নথি-পত্রে উঠে এসেছে শিবিরের নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা পরিকল্পনা। আগে মসজিদ, মেস কিংবা গোপন আস্তানায় তারা সংগঠিত হলেও এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিতে ব্যবহার করছে টেলিগ্রামসহ নানা ধরণের অ্যাপস। ওই অ্যাপসগুলোতে জেলাভিত্তিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সংস্কৃতিকর্মী, ব্লগার ও অনলাইন আওয়ামী এক্টিভিস্টরাও রয়েছেন।

আইএইচএস জেইন টেরোরিজম অ্যান্ড ইনসার্জেন্সি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তালেবান। লণ্ডন মালেয়েশিয়া, তুরস্কসহ নানা দেশ থেকে আসছে এদের অর্থায়ন। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবি, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে আসা এসব টাকা ব্যয় হচ্ছে গুপ্তহত্যাসহ চোরাগুপ্তা হামলার প্রশিক্ষণে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here