বাবার মতই ঠান্ডা মাথার খুনি তারেক রহমান

0
3

বাংলাদেশের ইাতহাসে জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি ঘৃণিত নাম। মহান ‍মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে উল্টোপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিহাসের আস্তাকুড়েই চিরকাল নাম লেখা থাকবে সুযোগ সন্ধ্যানী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখানো জেনারেল জিয়ার নাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারী এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া ব্যক্তি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্যূ এবং পাল্টা ক্যু’র মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা জেনারেল জিয়া তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদেরকে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে হত্যা করেছে। খুব ঠান্ডা মাথায় একের পর খুন করে নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে ইতিহাসের নির্দয় স্বৈরশাসক হিসেবে জিয়া নাম লিখিয়েছে।

জেনারেল জিয়ার কুকীর্তির ফিরিস্তি লিখে শেষ করা যাবে না। জিয়াউর রহমান সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিহত হলেও তার বীজ বাংলাদেশের জন্য রেখে গেছে। জিয়াউর রহমানের মতই খুব ঠান্ডা মাথার খনি এবং নির্দয় রাজনীতিক তারই পুত্র তারেক রহমান। তারেক রহমান ক্ষমতার লাইম লাইটে আসেন ২০০১ সালের নির্বাচনের পর। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের সঙ্গে জোট বেধে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ক্ষমতায় আসার পরই দেশজুড়ে শুরু হয় এক নজীরবিহীন সন্ত্রাস ও সংখ্যালঘু নির্যাতন। এই সব ঘটনার পিছনেই খালেদা জিয়ার প্রচ্ছন্ন মৌন সম্মতি এবং তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদ স্পষ্ট ছিল এখন তা প্রমাণিত।

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যতগুলো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার সবগুলোতেই তারেক রহমানের হাওয়া ভবন এবং তার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে এটা এখন দেশি-বিদেশী তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।

তারেক রহমান সম্পর্কে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে গোপন তার বার্তায় তাকে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী মনোভাবাপন্ন সম্পন্ন লোক বলে অভিহিত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ব্যক্তি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অনুমতি না দেয়ার জন্য ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে সতর্কও করা হয়েছিল।

২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির সন্ত্রাস বিরোধী জনসভাতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলা ইতিহাসেই সবচে বর্বর ও জঘন্য বলে বিবেচিত হয়। ওই হামলার লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে একযোগে হত্যা করা। মূল টার্গেট ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। কারণ তাকে হত্যা করতে পারলেই তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথ পরিস্কার হয়ে যায়। আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বাদ পূর্ণ হবে মনে করেছিল তারেক রহমান।

ওই হামলার আগে একাধিকবার তারেক রহমানের হওয়া ভবনে বৈঠক করে হামলার সাথে জড়িত জঙ্গিরা। পরে জবানবন্দিতে গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামী মুফতি হান্নান হামলার নেপথ্যের নায়কদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন কিভাবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়।

