জামায়াত প্রশ্নে বিএনপিতে গৃহবিবাদ

0
1

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাথে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামের সম্পর্ক অনেক পুরনো। এই দল দুটির মধ্যে বোঝাপড়াটাও বেশ। এই কথা অনেকবারই দুই দলের শীর্ষ নেতারাই প্রকাশ্যে জনসভা বা আলোচনা সভাতে বলেছেন। বিএনপি-জামায়াত দুই দলই দাবি করতো এই দল দুটি একই মায়ের পেটের দুই ভাই স্বরূপ। তাই তাদের মধ্যে কখনো মনমালিন্য হতে পারে এমনটা কেউ কখনো ভাবেনি।

কিন্তু হঠাৎ এখন এমন কি হলো যাতে করে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে? গণমাধ্যমের সংবাদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই দল দুটি এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

মূলত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর এই বিরোধ সৃষ্টি হয়। এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে লন্ডন থেকে টেলিফোনে জামায়াত শীর্ষ নেতাদের অনুরোধ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। কিন্তু জামায়াত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন হঠাৎ করে বিএনপির সাথে এমন আচরণ শুরু করলো জামায়াত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে যেতে হবে একটু পিছনে। গত রমজান মাসে ভারত এবং বাংলাদেশের মিডিয়াতে একটি খবর খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ পায় আর তা হলো, ভারত সফর করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল দেশটির সমর্থন চায় আগামী নির্বাচনে। তখন ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয় যে, আগে জামায়াত-ই-ইসলামীকে ছাড়তে হবে বিএনপিকে।

ওই সফর শেষে বিএনপির কিছু নেতা জামায়াতের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলছিল। কিন্তু জামায়াত ইসলামীকে জোট থেকে সরিয়ে দিতে হবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হয়নি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। কিন্তু বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতার আচরণে ক্ষুব্দ হয় জামায়াত ইসলাম। এই নিয়েই মূলত ঢাকার বিএনপির নেতাদের সাথে জামায়াতের দূরত্ব সৃষ্টির খবর প্রকাশ হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে।

মূলত বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতার উপর রাগ করেই জাময়াত ইসলাম সিলেটে তাদের প্রার্থী সরাতে নারাজ। এই খবরকে বাংলাদেশের মিডিয়াতে বিএনপির সাথে জামায়াতের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখালেও মূলত জামায়াত ইস্যুতে কার্যত বিএনপিই এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ চায়, যেহেতু জামায়াতের কারণে দেশ-বিদেশ থেকে বিএনপির উপর চাপ অব্যাহত রয়েছে তাই তারা জামায়াতকে ছাড়তে চায়। যদিও এই সংখ্যাটা খুবই কম। কিন্তু কারাবন্দী বেগম জিয়া এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটা এখনো জামায়াত প্রশ্নে মিত্রতার নীতিতেই বিশ্বাস করেন। এই ক্ষেত্রে তারেক রহমানের মনোভাব হলো, জামায়াত-ই-ইসলামীর মত বিশ্বস্ত মিত্রকে কখনোই হাতছাড়া করা উচিত হবে না।

জামায়াতের সাথে টানাপোড়েন নিয়ে খোদ বিএনপিতেই এখন দুই মত। তাই জামায়াতের সাথে তাদের আদৌ কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সিলেট নগরীর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির যে ‘টানাপড়েন’চলছে তার সমাধান খুব দ্রুতই হবে বলে আশা করেন দলের জ্যেষ্ঠ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জামায়াতের সঙ্গে টানাপড়েনের কোনো প্রশ্নই উঠেনি বলে এই খবরকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল দুদিন আগেও উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এখন দেখার বিষয় জামায়াত প্রশ্নে খোদ বিএনপিতেই যে গৃহবিবাদ শুরু হয়েছে তার সুরাহা কিভাবে হয়। তবে এ কথা স্পষ্ট করেই বলা যায়, বিএনপি কোনভাবেই জামায়াতের মত বিশ্বস্ত মিত্রকে ছাড়বে না। এর প্রমাণ বার বার বিএনপি দিয়েছে। এবারেও বিএনপিকেই ছাড় দিয়ে হলেও জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা ধরে রাখতে হবে।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here