অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির উপর বিএনপির লোকজনের হামলা

0
4

সুপ্রিম কোর্টের সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ওপর লন্ডনে ফের হামলা করা হয়েছে। লন্ডনে বিচারপতি মানিকের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন আহত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মেয়ে। হামলার সময় বিচারপতির মেয়েও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি ফেসবুকে এ মন্তব্য করেন।বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, এই ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত।

ফেসবুকে বিচারপতির মেয়ে লিখেছেন, হঠাৎ একজন তার বাবার কাছে এসে জানতে চান তিনিই শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কি না। জবাব না দিলে সে মারধর শুরু করে। এরপর আরও কয়েকজন এসে হামলায় যোগ দেয় ও বিচারপতি শামসুদ্দিনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। হামলাকারীদের লাথি-ঘুষিতে এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন চৌধুরী রাস্তায় পড়ে যান।

বিচারপতি শামসুদ্দিনের মেয়ে আরও লিখেছেন, হামলাকারীদের পরিচয় জানা না গেলেও তার ধারণা, তারা ‘বিএনপির লোক’। এই গাট্টাগোট্টা বখাটেরা আমার বাবার চেহারাও চেনে না। কোনো সন্দেহ নেই, বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্দেশনা পেয়েই তারা এসেছে।

স্ট্যাটাসের শুরুতে বিচারিপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে লিখেছেন, “লন্ডনে নেমেই আমরা হামলার শিকার হলাম। যে শহরে আরামে বসবাস করছেন তারেক জিয়া, তার মা বিএনপি প্রধানও এখন এই শহরেই অবস্থান করছেন।”

উল্লেখ্য, বুধবার রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেমে বাসায় যাওয়ার আগে বেথনাল গ্রিনের ইয়র্ক হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজার একটি মণ্ডপে যান বিচারপতি শামসুদ্দিন। এরপর ইয়র্ক হল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে হামলার শিকার হন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তার মেয়েও ছিলেন।

হামলার ঘটনার পরপরই দৌড়ে ইয়র্ক হলে ফিরে আসেন বিচারপতি শামসুদ্দিন। এ সময় তাকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন বাংলাদেশের এই সাবেক বিচারক। এ সময় তিনি নিজের বিস্তারিত পরিচয় পুলিশের সামনে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউসুফ আলি জননেতাকে বলেন, “ খালেদা দেশে থেকেও দেশের মাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে এখন বিদেশে বসে নীল নকশা দিচ্ছে। আমি এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট না যে কি করে বিদেশের মাটিতে এই রূপ হামলা হয়। মনে হয় তা খালেদার পেটুয়াবাহিনীর কাজ কারন রাজনৈতিক বেষ্টনী ছাড়া বিদেশের মাটিতে এই ধরণের হামলা সংঘটিত হওয়া সম্ভব না। লন্ডনে তো এখন দেখা যাচ্ছে খালেদার সন্ত্রাসের কারখানা বানাচ্ছে। এই হামলার সাথে জড়িতদের যত দ্রুত সম্ভব খোঁজ করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা।”

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “খালেদার বিদেশের বসে সেই খানে কর্মসূচী দেয়ার বিষয়টি রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা আনতে পারে। ধারনা করা হচ্ছে  বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। কারন বহু বছর ধরে তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করায় এবং সম্প্রতি তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়াও লন্ডনে যাওয়া এবং সেখানেই সমাবেশ বা বড় ধরণের পরিকল্পনা করাতে তাঁদের নামের পাশে ‘লন্ডন বিএনপি’ এবং দেশের মধ্যে যারা আগামী দিনে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিবেন তাঁরাই বাংলাদেশ জাতীয়িতাবাদী দল বা বিএনপি নামে রাজনীতির মাঠে দেখা যেতে পারে।”

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here