সারাজীবন ভারত বিরোধিতা করে এখন ভারতেরই দ্বারস্থ বিএনপি

0
4

রাজনৈতিকভাবে অপমৃত্যুর দাড়প্রান্তে থাকা বিএনপি এবার ভারতকে আঁকড়ে ধরে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতা বিরোধী ডান-বামপন্থীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা রাজনৈতিক দলের নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটি শুরু থেকেই তাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে ভারত বিরোধিতাকে হাতিয়ার করেছে, আপন করেছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানও বিএনপির প্রতি তাদের প্রতিদান দিতে ভুল করেনি। ভারতকে চাপে রাখতে পাকিস্তান দুইহাতে বিএনপির পিছনে টাকা ঢেলেছে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

বেগম খালেদা জিয়াকে ১৯৯১ সালে নির্বাচনে বিজয়ী করতে পাকিস্তান মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারও খরচ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমন কি হলো যে বিএনপি প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতার পথ থেকে সরে এসে ভারতের নৈকট্য লাভে মরিয়া হয়ে উঠেছে? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে রাজনীতির মাঠে।

বিএনপির হঠাৎ ভারত প্রীতির কারণ খুঁজতে গেলে বেশ কিছু সমীকরণ মেলাতে হবে। বিএনপির ভারত প্রীতির সমীকরণগুলো মোটামুটি এমন:
বাংলাদেশে যে ধরনের পরিবেশে মৌলবাদি শক্তির উত্থান সম্ভব হয়েছিল তা এখন আর সম্ভব না। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে প্রায় ১০ বছর। এই সময়ে দেশ থেকে মৌলবাদী গোষ্ঠীকে একেবারে নির্মূল না করতে পারলেও তাদের অস্থিস্ত নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আর বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠী না থাকাতে পাকিস্তানেরও এখানে আগের মত কাজ করার সুযোগ কমে এসেছে। পাকিস্তান মূলত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপিকে পেট্রোনাইজ করতো জামায়াত-ই- ইসলামীর মাধ্যমে। বিগত কয়েক বছরে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়েছে এবং তাদের রায়ও কার্যকর হয়েছে। তাই এখন আর চাইলেও আগের মত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের কোন কিছু করার ক্ষমতা নাই।

আর পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় পাকিস্তানের প্রতি প্রকাশ্যে অনুগত থেকে বিশ্বের কোন দেশেই রাজনৈতিক দলের মর্যাদা ধরে রাখতে পারছে না বিএনপি।
ট্রাম্প কিম বৈঠকও বিএনপিকে অনুপ্রাণিত করেছে ভারতের প্রতি ঝুঁকতে। কারণ বিশ্বের দুই বিপরীত মেরুর দেশ এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতার চরিত্রও দুই মেরুর। কিন্তু তারা ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে জুনে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ভারতকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, ট্রাম্প-কিম মিলে গেলে আমরা নই কেন?
বিএনপি উপলব্ধি করেছে যাদের হাতে ভারত বিরোধিতার অস্ত্র তুলে দিয়ে আগে তারা সফল হয়েছিল সেই তরুণ সমাজ উগ্র ভারত বিরোধিতা আর গিলছে না। বিশ্বয়ানের যুগে ভারত বিরোধী ভোটের রাজনীতির আর সুযোগ নেই।

বিএনপি ভারতের নৈকট্য লাভের জন্য উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল দিল্লীতে পাঠালেও কোন রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে সাক্ষাত করতে পারেনি। দিল্লীর মূল প্রশাসনিক স্তর সাউথ ব্লকের কারো সাথেও আলোচনার সুযোগ এখনো বিএনপির আনুষ্ঠানিকভাবে হয়নি। দিল্লী তারেক রহমানের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান পরিস্কার করতে বলেছে। ভারত এখনো বিশ্বাস করে তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানের আইএসআই এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বিএনপি তারেক রহমান সম্পর্কে তাদের দলের অবস্থা পরিস্কার করতে না পারলে দিল্লীর মন পাওয়া এখনো বহুদূর।

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here