হামলার সাথে কারা কারা জড়িত সব বিস্তারিতভাবেই বলেছেন তিনি। মুফতি হান্নানের জবানবন্দি এবং গ্রেনেড হামলা মামলার অধিকতর তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে জঙ্গিরা তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে কৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছিল। তার প্রমাণ মুফতি হান্নান তার জবান বন্দিতেই দিয়ে গেছেন। এখানে মুফতি হান্নানের জবানবিন্দর কিছু অংশ তুলে ধরলেই তা স্পষ্ট হবে। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট প্রথম বৈঠক হয় তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। মুফতি হান্নানের জবানবন্দির কিছু অংশ ‘ …‌১৪ তারিখে একটা মিটিং ছিলো হাওয়া ভবনে । হাওয়া ভবনে বিভিন্ন আলোচনা হয় । ওই হাওয়া ভবনে শরীক ছিলো তারেক জিয়া , আলী আহসান মুজাহিদ সাব , হারিস চৌধুরী এবং আব্দুস সালাম পিন্টু সাব । আরো ছিলো হরকাতুল জিহাদের আমির আব্দুস সালাম সাব , শেখ ফরিদ সাব , আল মারকাজুল ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি আব্দুর রসিদ সাব । ওখানে আলোচনা হয় । তারেক জিয়া সব আলোচনা করেন , যে বর্তমানে দেশের অবস্থা খুবি খারাপ । দেশে আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনা এ দেশে অরাজকতা সৃস্টি করতেছে । দেশের ভাবমুর্তি নস্ট করতেছে । দেশকে নস্ট করে দিচ্ছে এভাবে বলে কয়ে আমাদের একটা পদক্ষেপ নেয়া দরকার । এরপর আলী আহসান মুজাহিদ সাব বললেন , আপনার কথা সত্য । এবং শুধু তাই নয় , ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করতেছে । আপনার কথাগুলা অবশ্যই সত্য । আমাদের কাজ করা দরকার । এরপর সররাস্টমন্ত্রী লুতফর রহমান বাবর সাব বললেন কথাগুলা অবশ্যই সত্য । কথাগুলা আমিও বলতাম । এখন আপনারা পরিস্কারভাবে বলেন কি পদক্ষেপ নেয়া দরকার । তিনি আবার বলেন এইখানে দুইটা পদক্ষেপ নিতে হবে । হয়তো দেশে যে অরাজকতা সুষ্টি হয়েছে তা রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক মোকাবেলা করতে হবে নয়তো তাকে এই দেশ থেকে চিরবিদায় করে দেয়া অর্থাৎ তাকে শেষ করে দেয়া । তখন এই ব্যাপারে উনি বললেন আমার মনে হয় মেজর নূর ভালো বলতে পারবেন । তখন সেখানে বঙ্গবন্ধু মামলার আসামি মেজর নূর উপস্থিত ছিলেন । তিনি বললেন , আমি জানি আপনার রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করবেন অবশ্যই । কিন্তু আমি রাজনীতি বেশি একটা জানি না তেমন । কিন্তু আমি জানি তার মোকাবেলা করতে হলে তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবে । এক , তার বাড়িতে হামলা করতে হবে । দুই , অথবা তার আসা যাওয়ার কোন পথে তাকে আক্রমণ করে মেরে ফেলতে হবে নয়তো তার কোন মিটিং এ তাকে আক্রমণ করে শেষ করে দিতে হবে । তখন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব বললেন , আমার কাছে গ্রেনেড আছে । এই গ্রেনেডও ব্যাবহার করা যেতে পারে । তখন উনি (মেজর নূর) বললেন গ্রেনেডে যদি হয় তাহলে রাস্তায় আক্রমন করা যাবে না । তাকে কোন জায়গায় অবস্থানে আক্রমন করতে হবে । এই ধরুন মিটিং এ আক্রমন করলে কামিয়াব হওয়া যাবে । তারপর উনি বললেন যে আজ সব আলোচনা শেষ না করে অন্যদিন আমরা আলোচনা শেষ করবো । পরদিন আবার একটা মিটিং ডাকে । মিটিং ডেকে ওখানে আবার আলোচনা হয় । আলোচনার পর এবার একটা সিদ্বান্তে যায় , গ্রেনেড যেহেতু আছে তো এখন শুধু এখানে আমাদের রাইফেল প্রয়োজন হবে । তারপর সিদ্বান্ত হলো গ্রেনেডই ব্যাবহার হবে । এরপর আগামী আমাদের ২১ তারিখ যারা মিটিং ডেকেছে এটা হচ্ছে পল্টনের কাছাকাছি মুক্তাঙ্গনে মিটিং এর অনুমতি দিয়েছে । এখানে বা ওখানে , তারা অফিসের সামনে চেয়েছে যেখানেই হোক পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে । তখন উনারা বললেন সরকারী পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করবে , গোয়েন্দার লোকজন আমাদের সহযোগীতা করবে । এরপর উনারা বললেন আরেকটা মিটিং ডেকে পুরা সিদ্বান্ত নেই । এরপর ৩য় মিটিং হয় । লুতফর রহমান বাবরের বাসভবন মিন্টু রোডে । সরকারী যে বাসভবন সেখানে মিটিং হয় । এখানে তারেক জিয়া ছাড়া বাকি সবাই উপস্থিত ছিলো । ‘

বাংলাদেশের ইতিহাসে নিমকহারামী এবং অকৃতজ্ঞতার একটি নাম জিয়াউর রজমান। অগণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশকে উল্টোপথে নিয়ে গিয়েছিলেন জেনারেল জিয়া। এই কাজ করতে গিয়ে তার বিরোধী পক্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন জিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন জিয়ারই কুপুত্র তারেক রহমান।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here